ব্লু টিক কপি করে নামে বসালে কী হয়
বাংলায় ব্লু টিক নিয়ে যা খোঁজা হয় তার বেশিরভাগই চিহ্নটা কপি করার উপায়। চিহ্নটা কপি করা যায়, কিন্তু নামে বসালে ফলটা উল্টো হয়।
Sarah Johnsonবাংলায় ব্লু টিক লিখে খুঁজলে যা আসে, তার প্রায় সবটাই একটা জিনিস নিয়ে। চিহ্ন কপি, ইমোজি, চিহ্ন কপি নাম, মার্ক, লোগো।
অর্থাৎ এখানে মানুষ জানতে চাইছেন না কীভাবে ভেরিফাই হওয়া যায়। তাঁরা জানতে চাইছেন চিহ্নটা কোথা থেকে কপি করা যায়, যাতে নিজের নামের পাশে বসিয়ে দেওয়া যায়।
চিহ্নটা কপি করা যায়, এটা সত্যি। কিন্তু নামে বসালে যা হয় সেটা যা চাওয়া হয়েছিল তার উল্টো, আর সেটা দিয়েই শুরু করা দরকার।
কপি করা চিহ্ন আর ব্যাজ, এক দেখতে হলেও এক নয়
যেটা কপি করা যায় সেটা একটা অক্ষর, ঠিক যেমন হাসির ইমোজি একটা অক্ষর। ওটা আপনার নামের অংশ হয়ে যায়, আর নাম যেখানে যেখানে দেখা যায় সেখানে ওটাও দেখা যায়।
আসল ব্যাজটা নামের অংশ নয়। ওটা প্ল্যাটফর্ম নিজে নামের পাশে বসায়, আর ওটা আসে অন্য জায়গা থেকে, আপনার লেখা থেকে নয়।
দূর থেকে দুটো এক দেখায়, আর ঠিক এই কারণেই মানুষ চেষ্টাটা করেন। কিন্তু কাছ থেকে ফারাকটা ধরা পড়ে। কপি করা চিহ্নটা নামের ভেতরে বসে থাকে, তাই ওটা নামের সঙ্গে লেগে থাকে, আর আসল ব্যাজটা নামের বাইরে আলাদা করে বসে।
যিনি এই জিনিস নিয়মিত দেখেন, তিনি এক নজরেই ধরে ফেলেন। আর কেউ যদি ধরে ফেলেন, তাহলে ফলটা শুধু ব্যর্থতা নয়, ফলটা অবিশ্বাস। ক্রেতা তখন ভাবেন এই লোক এমন কিছু দেখাতে চেয়েছিলেন যেটা তাঁর নেই।
নামে বসালে যে ঝুঁকিটা আছে
এটা শুধু কাজ না করার ব্যাপার নয়, এর একটা দাম আছে।
প্ল্যাটফর্মগুলো এমন আচরণ পছন্দ করে না যেখানে কেউ এমন একটা মর্যাদার ভান করেন যেটা তাঁর নেই। কারণ ওই ভানটার উদ্দেশ্যই হলো অন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা, আর সেটা তাদের নিয়মের সরাসরি বিরুদ্ধে।
তাই এটার ফল সাধারণত দুটোর একটা। হয় নামটা বদলে দেওয়া হয়, নয়তো আইডিটার উপর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর দ্বিতীয়টা যদি হয়, তাহলে আপনি একটা ছোট প্রসাধনের জন্য পুরো আইডিটা হারালেন।
বাংলাদেশ থেকে যাঁরা বিদেশে কিছু বিক্রি করেন, তাঁদের জন্য এই হিসাবটা আরও খারাপ। কারণ আইডিটার সঙ্গে দোকানের নাম জোড়া, আর আইডি গেলে বিজ্ঞাপনের লিংকগুলোও ভেঙে যায়।
আসল ব্যাজটা আসলে কী দেয়
এখানে সৎ থাকা দরকার, কারণ এই জিনিসটা নিয়ে যা বলা হয় তার বেশিরভাগই বাড়িয়ে বলা।
ব্যাজটা মূলত একটা চোখে দেখা সংকেত, আর একটা প্রমাণ যে আইডিটার পেছনের মানুষ কোনো একটা যাচাইয়ের ধাপ পেরিয়েছেন। এটুকুই।
এর সঙ্গে কিছু কাজের সুবিধা আসে। পোস্ট করার পরে সেটা সংশোধন করা যায়, মুছে আবার লেখার বদলে। বড় লেখা পোস্ট করা যায়, যেটা কোনো পণ্যের বিস্তারিত বোঝাতে কাজে লাগে। আর কিছু ছোট সুবিধা।
যেটা আসে না সেটা হলো নাগালের নিশ্চয়তা। ব্যাজ কিনলে বেশি মানুষ আপনার লেখা দেখবেন, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, আর এটাকে সেভাবে ভাবলে হতাশ হতে হয়।
তাই ব্যাজটাকে ভাবুন দোকানের সাইনবোর্ড হিসেবে। সাইনবোর্ড থাকলে দোকানটা বেশি ভরসার লাগে, কিন্তু সাইনবোর্ড নিজে কোনো ক্রেতা আনে না।
বিদেশি ক্রেতা কয়েক সেকেন্ডে কী দেখেন
দেশের ভেতরে বিক্রি করলে ক্রেতার হাতে অনেকগুলো নীরব ভরসা থাকে। পরিচিত পরিশোধের পদ্ধতি, নিজের টাকার হিসাব, আর সম্ভবত চেনা কারও একটা মন্তব্য।
বিদেশে বিক্রি করলে এর কোনোটাই থাকে না। পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে, ফেরত দেওয়ার নিয়ম অচেনা, আর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে ক্রেতার মনে সন্দেহ বেশি।
তখন প্রোফাইলটাকে এই কাজটা একা করতে হয়। আর ক্রেতা যা দেখেন সেটা তালিকা করলে ছোট, কিন্তু ফলাফলে বড়। পরিচয়ের ঘরটা ভরা কি না। ছবিটা কোনো কেনা লোগো নাকি সত্যিকারের কিছু। সাম্প্রতিক কিছু পোস্ট আছে কি না। আর ওই পোস্টগুলোতে কেউ সাড়া দিয়েছেন কি না।
এর কোনোটাই প্রমাণ করে না যে বিক্রেতা সৎ। কিন্তু এগুলোর অনুপস্থিতি খুব দ্রুত সন্দেহ তৈরি করে, আর অচেনা দেশের বিক্রেতার ক্ষেত্রে সেই সন্দেহটা সহজে কাটে না।
ব্যাজ থাকলেও যা ঢাকা পড়ে না
একটা মরা আইডির উপর ব্যাজ বসালে ওটা ফাঁপা দেখায়, আর ক্রেতা ভেতরে ঢুকে সেটা এক মুহূর্তে বুঝে ফেলেন।
আর এখানেই আরেকটা শর্টকাট মানুষ নেন, যেটা উল্টো ফল দেয়। অনুসরণকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া।
সমস্যাটা হলো সংখ্যাটা একা দাঁড়িয়ে থাকে না। ক্রেতা সংখ্যাটা দেখেন, তারপর পোস্টগুলোতে সাড়া দেখেন, আর দুটোর মধ্যে ফারাক থাকলে সেটা চোখে পড়ে। হাজার অনুসরণকারী আর পোস্টে দুটো সাড়া, এই জোড়াটা কোনো সংখ্যা না থাকার চেয়ে খারাপ।
ছোট কিন্তু সত্যিকারের একটা দর্শক, যেখানে মানুষ উত্তর দেন আর ভাগ করে নেন, সেটা বড় কিন্তু নীরব একটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কাজ করে। এটা নীতিকথা নয়, এটা ক্রেতা কী দেখেন তার হিসাব।
এই সাইটে এই ব্যাপারে কী আছে, আর কী নেই
এটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া দরকার, কারণ ইংরেজি লেখাটা এখানে একটা ভুল তথ্য দিয়েছে।
ইংরেজি লেখাটায় বলা হয়েছে এখানে এক্স প্রিমিয়ামের সদস্যপদ পাওয়া যায় আর সেগুলো তুলনা করে দেখা উচিত। এই মুহূর্তে এখানে এক্স প্রিমিয়ামের ঘরে একটাও তালিকা নেই। ঘরটা খালি। তাই তুলনা করার কিছু নেই, আর এখান থেকে ব্যাজ পাওয়ার কোনো পথও নেই।
যা আছে তা হলো দুটো আলাদা জিনিস। এক্সের আইডির ঘরে নয়শোর বেশি তালিকা আছে নব্বইটার মতো দোকান থেকে, আর তার মধ্যে দুইশো ঊনআশিটায় ভেরিফায়েড শব্দটা কোথাও না কোথাও লেখা আছে। আর এক্স সংক্রান্ত বৃদ্ধির সেবার ঘরে চৌত্রিশটা তালিকা আছে এগারোটা দোকান থেকে।
ওই দুইশো ঊনআশিটা নিয়ে একটা সতর্কবার্তা দরকার। তালিকায় ভেরিফায়েড লেখা থাকা আর প্ল্যাটফর্মের দেওয়া ব্যাজ থাকা এক জিনিস নয়। বিক্রেতারা এই শব্দটা অনেক আলাদা অর্থে ব্যবহার করেন, কখনো মেইল যাচাই করা বোঝাতে, কখনো ফোন নম্বর যাচাই করা বোঝাতে। তাই শব্দটা দেখে ধরে নেবেন না, জিজ্ঞেস করে নিন ঠিক কোনটা যাচাই করা।
আর শেষে সময়ের কথাটা। এখানকার প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এক্সের ঘরে তিনশোর বেশি তালিকায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম। তাই ভেরিফায়েড বলতে বিক্রেতা কী বোঝালেন সেটা হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে নিতে হয়।
