কুকি আর টোকেন এক জিনিস নয়, আর ফেসবুকে তো নয়ই
তালিকায় টোকেন লেখা দেখে অনেকে ভাবেন ওটা দিয়ে ঢোকা যাবে। ফেসবুকের ঘরে শব্দটা প্রায়ই অন্য জিনিস বোঝায়, আর সংখ্যাগুলো সেটাই বলছে।
Avery Bennettবাংলায় ফেসবুকের কুকি নিয়ে খোঁজার তালিকায় বাংলা অক্ষরে মাত্র একটাই জিনিস আসে, আর সেটা হলো কুকিজ কি। বাকি সব ইংরেজিতে। অর্থাৎ বাংলাভাষী পাঠক এই বিষয়ে সাধারণত জানার পর্যায়ে থাকেন, করার পর্যায়ে নয়।
তাই এখানে একটা নির্দিষ্ট গোলমাল নিয়ে কথা হবে, যেটা তালিকা পড়তে গিয়ে সবচেয়ে বেশি হয়। কুকি আর টোকেন, এই দুটো শব্দকে এক ভেবে ফেলা।
দুটো শব্দ, দুটো কাজ
কুকি হলো আপনার ব্রাউজারের ভেতরে জমা থাকা একটা লেখা, যেটা ফেসবুককে বলে দেয় এই ব্রাউজারটা আগে থেকেই ঢোকা আছে। এটার কাজ একটাই, আপনাকে বারবার পাসওয়ার্ড দিতে না দেওয়া। এটা ব্রাউজারের জিনিস।
টোকেন হলো অন্য একটা জিনিস। ওটা কোনো বাইরের প্রোগ্রাম বা সরঞ্জামকে দেওয়া একটা অনুমতিপত্র, যাতে ওই প্রোগ্রামটা আপনার হয়ে ফেসবুকের সঙ্গে কথা বলতে পারে। ওটা ব্রাউজারে বসানোর জিনিস নয়, ওটা কোনো সফটওয়্যারের ভেতরে বসানোর জিনিস।
এই ফারাকটা তাত্ত্বিক মনে হতে পারে, কিন্তু কেনার সময় এটাই সবচেয়ে দামি ফারাক। কারণ একজন যদি টোকেন পেয়ে ভাবেন এটা দিয়ে ব্রাউজারে ঢুকে পড়বেন, তিনি পারবেন না, আর ভাববেন তাঁকে ঠকানো হয়েছে। আবার উল্টোটাও হয়।
সংখ্যাগুলো কী বলছে
এটা অনুমান নয়, এই সাইটের নিজের ঘর গুনে দেখা।
ফেসবুক আইডির ঘরে এই মুহূর্তে চোদ্দশোর বেশি তালিকা আছে। তার মধ্যে প্রায় পাঁচশোটায় কুকির কথা লেখা আছে, আর মাত্র একশোর কিছু বেশি তালিকায় টোকেনের কথা। অর্থাৎ ফেসবুকের ঘরটা মূলত কুকির ঘর।
এবার পাশের ঘরটা দেখুন। টুইটার বা এক্সের আইডির ঘরে নয়শোর বেশি তালিকার মধ্যে সাড়ে তিনশোর মতো তালিকায় টোকেনের কথা আছে, আর কুকির কথা মাত্র পঁয়তাল্লিশটায়। ঠিক উল্টো ছবি।
আর টেলিগ্রামের ঘরে আটশোর কাছাকাছি তালিকার একটাতেও কুকির কথা নেই। ওখানে জিনিসটার নামই আলাদা, ওখানে ফাইল দেওয়া হয়।
এর মানে হলো, তিনটে জায়গায় তিন রকম চাবি চলে। তাই এক জায়গার অভ্যাস নিয়ে আরেক জায়গায় গেলে ভুল হবে। ফেসবুকে টোকেন লেখা দেখলে ধরে নেবেন না ওটা দিয়ে ব্রাউজারে ঢোকা যাবে, আগে জিজ্ঞেস করে নিন ওটা দিয়ে ঠিক কী করা যায়।
একটা কম্পিউটার, অনেকগুলো আইডি
ডেস্কটপে কাজ করার আসল কারণটা সুবিধা নয়, আলাদা রাখা। ফোনে একটা ফেসবুক অ্যাপে একটা আইডিই থাকে, কিন্তু কম্পিউটারের ব্রাউজারে আপনি চাইলে আলাদা আলাদা প্রোফাইল বানাতে পারেন, আর প্রতিটা প্রোফাইল নিজের আলাদা কুকি নিয়ে বসে থাকে।
নিয়মটা সহজ। একটা প্রোফাইল, একটা আইডি। কখনোই একটা প্রোফাইলে দুটো আইডি নয়।
কারণটা বোঝা দরকার, নইলে নিয়মটা মানা হয় না। ব্রাউজারের একটা প্রোফাইল শুধু কুকি রাখে না, ওটা আরও অনেক ছোট ছোট চিহ্ন জমিয়ে রাখে। কোন ভাষা, কোন সময় অঞ্চল, পর্দার মাপ, কোন কোন সাইটে যাওয়া হয়েছে। এগুলো মিলে প্রোফাইলটার একটা চেহারা তৈরি হয়।
এখন যদি একই প্রোফাইলে পালা করে দুটো আইডি চালানো হয়, তাহলে ফেসবুকের কাছে ওই দুটো আইডির চেহারা হুবহু এক। তারা তখন ধরে নেয় দুটো একই লোকের, বা একই দলের। একটাতে সমস্যা হলে অন্যটাও ধরা পড়ে। এটাকেই বলে একসঙ্গে ধরা পড়া, আর এটা এখানে সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
"শুধু একবার দেখে নিই" এই কথাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক
যিনি নিয়মটা জানেন, তিনিও একটা জায়গায় ভুলটা করেন। একটা আইডি ঠিকমতো কাজ করছে কি না দেখতে গিয়ে তার কুকি অন্য একটা চালু প্রোফাইলে বসিয়ে দেন, শুধু একবার পরীক্ষা করার জন্য।
ওই এক মুহূর্তেই কাজটা হয়ে যায়। দুটো আইডি একই চেহারায় দেখা গেল, আর ওই রেকর্ডটা মুছে ফেলা যায় না। কুকিটা সরিয়ে নিলেও ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পরে।
তাই পরীক্ষা করার দরকার হলে একটা নতুন খালি প্রোফাইল বানিয়ে সেখানে করুন, তারপর প্রোফাইলটা মুছে দিন। খালি প্রোফাইল বানানো বিনামূল্যে আর কয়েক সেকেন্ডের কাজ। চালু প্রোফাইলে অন্য আইডির কুকি বসানোর কোনো কারণ কখনোই নেই।
আর একটা কথা, কুকি নিয়ে কাজ করার জন্য যেসব ছোট সরঞ্জাম ব্রাউজারে বসানো হয়, সেগুলো আপনার সব কুকি পড়তে পারে, শুধু ফেসবুকেরটা নয়। তাই ওগুলো ব্রাউজারের নিজের দোকান থেকেই নিন, আর যে প্রোফাইলে আপনার নিজের ব্যক্তিগত মেইল বা ব্যাংক খোলা থাকে সেখানে ওসব বসাবেন না।
সেশন মরে যায়, আর সেটাই স্বাভাবিক
কুকি চিরকাল বাঁচে না, আর এটা কোনো ত্রুটি নয়। ফেসবুক নিয়মিত পুরোনো সেশন বাতিল করে দেয়, এটা তাদের নিরাপত্তার অংশ।
কিন্তু কিছু কাজ ওটাকে অনেক তাড়াতাড়ি মেরে ফেলে। পাসওয়ার্ড বদলালে সেশন মরে। ফেসবুক যদি কোনো কারণে সন্দেহ করে আর যাচাই চায়, তাহলে সেশন মরে। আর একটা কুকি যদি দুটো আলাদা জায়গা থেকে একসঙ্গে ব্যবহার হয়, তাহলে অনেক সময় দুটোই মরে।
এই শেষ কারণটা কেনার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগায়। আপনি কুকিটা পেলেন, বসালেন, ঢুকলেন, আর কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে গেল। এর একটা সম্ভাব্য কারণ হলো ওই একই কুকি তখনও অন্য কারও কাছে চালু আছে।
এটা এখানে বলার কারণ আছে। এই সাইটের প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু সমস্যা জানানোর মেয়াদ ফেসবুকের ঘরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আধা দিন, আর দেড়শোর মতো তালিকায় সেটা মাত্র কয়েক মিনিট। তাই হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বসিয়ে দেখে নেওয়াটা আসলে সময়ের ব্যাপার, ধৈর্যের নয়।
কুকি একটা সেতু, ঘর নয়
শেষ কথাটা এটাই, আর এটাই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করা হয়।
কুকি দিয়ে ঢোকা একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা। ওটা আপনাকে ভেতরে নিয়ে যায়, কিন্তু ওটা আপনার মালিকানা নয়। যতক্ষণ আপনি শুধু কুকির উপর দাঁড়িয়ে আছেন, ততক্ষণ আইডিটা আসলে আপনার নয়, ওটা যে কারও, যার কাছে ওই লেখাটা আছে।
মালিকানা আসে তখনই, যখন আপনি একবার স্বাভাবিক পথে পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকতে পারেন। তাই ভেতরে ঢোকার পরে ক্রমটা হলো, আগে পাসওয়ার্ড বদলান, তারপর কুকিটা ছাড়া একবার স্বাভাবিকভাবে ঢুকে দেখুন সত্যিই হচ্ছে কি না, তারপর বাকি সুরক্ষার কাজ।
এই মাঝের ধাপটা মানুষ বাদ দিয়ে দেন, আর সেটাই ভুল। পাসওয়ার্ড বদলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়ার পরে যদি দেখা যায় ঢোকার সময় এমন একটা কোড চাইছে যেটা আপনার কাছে নেই, তখন আপনার হাতে কিছুই থাকে না, কারণ কুকিটাও ততক্ষণে মরে গেছে।


