টেলিগ্রাম প্রিমিয়াম: এপিকে দিয়ে হয় না, আর কেন হয় না
বাংলাদেশ থেকে এই নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রথম দুটোই এপিকে আর ডাউনলোড। কিন্তু জিনিসটা অ্যাপে নেই, তাই নামিয়ে পাওয়ার কোনো পথও নেই।
Sarah Johnsonবাংলাদেশ থেকে টেলিগ্রাম প্রিমিয়াম নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার একদম প্রথম দুটো হলো এপিকে আর ডাউনলোড। এটা কাকতালীয় নয়, এটাই এখানকার আসল ধারণা। মানুষ ভাবছেন প্রিমিয়াম একটা অ্যাপ, আর সেটা কোথাও না কোথাও বিনামূল্যে পড়ে আছে।
তাই এই লেখাটা ওখান থেকেই শুরু, কারণ ওই ধারণাটা না ভাঙলে বাকিটা অপ্রয়োজনীয়।
এপিকে দিয়ে কেন কিছুই হয় না
প্রিমিয়াম আপনার ফোনের ভেতরে বসে থাকা কোনো জিনিস নয়। ওটা টেলিগ্রামের নিজের সার্ভারে আপনার আইডির পাশে লেখা একটা অবস্থা।
আপনি যখন চার জিবির একটা ফাইল পাঠাতে যান, ফাইলটা আপনার ফোন থেকে বেরিয়ে টেলিগ্রামের সার্ভারে যায়, আর সার্ভার তখন দেখে আপনার আইডির পাশে ওই লেখাটা আছে কি না। না থাকলে ওটা দুই জিবিতে থামিয়ে দেয়। আপনার ফোনে কোন অ্যাপ বসানো আছে সেটা এই সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকাই রাখে না।
এর মানে বদলে দেওয়া কোনো অ্যাপ প্রিমিয়াম দিতে পারে না, দিতে পারা সম্ভবও নয়। যেগুলো দাবি করে, সেগুলো সাধারণত দুটোর একটা করে। হয় শুধু চেহারাটা বদলে দেয় যাতে আপনার মনে হয় কিছু হয়েছে, নয়তো আপনার লগইনের তথ্যটা নিয়ে নেয়। দ্বিতীয়টার খরচ প্রিমিয়ামের দামের চেয়ে অনেক বেশি।
চালু করলে আসলে কী বদলায়
এটা আইডির ওপর বসে, যন্ত্রের ওপর নয়। অর্থাৎ একবার চালু হলে আপনার ফোন, কম্পিউটার আর ট্যাব, যেখানেই ওই আইডিতে ঢোকা আছে সবখানেই একসঙ্গে বদলে যায়।
- ফাইলের আকার দুই জিবি থেকে চার জিবিতে যায়। বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটাই একমাত্র সত্যিকারের কারণ।
- নামানোর গতির সীমা উঠে যায়। একই সংযোগে বড় ফাইল আগের চেয়ে দ্রুত নামে।
- কণ্ঠবার্তা লেখায় বদলে যায়। মিটিংয়ে বসে যখন শোনা যাচ্ছে না, তখন এটা কাজে দেয়।
- প্রকাশ্য চ্যানেলের বিজ্ঞাপন সরে যায়।
- ফোল্ডার, পিন করা কথোপকথন আর যোগ দেওয়া চ্যানেলের সংখ্যার সীমাগুলো মোটামুটি দ্বিগুণ হয়।
এর কোনোটাই একা যথেষ্ট নয়। কিন্তু যিনি রোজ বড় ফাইল পাঠান বা অনেকগুলো চ্যানেল সামলান, তাঁর কাছে গোটাটা মিলে দিনটা বদলে যায়। আর যিনি দিনে দশটা বার্তা পাঠান, তাঁর কাছে এর কোনোটারই দরকার নেই। এই সৎ ভাগটা করে নেওয়া আগে দরকার।
কার্ড কেন আটকায়
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি টাকা দেওয়ার চেষ্টায় সাধারণত তিনটে জায়গায় আটকায়, আর তিনটেই আপনার দোষ নয়।
এক, কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন খোলা নেই। বেশিরভাগ কার্ডে এটা আলাদা করে খুলতে হয়, আর অনেকে জানেনও না যে বন্ধ আছে। দুই, ব্যাংক অচেনা বিদেশি বিক্রেতার নামে বারবার কেটে নেওয়ার অনুরোধ নিজে থেকেই আটকে দেয়। তিন, অ্যাপ স্টোরের হিসাবটা যে দেশের নামে খোলা, সেখানে এই সেবাটা বিক্রি হয় না।
প্রথম দুটোর সমাধান ব্যাংকের কাছে, দোকানের কাছে নয়। একটা ফোন বা অ্যাপের ভেতরে একটা অনুমোদন দিলেই অনেক ক্ষেত্রে হয়ে যায়। তৃতীয়টার সমাধান নেই, ওটা দেশের ব্যাপার।
আর একটা কথা, বারবার চেষ্টা করবেন না। পরপর নাকচ হওয়া লেনদেন ব্যাংকের দিকে সন্দেহ বাড়ায়, আর তখন কার্ডটাই কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আইডি দিয়ে চালু করার পথ, আর এখানকার সত্যিকারের ছবিটা
কার্ডের পথটা একেবারেই বন্ধ থাকলে আরেকটা পথ আছে। কেউ একজন আপনার টেলিগ্রামের নাম বা সংখ্যার পরিচয় নিয়ে আপনার হয়ে চালু করে দেন। আপনার কোনো কার্ডের তথ্য কোথাও দিতে হয় না।
এখানে আমাদের নিজেদের অবস্থাটা পরিষ্কার করে বলে দেওয়া দরকার, কারণ ইংরেজি লেখাটা এটা ভুলভাবে বলেছে। এই সাইটে টেলিগ্রাম প্রিমিয়ামের ঘরে এই মুহূর্তে মাত্র একটা তালিকা আছে, একটা দোকান থেকে। কয়েকজন বিক্রেতার মধ্যে তুলনা করার মতো কিছু এখানে নেই, আর মেয়াদ অনুযায়ী আলাদা আলাদা বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও নেই।
তুলনার জন্য বলা যায়, টেলিগ্রাম আইডির ঘরে আটশোর কাছাকাছি তালিকা আছে চল্লিশের বেশি দোকান থেকে। অর্থাৎ এখানকার শক্তিটা আইডির দিকে, প্রিমিয়ামের দিকে নয়। কেউ যদি এখানে অনেকগুলো বিকল্প আশা করে আসেন, তিনি হতাশ হবেন, আর সেটা আগে জানাই ভালো।
স্টার আর প্রিমিয়াম আলাদা জিনিস
এই দুটো প্রায়ই এক করে ফেলা হয়, আর দুটোর ঘরও এখানে আলাদা।
স্টার হলো টেলিগ্রামের ভেতরকার ছোট মুদ্রা। ওটা দিয়ে কোনো বটকে টাকা দেওয়া যায়, কোনো চ্যানেলের ভেতরে কিছু খোলা যায়, বা কাউকে উপহার পাঠানো যায়। ওটা একটা ব্যালেন্স, একটা অবস্থা নয়।
প্রিমিয়াম একটা মেয়াদভিত্তিক অবস্থা, যেটা চালু থাকে বা থাকে না। স্টার জমিয়ে ফাইলের সীমা বাড়ে না। উল্টোটাও সত্যি, প্রিমিয়াম থাকলে স্টার এমনি এমনি আসে না।
চালু হওয়ার পরে যে দুটো জিনিস দেখে নেবেন
প্রথমত, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটা। বাইরে থেকে চালু করা প্রিমিয়াম নিজে থেকে আবার চালু হয় না। অ্যাপ স্টোরের সদস্যপদ যেভাবে নিজে থেকেই পরের মাসে কেটে নেয়, এখানে সেটা হয় না। তারিখটা কোথাও লিখে রাখুন, নইলে হঠাৎ একদিন সীমাগুলো ফিরে আসবে আর বুঝতেই পারবেন না কেন।
দ্বিতীয়ত, সময়। এই সাইটের প্রতিটা তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, আর সমস্যা জানানোর মেয়াদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘণ্টায় মাপা হয়, দিনে নয়। তাই হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের প্রোফাইলে চিহ্নটা এসেছে কি না দেখুন, আর একটা বড় ফাইল পাঠিয়ে সীমাটা সত্যিই বেড়েছে কি না পরীক্ষা করুন। পরে দেখব বলে ফেলে রাখলে বলার সময়টা আর থাকে না।
মেয়াদ শেষ হলে আগের ফাইলগুলো হারায় না, ওগুলো যেমন ছিল তেমনই থাকে। শুধু নতুন করে বড় ফাইল পাঠানো আর বাকি সুবিধাগুলো আগের সীমায় ফিরে যায়।
