টেলিগ্রাম একাউন্ট কিনে কী করে
বাংলায় এই প্রশ্নটাই সরাসরি খোঁজা হয়। উত্তরটা শুরু হয় একটা কথা দিয়ে, আটশো তালিকার মধ্যে পাঁচভাগের চার ভাগে বয়সের কোনো উল্লেখই নেই।
Avery Bennettবাংলায় টেলিগ্রাম একাউন্ট নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার মধ্যে একটা প্রশ্ন সরাসরি লেখা থাকে, টেলিগ্রাম একাউন্ট কিনে কি করে।
এটা উল্লেখযোগ্য, কারণ এই ধরনের জিনিস বাংলা অক্ষরে সাধারণত খোঁজা হয় না। ফেসবুক আইডি কিনতে চাই লিখলে কিছুই আসে না। কিন্তু টেলিগ্রাম একাউন্ট কিনবো লিখলে আসে। অর্থাৎ এই একটা জিনিস নিয়ে বাংলায় সত্যিকারের আগ্রহ আছে।
তাই এই লেখাটা কোনটা কিনবেন সেই তালিকা দিয়ে শুরু হচ্ছে না। শুরু হচ্ছে তালিকাগুলোতে আসলে কী লেখা থাকে সেটা দিয়ে, কারণ ওখানেই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা আছে।
বয়সের কথাটা যত বড় করে বলা হয়, ততটা লেখাই থাকে না
এই ধরনের লেখায় সাধারণত একটা ছক থাকে। এক মাসের, তিন মাসের, ছয় মাসের, এক বছরের। প্রতিটার আলাদা দাম আর আলাদা ভরসা।
এই সাইটের ঘরটা গুনে দেখলে ছবিটা অন্যরকম। টেলিগ্রাম আইডির ঘরে আটশোটা তালিকা আছে বিয়াল্লিশটা দোকান থেকে। তার মধ্যে বছরের কথা লেখা আছে ঊনসত্তরটায়, ছয় মাসের কথা আটচল্লিশটায়, মাসের কথা পনেরোটায়, আর নতুন বা তাজা এই ধরনের শব্দ চব্বিশটায়।
সব মিলিয়ে দেড়শোর মতো। অর্থাৎ আটশোর মধ্যে ছয়শোর বেশি তালিকায় বয়স নিয়ে কিছুই লেখা নেই।
এর মানে এই নয় যে ওই ছয়শো খারাপ। মানে হলো, বয়স ধরে বেছে নেওয়ার যে ছকটা দেখানো হয়, সেটা এই বাজারটার চেহারা নয়। আপনি যদি বয়স ধরে খুঁজতে যান, আপনি বেশিরভাগ তালিকা বাদ দিয়ে দেবেন, আর যেগুলো থাকবে সেগুলো শুধু এই কারণে থাকবে যে বিক্রেতা কথাটা লিখেছেন।
আর এখানে একটা পুরোনো শিক্ষা কাজে লাগে। বয়স বোঝাতে যে শব্দগুলো ব্যবহার হয়, সেগুলোর কোনো স্থির মানে নেই। পুরোনো বা তৈরি করা এই ধরনের শব্দ যিনি লিখছেন তিনি যা বোঝাতে চান তাই বোঝায়। যেটার একটা স্থির মানে আছে সেটা হলো সংখ্যা, অর্থাৎ কোন সালের। তাই শব্দ নয়, সংখ্যা খুঁজুন, আর সংখ্যা না থাকলে ধরে নিন বয়সটা জানা নেই।
তালিকায় আসলে যা লেখা থাকে
বয়সের বদলে বিক্রেতারা যা লেখেন, সেটা গুনে দেখলে বোঝা যায় এই বাজারটা আসলে কী নিয়ে।
ওই আটশোটা তালিকার মধ্যে tdata শব্দটা আছে পাঁচশো তেইশটায়, json আছে চারশো পঁচাত্তরটায়, আর session আছে চারশো একাশিটায়। দুই ধাপের যাচাইয়ের কথা আছে তিনশো তেষট্টিটায়। ভেরিফায়েড শব্দটা আছে একশো পঁয়ত্রিশটায়।
অর্থাৎ এই বাজারটা মূলত বয়সের নয়, ফরম্যাটের। বিক্রেতারা যেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন সেটা হলো আপনি জিনিসটা কীভাবে হাতে পাবেন, আর ওটা দিয়ে কীভাবে ঢুকবেন।
দেশের নামও লেখা থাকে অনেক জায়গায়, আর সেখানে একটা নাম বাকি সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে। আমেরিকার কথা লেখা আছে সাতানব্বইটা তালিকায়, তারপরে ভারত পঁচিশ, ব্রাজিল পনেরো, বাংলাদেশ তেরো।
এই শেষ সংখ্যাটা বাংলাদেশ থেকে কেনার সময় কাজে লাগে। বাংলাদেশের নম্বরের আইডি এখানে খুব কম, তেরোটা। তাই দেশি নম্বর আশা করে এলে হতাশ হতে হবে, আর সেটা আগে জানা ভালো।
হাতে পাওয়ার পরের দশ মিনিট
এটাই সেই প্রশ্নের আসল উত্তর, কিনে কী করে।
প্রথম কথা, এটা দশ মিনিটের কাজ, আর ওই দশ মিনিটেই করতে হয়। কারণ এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু আটশোটা তালিকার মধ্যে চারশো সাতষট্টিটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ আধা দিন, আর একশো পঞ্চাশটায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট।
ক্রমটা এরকম।
- আগে ঢুকুন। ফাইল দিয়ে হোক বা কোড দিয়ে, আগে নিশ্চিত হন জিনিসটা সত্যিই খোলে। এটাই একমাত্র পরীক্ষা যেটা না করলে বাকি কিছুরই মানে নেই।
- চালু যন্ত্রের তালিকা দেখুন। সেটিংসে গিয়ে দেখুন আর কোন কোন যন্ত্র থেকে এই আইডিতে ঢোকা আছে। আগের মালিকের যন্ত্র ওখানে থাকতে পারে, আর থাকলে বের করে দিন।
- দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ডটা নিজের হাতে আনুন। তিনশোর বেশি তালিকায় এটার কথা লেখা আছে, অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা বসানো থাকবে, আর ওটা প্রথমে অন্য কারও জানা ছিল।
- নিজের একটা মেইল ঠিকানা জুড়ে দিন যেটাতে আপনি সত্যিই ঢুকতে পারেন।
এই চারটের মধ্যে দ্বিতীয়টা মানুষ সবচেয়ে বেশি বাদ দেন, আর ওটাই সবচেয়ে বেশি ভোগায়। কারণ পাসওয়ার্ড বদলে দিলেও পুরোনো যন্ত্রটা অনেক সময় ভেতরে থেকে যায়।
ঢুকে গেছি, এখন কী করা যাবে আর কী যাবে না
এখানে প্রত্যাশাটা ঠিক জায়গায় রাখা দরকার।
একটা কেনা আইডি আপনাকে একটা চালু পরিচয় দেয়। ওটা দিয়ে আপনি কথা বলতে পারেন, চ্যানেল খুলতে পারেন, গ্রুপে যোগ দিতে পারেন, আর সাধারণ যা যা করা যায় সব করতে পারেন।
যা দেয় না সেটা হলো ছাড়। টেলিগ্রামের নিজের সীমাগুলো ওই আইডির উপরেও একইভাবে খাটে। নতুন হাতে পড়ার পরে হঠাৎ অনেক অচেনা মানুষকে বার্তা পাঠাতে গেলে যা হওয়ার তাই হবে, আইডিটা পুরোনো হোক বা নতুন।
আর একটা কথা যেটা বলে রাখা দরকার। আইডিটা যে দেশ থেকে খোলা হয়েছিল সেখান থেকে হঠাৎ বাংলাদেশে চলে আসাটা নিজেই একটা বড় বদল। তাই প্রথম কয়েক দিন ধীরে চলা ছাড়া উপায় নেই, আর এটা আইডির দাম বা বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
যেসব প্রতিশ্রুতি যাচাই করা যায় না
কয়েকটা কথা তালিকায় নিয়মিত দেখা যায় যেগুলো বাইরে থেকে কেউ মিলিয়ে দেখতে পারে না, আর সেটা জেনে রাখা ভালো।
ভেরিফায়েড শব্দটা এই ঘরে একশো পঁয়ত্রিশটা তালিকায় আছে, কিন্তু টেলিগ্রামের আসল যাচাইয়ের চিহ্ন সাধারণ ব্যবহারকারীর আইডিতে বসে না। তাই শব্দটা এখানে অন্য কিছু বোঝাচ্ছে, সাধারণত মেইল বা নম্বর যাচাই করা। জিজ্ঞেস করে নিন কোনটা।
আইডিটার উপর কোনো সীমা বা দাগ নেই, এই ধরনের দাবিও থাকে। টেলিগ্রাম এমন কিছু প্রকাশ করে না, তাই বিক্রেতাও এটা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। ওটা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা, প্রতিশ্রুতি নয়।
আর প্রিমিয়াম নিয়ে একটা কথা, কারণ এটা প্রায়ই জুড়ে দেওয়া হয়। এই সাইটে টেলিগ্রাম প্রিমিয়ামের ঘরে এই মুহূর্তে একটাই তালিকা আছে, একটাই দোকান থেকে। তাই আইডির সঙ্গে প্রিমিয়াম যোগ করে নেওয়ার একটা সহজ পথ এখানে আছে, এমন ভাবার কারণ নেই।
যেটা যাচাই করা যায় সেটা একটাই, আইডিটা হাতে পেয়ে সত্যিই খুলছে কি না আর চাবিগুলো আপনার হাতে এসেছে কি না। বাকি সবটা কারও কথা। তাই সময়টা ওই পরীক্ষায় দিন, তালিকার বিশেষণগুলো পড়ায় নয়।