পাসওয়ার্ড বদলানোর পর সরঞ্জামটা বন্ধ হয়ে গেল, এটা ঠিক কাজই করেছে
হাত বদল হওয়া আইডিতে পাসওয়ার্ড বদলালে জোড়া লাগানো সব সরঞ্জাম থেমে যায়। এটা ত্রুটি নয়, এটাই উদ্দেশ্য। আসল প্রশ্ন হলো কাজগুলো কোন ক্রমে করবেন।
Avery Bennettএকটা আইডি হাতে পেলেন, প্রথম কাজ হিসেবে পাসওয়ার্ড বদলে দিলেন, আর তার কিছুক্ষণ পরেই দেখলেন ওই আইডির সঙ্গে জোড়া থাকা সরঞ্জামটা আর কাজ করছে না।
এখানে অনেকে ধরে নেন কিছু একটা ভেঙে গেছে। কিছুই ভাঙেনি। পাসওয়ার্ড বদলানোর কাজটাই হলো পুরোনো সংযোগগুলো কেটে দেওয়া, আর ওটা ঠিক সেটাই করেছে।
আসল প্রশ্নটা তাই এই নয় যে কেন থেমে গেল। আসল প্রশ্ন হলো কাজগুলো কোন ক্রমে করলে আপনাকে একই কাজ দুবার করতে হয় না।
কেন পাসওয়ার্ডই সবার আগে
যে আইডি হাত বদল হয়েছে, সেখানে পাসওয়ার্ড বদলানোর আগে অন্য কিছু করার কোনো মানে নেই।
কারণটা সরল। আপনি যদি আগে সুরক্ষা বসান, তারপর পাসওয়ার্ড বদলান, তাহলে যা যা বসিয়েছেন তার অনেকটাই আবার নতুন করে বসাতে হবে, কারণ পাসওয়ার্ড বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেশনগুলো মরে যাবে।
আর তার চেয়ে বড় কারণ হলো, পাসওয়ার্ড না বদলানো পর্যন্ত আইডিটা আসলে ভাগাভাগির অবস্থায় আছে। আগের হাতে যদি কোনো ব্রাউজার খোলা থাকে বা কোনো সরঞ্জাম জোড়া থাকে, সেটা তখনও চলছে। আপনি ভেতরে ঢুকেছেন মানে অন্য কেউ বেরিয়ে গেছে, এমন নয়।
একটা কথা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পাসওয়ার্ড বদলানোর কাজটা এক্সের নিজের পাতায় গিয়ে করুন, কোনো সরঞ্জামের ভেতর থেকে নয়। সরঞ্জামের ভেতর দিয়ে করলে আপনি জানবেন না আসলে কী ঘটল, আর অনেক ক্ষেত্রে ওটা কাজই করবে না।
ঠিক ওই মুহূর্তে যা যা থেমে যায়
পাসওয়ার্ড বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি সেশনগুলো অচল হয়ে যায়। এর মধ্যে পড়ে:
- অন্য যন্ত্রে খোলা থাকা ব্রাউজারের ট্যাবগুলো, নিজেরটা সহ।
- যে সরঞ্জামে হাতে কপি করা কোনো লেখা বসানো ছিল, সেটা।
- কোনো এক্সটেনশন, যেটা ব্রাউজারের সেশনের উপর দাঁড়িয়ে ছিল।
যেটা থামে না সেটা হলো এক্সের নিজের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেসব সরঞ্জামকে আপনি আলাদাভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন। ওগুলো পাসওয়ার্ডের উপর দাঁড়িয়ে নেই, ওগুলো আলাদা একটা অনুমতির উপর দাঁড়িয়ে আছে।
এই ফারাকটা মনে রাখার মতো, কারণ এটাই পরের সিদ্ধান্তটা ঠিক করে দেয়। যদি কোনো কাজ আপনি নিয়মিত করবেন, তাহলে হাতে কপি করা লেখার উপর দাঁড়ানো ব্যবস্থাটা প্রতিবার পাসওয়ার্ড বদলালে ভেঙে পড়বে। আর অনুমতির উপর দাঁড়ানো ব্যবস্থাটা ভাঙবে না।
যে ক্রমে করলে একবারেই হয়ে যায়
ক্রমটা এইরকম, আর প্রতিটা ধাপের পেছনে একটা কারণ আছে।
এক, এক্সের নিজের পাতায় গিয়ে পাসওয়ার্ড বদলান। দুই, সব সেশন থেকে বেরিয়ে যান, যাতে আগের হাতের কোনো কিছু ঝুলে না থাকে। তিন, নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে আবার ঢুকুন। চার, এখন দুই ধাপের যাচাই চালু করুন। পাঁচ, এবার সরঞ্জামগুলো নতুন করে জুড়ুন।
চার নম্বরটা তিন নম্বরের পরে কেন, সেটা বোঝা দরকার। দুই ধাপের যাচাই চালু করার পরে যে সেশনটা তৈরি হয়, সেটাই ওই সুরক্ষার ভেতরে জন্মানো সেশন। যদি আপনি আগে সরঞ্জাম জোড়েন আর পরে যাচাই চালু করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে সরঞ্জামটা আবার জুড়তে হবে। অর্থাৎ একই কাজ দুবার।
আর পাঁচ নম্বরটা সবার শেষে, কারণ ওটাই একমাত্র ধাপ যেটার ফল আপনি সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করতে পারেন। বাকিগুলো আগে সেরে না নিলে পরীক্ষাটার কোনো মানে থাকে না।
নতুন সেশন হাতে নেওয়া
যদি সরঞ্জামটা এক্সের নিজের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কাজ করে, তাহলে কিছুই করার নেই, শুধু আবার অনুমতি দিয়ে দিলেই হয়।
আর যদি সরঞ্জামটা ব্রাউজার থেকে কপি করা লেখা চায়, তাহলে নতুন করে ঢোকার পরে ব্রাউজারের ভেতরের সরঞ্জামগুলো খুলে ওখান থেকে নতুন লেখাটা নিতে হবে। পুরোনো লেখাটা আর কোনো কাজে আসবে না, ওটাকে জোড়াতালি দিয়ে বাঁচানোরও কোনো উপায় নেই।
এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। এই কপি করার পথটা কাজ করে, কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। যতবার পাসওয়ার্ড বদলাবেন ততবার এটা করতে হবে, আর মাঝেমধ্যে পাসওয়ার্ড না বদলালেও লেখাটা এমনিই মরে যেতে পারে।
তাই যদি কাজটা একবারের হয়, কপি করে নিন। আর যদি কাজটা রোজকার হয়, তাহলে শুরুতেই একটু বেশি খেটে সরকারি পথটা বসিয়ে নিন। প্রথমবার বেশি সময় লাগে, তারপর আর কখনো এই ঝামেলাটা আসে না।
লেখাটা যেখানে যেখানে ফাঁস হয়
একটা সেশনের লেখা আর পাসওয়ার্ড, ব্যবহারিক দিক থেকে দুটো একই জিনিস। কিন্তু মানুষ পাসওয়ার্ড যত সাবধানে রাখেন, লেখাটা তত সাবধানে রাখেন না, কারণ ওটা দেখতে শুধু একগাদা অক্ষর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে সাধারণ ফাঁক দুটো। এক, কাজের কথা বলতে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে লেখাটা পাঠিয়ে দেওয়া। ওই বার্তাটা সেখানে থেকে যায়, আর যাঁর কাছে পাঠালেন তাঁর ফোনেও থেকে যায়।
দুই, কাউকে দেখাতে গিয়ে পর্দা ভাগ করে নেওয়া, যখন ব্রাউজারের ভেতরের সরঞ্জামটা খোলা আছে। ওই মুহূর্তে লেখাটা পর্দায় থাকে, আর অনেক সময় রেকর্ডিংয়েও থেকে যায়।
তৃতীয় একটা কম ভাবা ফাঁক হলো সাইবার ক্যাফে বা ভাগ করা কম্পিউটার। ওখানে শুধু ট্যাব বন্ধ করে উঠে গেলে সেশনটা মরে না। বেরিয়ে আসতে হলে সত্যিকারের লগ আউট করতে হয়।
এই সাইট থেকে কেনা হলে যেটা সময়ের ব্যাপার
এই সাইটে এক্স বা টুইটারের আইডির ঘরে এই মুহূর্তে নয়শোর বেশি তালিকা আছে। তার মধ্যে পাঁচশো নব্বইটার মতো তালিকায় দুই ধাপের যাচাই সংক্রান্ত কিছু লেখা আছে, অর্থাৎ বেশিরভাগেই।
এটা কেনার পরে একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন তৈরি করে। যেখানে দুই ধাপের যাচাই আগে থেকে বসানো, সেখানে ওটার চাবি কার হাতে। ওটা যদি আপনার হাতে না আসে, তাহলে পাসওয়ার্ড বদলানোর সময়েই আপনি আটকে যাবেন, কারণ ওই মুহূর্তে এক্স একটা কোড চাইবে।
তাই ক্রমটা এখানে আরেকটু আগে শুরু হয়। পাসওয়ার্ড বদলানোর আগে দেখে নিন আপনি নিজে ওই কোডটা তৈরি করতে পারছেন কি না। না পারলে আগে সেই ব্যবস্থাটা নিজের হাতে আনুন, তারপর পাসওয়ার্ডে হাত দিন।
আর এটা দ্রুত করতে হবে। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এই ঘরে নয়শো পনেরোটা তালিকার মধ্যে তিনশোর বেশিতে সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম, আর একশোর বেশিতে সেটা মাত্র কয়েক মিনিট। কোডটা তৈরি করা যাচ্ছে কি না, এই একটা পরীক্ষা প্রথম মিনিটেই সেরে ফেলা উচিত।


