প্রোফাইলে অন্য দেশের নাম দেখাচ্ছে, ওটা আপনি লেখেননি
এক্সের প্রোফাইলে দেখানো দেশের নামটা কোনো সেটিং নয়, ওটা আপনার সাম্প্রতিক অভ্যাসের একটা ছাপ। আর সেই কারণেই কেনা আইডিতে ওটা বদলে যায়।
Sarah Johnsonপ্রোফাইলে নিজের নামের নিচে হঠাৎ একটা দেশের নাম দেখতে পেলেন, যে দেশে আপনি কখনো যাননি। কোথাও কিছু লেখেননি, তবু ওটা আছে।
এখানে ভয়ের কিছু নেই আর কিছু ভাঙেওনি। ওই নামটা কোনো সেটিং নয় যেটা আপনি ভরে দিয়েছেন। ওটা একটা হিসাব, আর হিসাবটা আপনার সাম্প্রতিক অভ্যাস থেকে তৈরি হয়।
একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি। বাংলায় আইপি এড্রেস লিখে যা খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই স্কুল কলেজের পাঠ্যবইয়ের প্রশ্ন, কত বিটের, কত প্রকার, ডোমেইন নেমের সঙ্গে পার্থক্য। তাই এই লেখাটা ওই কারিগরি দিকটা নিয়ে নয়। এটা আপনার প্রোফাইলে যে নামটা মানুষ দেখছে, সেটা নিয়ে।
নামটা কোথা থেকে আসে
এক্স এই নামটা ঠিক করে আপনার আচরণ থেকে, নিবন্ধনের সময় দেওয়া কোনো তথ্য থেকে নয়।
দুটো জিনিস এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এক, আপনি সাম্প্রতিক সময়ে কোন দেশের সংযোগ থেকে ঢুকেছেন। দুই, আপনার অ্যাপটা কোন দেশের দোকান থেকে নামানো হয়েছিল।
ঠিক কত দিনের হিসাব ধরা হয়, সেটা এখানে বলা হচ্ছে না, কারণ এক্স সেটা প্রকাশ করে না আর বাইরে থেকে যাচাই করার উপায় নেই। যেসব জায়গায় নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখা থাকে, সেগুলো অনুমান। যেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হলো হিসাবটা সাম্প্রতিক অভ্যাসের, আর তাই অভ্যাস বদলালে নামটাও বদলায়।
নিবন্ধনের সময় আইডিটা কোন দেশে তৈরি হয়েছিল, সেটা আলাদাভাবে জমা থাকে, কিন্তু ওটা প্রোফাইলে দেখানো হয় না আর অন্য ব্যবহারকারীরা ওটা দেখতে পান না। তাই প্রোফাইলে যা দেখছেন, ওটা জন্মের রেকর্ড নয়, ওটা সাম্প্রতিক ছবি।
এটা কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কার কাছে নয়
সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে এটা নিছক একটা তথ্য, এর বেশি কিছু নয়।
কিন্তু যিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে চান, তাঁর কাছে এটার একটা ছোট ভূমিকা আছে। প্রথমত, কোনো নতুন মানুষ আপনার পাতায় এসে যখন দেখেন দেশের নামটা তাঁর নিজের দেশ, তখন জিনিসটা তাঁর কাছে কম অচেনা লাগে। দ্বিতীয়ত, একই অঞ্চলের মানুষের কাছে লেখা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটা অনেকগুলো সংকেতের একটা।
তবে এটাকে বাড়িয়ে দেখার দরকার নেই। এটা নাগালের নিশ্চয়তা নয়, আর শুধু দেশের নাম মিলিয়ে দিলে কেউ বেশি ক্রেতা পান না। এটা অনেকগুলো ছোট জিনিসের একটা, আর বাকিগুলোর তুলনায় ছোট।
কেনার পরে যেটা হয়, আর সেটা দোষ নয়
এটাই এই লেখার সবচেয়ে দরকারি অংশ, কারণ এই জায়গাটাতেই মানুষ ভাবেন তাঁকে ঠকানো হয়েছে।
বিক্রেতার স্ক্রিনশটে দেখা গেল আইডিটায় একটা নির্দিষ্ট দেশের নাম লেখা আছে। আপনি কিনলেন, নিজের ফোন থেকে ঢুকলেন, আর কয়েক সপ্তাহ পরে দেখলেন নামটা বদলে বাংলাদেশ হয়ে গেছে।
এটা ত্রুটি নয়, আর বিক্রেতা মিথ্যেও বলেননি। ওই নামটা কখনোই আইডির সঙ্গে আটকানো কোনো সম্পত্তি ছিল না। ওটা আগের মালিকের অভ্যাসের ছাপ ছিল। মালিক বদলেছে, অভ্যাস বদলেছে, তাই ছাপটাও বদলেছে।
এখান থেকে একটা কাজের সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে। কোনো আইডি শুধু এই কারণে বেছে নেবেন না যে ওটায় এখন একটা নির্দিষ্ট দেশের নাম দেখাচ্ছে, কারণ ওই জিনিসটা আপনি কিনছেন না। ওটা কেনার পরে আপনার হাতে এসে বদলে যাবে।
যা কেনার সেটা হলো আইডিটার বয়স, তার আসল ইতিহাস আর তার সত্যিকারের অবস্থা। ওগুলো হাত বদলালেও থাকে। দেশের নামটা থাকে না।
নামটা যদি সত্যিই একটা দেশে রাখতে চান
রাখা যায়, আর পথটা একটাই, ধারাবাহিকতা। ওই দেশের সংযোগ থেকেই নিয়মিত ঢুকতে হবে, আর মাঝে মাঝে অন্য জায়গা থেকে ঢুকলে হিসাবটা এলোমেলো হয়ে যাবে।
এখানে আমাদের নিজেদের অবস্থাটা সৎভাবে বলে দেওয়া দরকার, কারণ এই জায়গায় সাধারণত একটা পরামর্শ দেওয়া হয় যেটা আমরা দিতে পারি না।
এই সাইটে প্রক্সির পুরো ঘরে এই মুহূর্তে তিরাশিটা তালিকা আছে বারোটা দোকান থেকে। তার মধ্যে আবাসিক প্রক্সির ঘরে আছে কুড়িটা তালিকা, চারটে দোকান থেকে। আর ওই ঘরের একটা বড় অংশ আসলে প্রক্সি নয়, পরিচিত ভিপিএন সেবার সদস্যপদ।
অর্থাৎ এখান থেকে দেশ ধরে রাখার একটা স্থায়ী সমাধান কিনে নেওয়া যাবে, এমন ভান করার মানে হয় না। কুড়িটা তালিকার একটা ঘর ছোট ঘর। এটা জেনে রাখা ভালো, কারণ অনেক লেখায় এই পরামর্শটা এমনভাবে দেওয়া হয় যেন জিনিসটা সহজলভ্য।
বেশিরভাগ মানুষের জন্য সবচেয়ে কাজের পরামর্শটা তাই সরল। যেখান থেকে আপনি সত্যিই আছেন, সেখান থেকেই চালান, আর নামটা যা আসে আসুক। যিনি সত্যিই একটা নির্দিষ্ট বাজারে কাজ করছেন, তাঁর জন্য এটা একটা খরচের সিদ্ধান্ত, আর সেই খরচটা আগে থেকে জেনে নেওয়া দরকার।
ভিপিএন দিয়ে চালানো যায় কি
বাংলায় এই প্রশ্নটা ঘুরেফিরে আসে, আর প্রশ্নটা সাধারণত অনুমতির, কারিগরি নয়। মানুষ জানতে চান এটা করা যাবে কি না, আইডি বন্ধ হয়ে যাবে কি না।
উত্তরটা হলো, ভিপিএন ব্যবহার করা নিজে থেকে নিষিদ্ধ কিছু নয়। বহু মানুষ কাজের প্রয়োজনে এটা ব্যবহার করেন আর তাতে কিছুই হয় না।
যেটা সমস্যা তৈরি করে সেটা ভিপিএন নয়, সেটা হলো অস্থিরতা। আজ এক দেশ, কাল আরেক দেশ, পরশু আবার নিজের সংযোগ। এই লাফালাফিটাই সন্দেহ তৈরি করে, কারণ সত্যিকারের মানুষ এভাবে চলাফেরা করেন না।
তাই নিয়মটা সহজ। ভিপিএন ব্যবহার করলে একটা জায়গা বেছে নিয়ে সেখানেই থাকুন। আর যদি ভিপিএনের সত্যিকারের দরকার না থাকে, তাহলে ওটা বন্ধ রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ তখন আপনার আচরণ আর আপনার অবস্থান দুটোই আসল, আর মেলানোর কিছু থাকে না।
কেনার পরে প্রথম দিনগুলো
দেশের নাম নিয়ে যা বলা হলো তার বাইরে, কেনা আইডির ক্ষেত্রে ক্রমটা এরকম হওয়া উচিত।
প্রথমে পরিচয়ের চাবিগুলো নিজের হাতে আনুন, অর্থাৎ পাসওয়ার্ড, জোড়া থাকা মেইল আর নম্বর। তারপর একটা যন্ত্র আর একটা সংযোগ বেছে নিয়ে প্রথম কয়েক সপ্তাহ সেটাতেই থাকুন।
এই দ্বিতীয় কাজটার কারণ আছে। মালিকানা বদলানোর তথ্যগুলো বদলানো নিজেই একটা বড় পরিবর্তন। ওটার সঙ্গে যদি একই সময়ে জায়গা বদলানোও যোগ হয়, তাহলে দুটো মিলে অনেক বড় একটা ধাক্কা তৈরি হয়। একটা করে করলে দুটোই স্বাভাবিক দেখায়।
আর এসবের আগে একটা কাজ, যেটা সবচেয়ে জরুরি। হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখে নিন আইডিটা সত্যিই কাজ করছে কি না। এই সাইটের প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এক্সের ঘরে নয়শোর বেশি তালিকার মধ্যে তিনশোর বেশিতে সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম। দেশের নাম নিয়ে ভাবার আগে ওই পরীক্ষাটা সেরে ফেলুন।