নতুন আইডি নষ্ট নয়, শুধু অপ্রমাণিত
নতুন আইডিতে সাড়া না পাওয়াকে মানুষ ত্রুটি ভাবেন। ওটা ত্রুটি নয়। আর এখানে দিনে কতটা করা যাবে তার কোনো সংখ্যা দেওয়া হচ্ছে না, কারণ সেই সংখ্যা কেউ প্রকাশ করে না।
Sarah Johnsonবাংলায় নতুন আইডি নিয়ে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে খোঁজা হয়, সেটা ফেসবুক নিয়ে, আর সেটা হলো নতুন আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে না কেন।
প্রশ্নটার ভেতরে একটা ধারণা লুকিয়ে আছে, আর ধারণাটা হলো আইডিটায় কিছু একটা গণ্ডগোল আছে। এই ধারণাটাই ভুল, আর এটাই এক্সের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।
নতুন আইডি নষ্ট নয়। নতুন আইডি শুধু অপ্রমাণিত। আর এই দুটোর মধ্যে ফারাকটা বিরাট, কারণ নষ্ট জিনিস সারাতে হয়, আর অপ্রমাণিত জিনিসকে শুধু সময় দিতে হয়।
প্ল্যাটফর্ম নতুন আইডিকে যেভাবে দেখে
একটা পুরোনো আইডির অনেক ইতিহাস থাকে। কবে কী করেছে, কার সঙ্গে কথা বলেছে, কোন সময়ে সক্রিয় থাকে। এই ইতিহাসটা দিয়ে প্ল্যাটফর্ম বিচার করতে পারে আচরণটা স্বাভাবিক কি না।
নতুন আইডিতে ওই ইতিহাসটা নেই। তাই বিচার করার জন্য হাতে থাকে শুধু এই মুহূর্তের আচরণ। আর তখন প্রতিটা কাজের ওজন অনেক বেশি হয়ে যায়।
একটা উদাহরণ দিলে বোঝা সহজ হয়। পাঁচ বছরের পুরোনো একটা আইডি যদি এক দিনে পঞ্চাশজনকে অনুসরণ করে, সেটা তার হাজারো দিনের ইতিহাসের পটভূমিতে একটা সামান্য ওঠানামা। আর দুদিনের একটা আইডি যদি একই কাজ করে, তাহলে ওটাই তার পুরো ইতিহাস। ওই আইডিটার সম্পর্কে জানা একমাত্র তথ্যই হলো, এটা একদিনে পঞ্চাশজনকে অনুসরণ করেছে।
এই কারণেই একই কাজ দুটো আইডিতে দুরকম ফল দেয়। প্রথম সপ্তাহটা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য নয় যে ওখানে কোনো গোপন পরীক্ষা চলে, বরং এই জন্য যে ওই সময়ে যা করেন সেটাই আইডিটার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।
সংখ্যার তালিকা কেন এখানে নেই
এই ধরনের লেখায় সাধারণত একটা ছক থাকে। প্রথম দুই দিনে এতগুলো, তৃতীয় দিনে এতগুলো, দিনে সর্বোচ্চ এতগুলো কাজ।
এখানে সেই ছকটা দেওয়া হচ্ছে না, আর কারণটা বলে রাখা দরকার। ওই সংখ্যাগুলো কোথাও থেকে মাপা নয়। এক্স এই ধরনের কোনো সীমা প্রকাশ করে না, কেউ ওগুলো বাইরে থেকে জানতে পারে না। যেসব লেখায় ওগুলো থাকে, সেখানে নিচে ছোট করে লেখা থাকে যে এগুলো আনুমানিক।
কিন্তু ছকের ভেতরে বসানো সংখ্যা পড়ার সময় কেউ নিচের ছোট লেখাটা পড়েন না। মানুষ সংখ্যাটা মেনে চলেন, আর ভাবেন সীমার নিচে আছেন বলে নিরাপদ আছেন। এই মিথ্যে নিশ্চয়তাটা কোনো সংখ্যা না থাকার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।
তাই এখানে যা দেওয়া হচ্ছে তা হলো নিয়মটা, সংখ্যাটা নয়। আর নিয়মটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কাজে লাগে, কারণ এটা সব প্ল্যাটফর্মে আর সব সময়ে খাটে।
আসল জিনিসটা গতি, পরিমাণ নয়
এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয়। মানুষ ভাবেন সমস্যাটা কতগুলো করলেন তাতে। সমস্যাটা আসলে কত দ্রুত করলেন তাতে।
একটা মানুষ যখন সত্যিই ফোন হাতে বসে থাকেন, তখন তিনি একটা লেখা পড়েন, একটু ভাবেন, নিচে নামেন, আবার কিছুক্ষণ পরে ফিরে আসেন। এর মধ্যে ফাঁক থাকে, অসমতা থাকে, আর মাঝে মাঝে তিনি কিছুই করেন না।
তিন মিনিটে কুড়িজনকে অনুসরণ করা এই ছবিটার সঙ্গে মেলে না। সংখ্যাটা কুড়ি বলে সমস্যা নয়, সমস্যা হলো তিন মিনিট। ওই একই কুড়িজনকে যদি সারা দিনে কয়েকবারে ভাগ করে করা হয়, ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।
একইভাবে, একই লেখা কয়েক জায়গায় বসিয়ে দেওয়া সংখ্যার সমস্যা নয়, পুনরাবৃত্তির সমস্যা। সত্যিকারের মানুষ প্রতিবার একটু আলাদা করে লেখেন, কারণ তিনি প্রতিবার আলাদা জিনিসের উত্তর দিচ্ছেন।
তাই নিজের কাজের হিসাব রাখতে চাইলে গুনতির বদলে নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন। আমি যা করছি, কোনো সত্যিকারের পাঠক কি এভাবেই করতেন। উত্তরটা প্রায় সবসময় ঠিক দিক দেখায়।
প্রোফাইলটা খালি থাকলে বাকিটা কাজে আসে না
গতি নিয়ে যত সাবধানতাই নিন, একটা খালি প্রোফাইল আলাদা করে চোখে পড়ে।
ছবি নেই, পরিচয়ের ঘর ফাঁকা, একটাও নিজের লেখা নেই, অথচ আইডিটা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মানুষকে অনুসরণ করছে। এই ছবিটা এমন কারও নয় যিনি সবে শুরু করেছেন, এটা এমন কারও যিনি লুকিয়ে আছেন।
তাই কাজ শুরু করার আগে প্রোফাইলটা ভরে নেওয়াটা আসলে সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে কম খরচের ধাপ। একটা ছবি, দুই লাইনের পরিচয়, আর নিজের লেখা অন্তত একটা পোস্ট। এটুকু করতে দশ মিনিট লাগে।
আর নিজের লেখা পোস্টটা কোনো লিংক দিয়ে শুরু করবেন না। একটা নতুন আইডির প্রথম কাজ যদি হয় বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া, তাহলে সেটাই আইডিটার সম্পর্কে জানা প্রথম তথ্য হয়ে দাঁড়ায়।
সাড়া হঠাৎ থেমে গেলে
সমস্যার প্রথম চিহ্ন সবসময় কোনো নোটিশ নয়। অনেক সময় ওটা নীরব।
যা দেখতে পাবেন তা হলো, আপনার উত্তরগুলো আলোচনার মধ্যে আর দেখা যাচ্ছে না তাঁদের কাছে যাঁরা আপনাকে অনুসরণ করেন না, বা একটা পোস্ট ঘণ্টার পর ঘণ্টা শূন্য হয়ে পড়ে আছে।
এখানে করার কাজটা যা মনে হয় তার ঠিক উল্টো। আরও বেশি পোস্ট করে বা আরও বেশি মানুষকে অনুসরণ করে এটা ঠিক করা যায় না, তাতে উল্টো ব্যাপারটা বাড়ে। যেটা করতে হয় সেটা হলো কয়েক দিন প্রায় কিছুই না করা। শুধু পড়া, আর মাঝে মাঝে একটা কিছুতে সাড়া দেওয়া।
এটা বিরক্তিকর শোনায়, আর ইচ্ছে করেই বিরক্তিকর। দ্রুত বেড়ে যাওয়া কাজের কারণে যে সীমা আসে, সেটা সাধারণত ধীরে চলার সঙ্গে সঙ্গেই আলগা হয়।
এক দুই সপ্তাহ চুপচাপ থাকার পরেও যদি কিছুই না বদলায়, তখন সেটিংসে গিয়ে দেখুন কোনো নির্দিষ্ট নোটিশ আছে কি না। থাকলে সেটা আলাদা ব্যাপার, আর অপেক্ষা করে সেটার সমাধান হবে না।
তৈরি আইডি কিনলে কোন কাজটা বাদ যায়
অনেকে এই পুরো সময়টা বাঁচাতে চান, আর ইতিহাস আছে এমন আইডি কিনে নেন। এই সাইটে এক্সের ঘরে নয়শোর বেশি তালিকা আছে, তার মধ্যে একশো সাতচল্লিশটায় বয়স বা তৈরি করে রাখা সংক্রান্ত কোনো শব্দ লেখা আছে।
এখানে সৎ কথাটা হলো, কেনা মানে সবটা বাদ যাওয়া নয়। যেটা বাদ যায় সেটা হলো ইতিহাস তৈরি করার সময়টুকু। যেটা বাদ যায় না সেটা হলো হাত বদলানোর ধাক্কাটা।
কারণ আইডিটার দিক থেকে দেখলে, হঠাৎ নতুন একটা যন্ত্র, নতুন একটা দেশ, আর একেবারে নতুন ধরনের কাজ শুরু হয়ে যাওয়া, এই তিনটে একসঙ্গে ঘটাটাই একটা বড় পরিবর্তন। তাই কেনা আইডির প্রথম সপ্তাহেও ধীরে চলতে হয়, শুধু শুরুর জায়গাটা ভালো।
আর একটা কাজ কেনার ক্ষেত্রে আগে আসে, ধীরে চলার আগেই। হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখে নিতে হয় আইডিটা সত্যিই কাজ করছে কি না আর চাবিগুলো আপনার হাতে এসেছে কি না। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে আসে, কিন্তু এক্সের ঘরে নয়শো পনেরোটার মধ্যে তিনশোর বেশিতে সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম, আর একশোর বেশিতে সেটা কয়েক মিনিট। ধীরে চলা শুরু হয় ওই পরীক্ষাটার পরে, আগে নয়।
