auth_token আর ct0: একটা বলে আপনি কে, অন্যটা বলে আপনি পারবেন
টোকেন লেখা তালিকার বেশিরভাগে আসলে একটাই অংশ থাকে। এই সাইটের ২৫৭টা তালিকায় auth_token লেখা আছে, কিন্তু ct0 লেখা আছে মাত্র ১২৭টায়।
Sarah Johnsonকোনো একটা সরঞ্জাম বসাতে গিয়ে যখন ব্যবহারকারীর নাম আর পাসওয়ার্ডের বদলে auth_token আর ct0 নামে দুটো লেখা চাওয়া হয়, তখন প্রথমেই মনে হয় এটা বোধহয় কোনো ফাঁকির পথ।
এটা ফাঁকির পথ নয়। আপনার ব্রাউজার প্রতিদিন ঠিক এই দুটো জিনিস ব্যবহার করেই আপনাকে বারবার পাসওয়ার্ড জিজ্ঞেস করা থেকে বাঁচায়। শুধু আপনি ওগুলো কখনো চোখে দেখেননি।
একটা কথা আগে বলে রাখি। বাংলায় এই বিষয়ে কার্যত কিছুই খোঁজা হয় না, টুইটার নিয়ে বাংলা অক্ষরে যা খোঁজা হয় তার বেশিরভাগই হলো এটা কী, কে বানিয়েছিল আর এখন এর নাম কী। তাই এখানে ইংরেজি শব্দগুলো ইংরেজিতেই রাখা হয়েছে, কারণ আপনি ওগুলো ওই চেহারাতেই দেখবেন, বাংলায় কখনো নয়।
দুটো লেখা, দুটো আলাদা প্রশ্নের উত্তর
auth_token উত্তর দেয় একটা প্রশ্নের, আপনি কে। এটা হাতে থাকলে এক্স ধরে নেয় এই অনুরোধটা ওই নির্দিষ্ট আইডির হয়ে আসছে। এটাই পরিচয়।
ct0 উত্তর দেয় অন্য একটা প্রশ্নের, এই অনুরোধটা কি সত্যিই আপনার পাতা থেকে এসেছে। এটা পরিচয় নয়, এটা একটা প্রমাণ যে অনুরোধটা কোনো বাইরের সাইট আপনার অজান্তে পাঠায়নি।
এই দ্বিতীয় জিনিসটা কেন লাগে, সেটা একটা উদাহরণে পরিষ্কার হয়। ধরুন আপনি এক্সে ঢোকা অবস্থায় অন্য একটা সাইটে গেলেন, আর সেই সাইটটা লুকিয়ে এক্সের কাছে একটা অনুরোধ পাঠাল, এই লোকের হয়ে একটা পোস্ট করে দাও। আপনার auth_token তো ব্রাউজারেই আছে, তাই পরিচয়ে আটকাবে না। এখানেই ct0 কাজে লাগে, কারণ ওই বাইরের সাইটটা ct0 জানে না।
একটা ছাড়া অন্যটা দিয়ে কী হয় না
এটাই সবচেয়ে দরকারি অংশ, আর এটাই সবচেয়ে কম বলা হয়।
শুধু auth_token দিয়ে অনেক কিছু পড়া যায়। কে কী লিখেছে দেখা যায়, নিজের বার্তা দেখা যায়, তালিকা টানা যায়। অর্থাৎ দেখার কাজগুলো চলে।
কিন্তু লেখার কাজগুলো চলে না। পোস্ট করা, কাউকে অনুসরণ করা, নাম বদলানো, বার্তা পাঠানো, এই ধরনের যা কিছুতে আইডির অবস্থা বদলায়, সেসবের জন্য ct0 লাগবেই।
উল্টোদিকে শুধু ct0 দিয়ে কিছুই হয় না, কারণ ওটার সঙ্গে কোনো পরিচয় জোড়া নেই। ওটা একা একটা তালা, যার সঙ্গে কোনো দরজা নেই।
তাই যদি কোনো সরঞ্জাম শুধু auth_token চায় আর বলে পোস্ট করে দেবে, তাহলে হয় সেটা ভেতরে নিজেই ct0 জোগাড় করে নিচ্ছে, নয়তো সেটা কাজ করবে না। জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো।
তালিকায় টোকেন লেখা থাকলে আসলে কতটা পাচ্ছেন
এবার এই সাইটের নিজের ঘরটা গুনে দেখা যাক, কারণ এখানে একটা ফাঁক আছে যেটা কেনার আগে জানা দরকার।
এক্স বা টুইটারের আইডির ঘরে এই মুহূর্তে নয়শোর বেশি তালিকা আছে। তার মধ্যে auth_token শব্দটা লেখা আছে আড়াইশোর কিছু বেশি তালিকায়। শুনতে ভালোই লাগে।
কিন্তু ct0 লেখা আছে মাত্র একশো সাতাশটায়। আর যেখানে দুটোই একসঙ্গে লেখা আছে, তেমন তালিকা ছিয়ানব্বইটা।
অর্থাৎ যে তালিকাগুলো টোকেনের কথা বলছে, তার মধ্যে একশো একষট্টিটায় শুধু পরিচয়ের অংশটার নাম আছে, কাজ করার অংশটার নাম নেই। প্রতি পাঁচটার মধ্যে তিনটের বেশি।
এর মানে এই নয় যে ওই তালিকাগুলো মিথ্যে বলছে। অনেক বিক্রেতা ct0 আলাদা করে লেখেন না কারণ ওটা তাঁদের কাছে স্বাভাবিক, আবার অনেক ক্ষেত্রে ct0 এমনিতেই ব্রাউজারে তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি কোনো স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামে বসানোর জন্য কিনছেন, তাহলে পার্থক্যটা আপনার কাজে লাগবে, আর কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়াটা তখন একটা সত্যিকারের প্রশ্ন, অকারণ খুঁতখুঁতানি নয়।
এই পথের আসল দাম: ফেরানো যায় না আলাদা করে
পাসওয়ার্ড আর টোকেনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফারাকটা গতি নয়, ফারাকটা হলো বাতিল করার ক্ষমতা।
একটা পাসওয়ার্ড কারও হাতে পড়লে আপনি সেটা বদলে দেন, আর ব্যাপারটা ওখানেই শেষ। কিন্তু একটা auth_token কারও হাতে পড়লে আপনি শুধু ওই একটা লেখাকে আলাদা করে মেরে ফেলতে পারেন না। এক্সে এমন কোনো পাতা নেই যেখানে গিয়ে বলা যায় এই নির্দিষ্ট লেখাটা আর চলবে না।
যা করা যায় সেটা হলো সব সেশন একসঙ্গে বাতিল করা, যাতে আপনার নিজেরগুলোও মরে যায়। অর্থাৎ ব্যবস্থাটা সব অথবা কিছুই নয়।
এটা মনে রাখলে একটা অভ্যাস আপনাআপনি তৈরি হয়। যে লেখাটা আলাদা করে ফেরানো যায় না, সেটা এমন কোথাও রাখবেন না যেখান থেকে সেটা বেরিয়ে যেতে পারে। স্ক্রিনশট নয়, চ্যাটে পাঠানো নয়, আর মেঘে জমা হওয়া কোনো সাধারণ লেখার ফাইলে নয়।
হাতে থাকলে যেভাবে রাখবেন
কয়েকটা সোজা নিয়ম, আর এগুলোর প্রতিটার পেছনে একটা নির্দিষ্ট কারণ আছে।
- যে সরঞ্জামে বসাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে আগে জেনে নিন। কারণ আপনি ওটাকে পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন না, আপনি ওটাকে ভেতরে ঢোকা একটা দরজা দিচ্ছেন।
- যদি বিকল্প থাকে, সরকারি পথটা বেছে নিন। এক্সের নিজের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যে সরঞ্জামগুলো কাজ করে, সেগুলোর অনুমতি আলাদা করে তুলে নেওয়া যায়। কাঁচা লেখা বসানোর ক্ষেত্রে সেটা যায় না।
- ছবি তুলে রাখবেন না। স্ক্রিনশট গ্যালারিতে যায়, গ্যালারি অনেক অ্যাপ পড়তে পারে, আর অনেকের গ্যালারি নিজে থেকেই মেঘে জমা হয়।
- সরঞ্জামটার উপর বিশ্বাস উঠে গেলে শুধু ট্যাব বন্ধ করে দেবেন না। ট্যাব বন্ধ করলে লেখাটা মরে না, ওটা তখনও চালু থাকে।
কেনা আইডির সঙ্গে টোকেন এলে
এখানে ধরে নেওয়ার একটাই সঠিক অনুমান আছে, আর সেটা হলো এই লেখাটা আপনার আগে অন্তত আরেকজন দেখেছেন।
এটা বিক্রেতাকে অবিশ্বাস করা নয়, এটা কেবল বাস্তব। লেখাটা তৈরি হয়েছে কারও ব্রাউজারে, সেখান থেকে কপি হয়েছে, কোথাও জমা হয়েছে, তারপর আপনার কাছে এসেছে। এই পথের প্রতিটা ধাপে ওটার একটা করে অনুলিপি থেকে যেতে পারে।
তাই টোকেনটাকে চূড়ান্ত জিনিস ভাববেন না, ওটাকে দরজা খোলার প্রথম ধাক্কা ভাবুন। ভেতরে ঢুকে আইডিটা নিজের নামে গুছিয়ে নেওয়ার পরে ওই পুরোনো লেখাটার আর কোনো মূল্য থাকা উচিত নয়।
সময়ের হিসাবটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এই সাইটের প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক্সের ঘরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আধা দিন, আর একশোর বেশি তালিকায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট। তাই টোকেনটা সত্যিই কাজ করছে কি না, আর শুধু দেখার কাজ নাকি লেখার কাজও চলছে, সেটা হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে নিন। পরে দেখব বলে রাখলে বলার সময়টাই আর থাকে না।
