ইমেইল দিয়ে টেলিগ্রাম খোলা যায় না, তবু ইমেইলটা সবচেয়ে জরুরি
খোঁজার তালিকায় দুবার আলাদাভাবে ইমেইলের কথা আসে, লগইন উইথ ইমেইল আর কোড বাই ইমেইল। দুটোই ভুল ধারণা, কিন্তু ইমেইলের একটা আসল কাজ আছে।
Michael Chenটেলিগ্রামের লগইন নিয়ে খোঁজার তালিকাটা শেষ হয় একটা কথায়, লগইন উইথ ইমেইল। আর কোড নিয়ে খোঁজার তালিকাটাও শেষ হয় প্রায় একইভাবে, কোড বাই ইমেইল।
দুটো আলাদা প্রশ্ন, একই ধারণা। মানুষ ভাবছেন ইমেইল দিয়ে টেলিগ্রামে ঢোকার একটা পথ আছে।
পথটা নেই। কিন্তু ইমেইলের একটা কাজ আছে, আর সেই কাজটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ওটা না করার জন্য মানুষ পরে আইডি হারান। তাই ভুল ধারণাটা ভাঙার পরেই আসল কাজটা বলা দরকার।
নম্বরটাই একমাত্র দরজা
টেলিগ্রামে ঢোকার শুরুটা সবসময় ফোন নম্বর দিয়ে, আর এটার কোনো বিকল্প নেই। আপনি নম্বর দেন, একটা কোড আসে, কোডটা দেন, আপনি ভেতরে।
কোডটা দুই জায়গায় আসতে পারে। যদি আপনি অন্য কোনো যন্ত্রে ইতিমধ্যে ঢোকা থাকেন, তাহলে কোডটা ওই টেলিগ্রামের ভেতরেই একটা বার্তা হিসেবে আসে। আর যদি কোথাও ঢোকা না থাকেন, তাহলে খুদে বার্তায় আসে।
এই প্রথমটা অনেকে জানেন না, আর এটা কাজে লাগে। নতুন ফোনে ঢুকতে গিয়ে যদি খুদে বার্তা না আসে, তাহলে পুরোনো ফোনটার টেলিগ্রাম খুলে দেখুন, কোডটা সম্ভবত ওখানেই বসে আছে।
যেটা কখনো হয় না, সেটা হলো কোড ইমেইলে আসা। যে লেখাগুলো বলে ইমেইল দিয়ে খোলা যায়, সেগুলো হয় পুরোনো, নয়তো ভুল।
রিকভারি ইমেইল মানে কী
এই ইংরেজি কথাটা বাংলায় এর মানে জানার জন্য খোঁজা হয়, তাই আগে সোজা করে বলে নেওয়া যাক।
রিকভারি ইমেইল মানে উদ্ধারের ইমেইল। এটা এমন কোনো ঠিকানা নয় যেখানে টেলিগ্রামের খবর বা বিজ্ঞপ্তি আসবে। এটার একটাই কাজ, আর সেটা বছরে একবারও লাগে না, কিন্তু যেদিন লাগে সেদিন এটা ছাড়া আর কিছু থাকে না।
কাজটা হলো, আপনি যদি দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ডটা ভুলে যান, তাহলে এই ঠিকানায় একটা লিংক পাঠিয়ে টেলিগ্রাম আপনাকে ওটা বন্ধ করতে দেয়।
এখানে দুটো কথা মনে রাখার মতো। এক, এই ঠিকানাটা চাওয়া হয় দুই ধাপের যাচাই চালু করার সময়, আর ওই মুহূর্তে অনেকে এটা এড়িয়ে যান কারণ তাড়া থাকে। দুই, এটা আপনার আইডিতে ঢোকার জন্য নয়, শুধু ওই পাসওয়ার্ডটা সরানোর জন্য।
আর সবচেয়ে দরকারি কথা, এমন একটা ঠিকানা দিন যেটাতে আপনি সত্যিই ঢুকতে পারেন। মানুষ এখানে পুরোনো একটা ঠিকানা বসিয়ে দেন যেটার পাসওয়ার্ড তাঁরাও ভুলে গেছেন, আর তাতে সুরক্ষাটা কাগজে থাকে বাস্তবে থাকে না।
নম্বর হারানোর ঝুঁকিটা এখানে বেশি
পুরো ব্যবস্থাটা নম্বরের উপর দাঁড়িয়ে, আর বাংলাদেশে নম্বর হারানোর কারণগুলো একটু আলাদা।
সবচেয়ে সাধারণ কারণটা হারিয়ে যাওয়া নয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া। অনেকদিন কোনো ব্যবহার না থাকলে বা রিচার্জ না করলে নম্বর বন্ধ হয়ে যায়, আর কিছুদিন পরে সেটা অন্য কারও হাতে চলে যেতে পারে।
এখানেই আসল বিপদটা। আপনার পুরোনো নম্বরটা যদি অন্য কেউ পান, তিনি ওই নম্বর দিয়ে টেলিগ্রামে ঢোকার চেষ্টা করলে কোডটা তাঁর কাছেই যাবে। তখন একমাত্র যে জিনিসটা তাঁকে আটকাবে, সেটা হলো দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ড।
অর্থাৎ ওই পাসওয়ার্ডটা শুধু হ্যাকারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নয়। ওটা আপনার নিজের পুরোনো নম্বরের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা। এই দিকটা প্রায় কেউ বলে না, অথচ এখানে এটাই বেশি ঘটে।
দ্বিতীয় সাধারণ কারণটা হলো বিদেশে যাওয়া। সিম বদলে গেলে পুরোনো নম্বরে আর কোড আসে না, অথচ আইডিটা ওই নম্বরের নামেই আছে।
প্রথম লগইনের পরে পাঁচ মিনিটের কাজ
এই কাজগুলো একবার করতে হয়, আর করলে ভবিষ্যতের বেশিরভাগ ঝামেলা আগেই শেষ হয়ে যায়।
- দুই ধাপের যাচাই চালু করুন, আর এমন একটা পাসওয়ার্ড দিন যেটা আপনি অন্য কোথাও ব্যবহার করেন না।
- ওই একই পর্দায় উদ্ধারের ইমেইল ঠিকানাটা দিন। এই ধাপটা এড়িয়ে যাওয়া যায়, আর এখানেই মানুষ ভুলটা করেন।
- যন্ত্রের তালিকা একবার দেখে নিন, বিশেষ করে যদি আইডিটা নতুন না হয়।
- ফোন নম্বরটা কারা দেখতে পাবেন সেটা ঠিক করে নিন।
এই শেষটা নিয়ে আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এটা বাংলাদেশে বেশি কাজে লাগে।
নম্বরটা লুকিয়ে রাখা
টেলিগ্রামে আপনার ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবেন, সেটা আপনি নিজে ঠিক করতে পারেন। আর ব্যবস্থাটা দুই স্তরের, যেটা অনেকে গুলিয়ে ফেলেন।
প্রথম স্তর, কে আপনার নম্বরটা দেখতে পাবেন। এটা সবার জন্য বন্ধ করে দেওয়া যায়।
দ্বিতীয় স্তর, কে আপনার নম্বর দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাবেন। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার নম্বরটা আগে থেকেই জানেন আর ফোনের তালিকায় সেভ করেন, তাহলে তিনি আপনাকে টেলিগ্রামে দেখতে পাবেন কি না।
এই দুটো আলাদা সেটিং, আর প্রথমটা বন্ধ করলেই দ্বিতীয়টা বন্ধ হয় না। যিনি ব্যবসার কাজে বা প্রকাশ্য কোনো ভূমিকায় টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন, তাঁর জন্য দুটোই আলাদা করে দেখে নেওয়া দরকার।
আর একটা সহজ সমাধান আছে যেটা কম ব্যবহার হয়। ব্যবহারকারীর নাম, অর্থাৎ ইউজারনেম বসিয়ে নিলে মানুষ আপনাকে নম্বর ছাড়াই খুঁজে পান আর বার্তা পাঠাতে পারেন। তখন নম্বরটা কাউকে দেওয়ারই দরকার পড়ে না।
কোথায় বসাবেন, আর কোনটা কোন কাজের
তিনটে জায়গা আছে, আর তিনটে তিন কাজের।
ফোনের অ্যাপটা মূল জায়গা, কারণ প্রথম নিবন্ধনটা ওখান থেকেই সবচেয়ে সহজ, আর কোডটা ওই ফোনেই আসে।
কম্পিউটারের অ্যাপটা বড় ফাইল আর লম্বা লেখার জন্য। এটা ফোনের বদলে নয়, ফোনের সঙ্গে। একই আইডি দুই জায়গায় একসঙ্গে চলে।
আর ব্রাউজারের সংস্করণটা এমন কম্পিউটারের জন্য যেটা আপনার নিজের নয়, যেমন অফিসের বা কারও বাড়ির। এখানে কিছু বসাতে হয় না, তাই কিছু পড়েও থাকে না।
কিন্তু এই শেষটা নিয়ে একটা সাবধানতা। ব্রাউজার বন্ধ করে দিলে আপনি বেরিয়ে যান না, ঢুকে থাকা অবস্থাটা থেকে যায়। অন্যের কম্পিউটার থেকে উঠে আসার আগে সত্যিকারের লগ আউট করে আসতে হয়, নইলে পরের জন আপনার সব পড়তে পারবেন।
যদি সত্যিই আটকে যান
শেষে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার, কারণ এই জায়গায় দুটো আলাদা জিনিস গুলিয়ে দেওয়া হয়।
নম্বর হারিয়ে ফেলা আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার পরে ফেরার পথটা সময়সাপেক্ষ, আর কখনো কখনো পথটা থাকেই না। এটা সত্যি আর এটা লুকিয়ে লাভ নেই।
কিন্তু তার সমাধান হিসেবে আরেকটা আইডি কিনে নেওয়াটা উদ্ধার নয়। ওটা একটা নতুন শুরু। আপনার পুরোনো কথোপকথন, পরিচিতি আর চ্যানেলগুলো ওতে ফিরে আসে না, আর দুটোকে এক করে ভাবলে হতাশা বাড়ে।
যদি আপনার দরকার শুধু একটা চালু আইডি, তাহলে এই সাইটে টেলিগ্রামের ঘরে আটশোটা তালিকা আছে বিয়াল্লিশটা দোকান থেকে। তার মধ্যে বাংলাদেশের নম্বরের উল্লেখ আছে মাত্র তেরোটায়, আর আমেরিকার সাতানব্বইটায়, তাই দেশি নম্বর আশা করলে হতাশ হতে হবে।
আর কেনা আইডির ক্ষেত্রে এই লেখার পাঁচ মিনিটের কাজটা আরও জরুরি হয়ে যায়, কারণ ওখানে দুই ধাপের যাচাই আগে থেকেই বসানো থাকতে পারে আর উদ্ধারের ইমেইলটা অন্য কারও। এই ঘরের আটশোর মধ্যে তিনশো তেষট্টিটা তালিকায় দুই ধাপের কথা লেখা আছে। তাই হাতে পেয়েই ইমেইলটা নিজের নামে বদলে নিন।
Frequently Asked Questions
যায় না। নিবন্ধন সবসময় ফোন নম্বর দিয়ে শুরু হয় আর এটার কোনো বিকল্প নেই। কোডও ইমেইলে আসে না। যে লেখাগুলো ইমেইল দিয়ে খোলার কথা বলে সেগুলো হয় পুরোনো নয়তো ভুল। ইমেইলের একটা আলাদা কাজ আছে, কিন্তু সেটা ঢোকার জন্য নয়।
শুধু একটা কাজে। দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ডটা ভুলে গেলে ওই ঠিকানায় একটা লিংক পাঠিয়ে টেলিগ্রাম আপনাকে সেটা বন্ধ করতে দেয়। এটা কোনো বিজ্ঞপ্তির ঠিকানা নয় আর এটা দিয়ে আইডিতে ঢোকাও যায় না। এমন ঠিকানা দিন যেটাতে আপনি সত্যিই এখনো ঢুকতে পারেন।
প্রথমে পুরোনো ফোনটার টেলিগ্রাম খুলে দেখুন। আপনি যদি অন্য কোনো যন্ত্রে ইতিমধ্যে ঢোকা থাকেন, তাহলে কোডটা খুদে বার্তায় না গিয়ে ওই টেলিগ্রামের ভেতরেই একটা বার্তা হিসেবে আসে। অনেকে এটা জানেন না আর খুদে বার্তার অপেক্ষায় বসে থাকেন।
নম্বরটা কিছুদিন পরে অন্য কারও হাতে যেতে পারে, আর তিনি ওই নম্বর দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে কোডটা তাঁর কাছেই যাবে। তখন একমাত্র যেটা তাঁকে আটকাবে সেটা দুই ধাপের যাচাইয়ের পাসওয়ার্ড। অর্থাৎ ওই পাসওয়ার্ডটা শুধু হ্যাকারের বিরুদ্ধে নয়, আপনার নিজের পুরোনো নম্বরের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা।
যায়, আর ব্যবস্থাটা দুই স্তরের যেটা অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। এক, কে আপনার নম্বর দেখতে পাবেন। দুই, কে আপনার নম্বর দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাবেন। প্রথমটা বন্ধ করলেই দ্বিতীয়টা বন্ধ হয় না, দুটো আলাদা করে দেখতে হয়। আর একটা ইউজারনেম বসিয়ে নিলে নম্বর কাউকে দেওয়ারই দরকার পড়ে না।
ওটা উদ্ধার নয়, ওটা নতুন শুরু। পুরোনো কথোপকথন, পরিচিতি আর চ্যানেল ফিরে আসে না। যদি শুধু একটা চালু আইডি দরকার হয় তাহলে এই সাইটে আটশোটা তালিকা আছে বিয়াল্লিশটা দোকান থেকে, তবে বাংলাদেশের নম্বরের উল্লেখ আছে মাত্র তেরোটায়। আর কেনার পরে উদ্ধারের ইমেইলটা নিজের নামে বদলে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

Michael Chen
প্রযুক্তি উৎসাহী এবং কন্টেন্ট কৌশলবিদ, যিনি Instagram ও Facebook মার্কেটিং-এ বিশেষজ্ঞ। নতুন ট্রেন্ড অন্বেষণ করতে এবং কমিউনিটির সাথে অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করতে ভালোবাসেন।
