মানুষ চ্যানেল কীভাবে খোঁজে, আর সেখান থেকে উল্টো হিসাব
টেলিগ্রাম চ্যানেল নিয়ে যা খোঁজা হয় তার প্রায় সবটাই খোঁজার দিক থেকে, লিংক, সার্চ, ফাইন্ডার। ওই তালিকাটাই বলে দেয় মালিককে কোথায় থাকতে হবে।
Michael Chenটেলিগ্রাম চ্যানেল নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয়, তার তালিকাটা মালিকের নয়, দর্শকের। চ্যানেল লিংক, চ্যানেল সার্চ, চ্যানেল ফাইন্ডার, চ্যানেলের নাম।
মালিকের দিক থেকে আসা প্রশ্ন ওখানে একটাই, চ্যানেল খুলবো কিভাবে।
এটা আসলে সুবিধার। কারণ মানুষ কীভাবে খোঁজে সেই তালিকাটাই বলে দেয় মালিককে কোথায় থাকতে হবে। এই লেখাটা ওই উল্টো হিসাবটা করে।
টেলিগ্রামের নিজের সার্চ কেন যথেষ্ট নয়
অ্যাপের ভেতরে যে খোঁজার ঘরটা আছে, ওটা মূলত নাম মেলায়। আপনি যা লেখেন, সেটার সঙ্গে চ্যানেলের নাম বা ব্যবহারকারীর নাম মেলে কি না দেখে।
ভেতরের লেখাগুলো ওখানে খোঁজা হয় না। অর্থাৎ আপনার চ্যানেলে যদি রান্নার একশোটা রেসিপি থাকে কিন্তু নামটা হয় আমার ছোট্ট জগৎ, তাহলে রান্না লিখে কেউ আপনাকে পাবেন না।
এখান থেকেই প্রথম আর সবচেয়ে সস্তা কাজটা বেরিয়ে আসে। নামের মধ্যে আর ব্যবহারকারীর নামের মধ্যে সেই শব্দটা রাখুন যেটা মানুষ খুঁজবে।
এটা করতে দুই মিনিট লাগে আর এটা যেকোনো দিন বদলানো যায়। অথচ বেশিরভাগ চ্যানেলের নাম এমন কিছু যেটা শুধু মালিকের কাছে অর্থপূর্ণ।
একটা বাস্তব কথা, বাংলা নাম নাকি ইংরেজি। যদি আপনার পাঠক বাংলায় খোঁজেন তাহলে বাংলাতেই রাখুন। কিন্তু অনেকে বাংলা শব্দ ইংরেজি অক্ষরে লিখে খোঁজেন, তাই দুটোই কাজে লাগতে পারে। নামের মধ্যে একটা আর পরিচয়ের অংশে অন্যটা রাখলে দুই দিকই ধরা পড়ে।
মানুষ আসলে যে তিনটে পথে খুঁজে পান
খোঁজার তালিকাটা তিনটে আলাদা অভ্যাস দেখায়, আর তিনটের জন্য মালিকের কাজ আলাদা।
এক, কারও কাছ থেকে লিংক পেয়ে। এটাই সবচেয়ে বড় পথ, আর তালিকায় চ্যানেল লিংক শব্দটা ওপরের দিকে থাকা সেটাই বলে। কেউ একজন কোথাও আপনার চ্যানেলের লিংকটা পাঠান, আর নতুন মানুষ আসেন।
এর মানে মালিকের কাজ হলো লিংকটা পাঠানো সহজ করা। একটা ছোট আর মনে রাখার মতো ব্যবহারকারীর নাম রাখুন, কারণ লম্বা এলোমেলো লিংক মানুষ কপি করে পাঠাতে ভুলে যান।
দুই, বাইরের কোনো তালিকা বা সাইট থেকে। চ্যানেল ফাইন্ডার আর চ্যানেল সার্চ, এই দুটো শব্দ ওই অভ্যাসটা দেখাচ্ছে। মানুষ টেলিগ্রামের বাইরে গিয়ে গুগলে খোঁজেন।
এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার। প্রকাশ্য চ্যানেলের একটা ওয়েব ঠিকানা থাকে যেটা ব্রাউজারেও খোলে, আর ওটা গুগল দেখতে পারে। তাই চ্যানেলের পরিচয়ের ঘরে স্পষ্ট করে লেখা থাকা যে এটা কী নিয়ে, সেটা টেলিগ্রামের ভেতরের চেয়ে বাইরে বেশি কাজে লাগে।
তিন, অন্য চ্যানেল বা গ্রুপ থেকে। এটা ধীর কিন্তু এখান থেকে যাঁরা আসেন তাঁরা থাকেন, কারণ তাঁরা আগে থেকেই ওই বিষয়ে আগ্রহী।
বাইরের তালিকায় নাম লেখানো নিয়ে সাবধানতা
যেসব সাইট চ্যানেলের তালিকা রাখে, সেগুলোতে নাম লেখানো যায়, আর কিছু ক্ষেত্রে সেটা কাজেও লাগে।
কিন্তু এখানে একটা লাইন আছে যেটা পার হওয়া চলবে না। কোনো তালিকা যদি নাম লেখানোর জন্য আপনার টেলিগ্রামে ঢোকার সুযোগ চায়, অর্থাৎ নম্বর আর কোড চায়, তাহলে সেটা তালিকা নয়। চ্যানেলের নাম আর লিংক জমা নিতে কারও আপনার আইডিতে ঢোকার দরকার হয় না।
এই ফাঁদটা এখানে সাধারণ, আর এটার মোড়কটা সাধারণত বিনামূল্যে প্রচারের প্রতিশ্রুতি। খোঁজার তালিকায় প্রমোট ফ্রি কথাটা দ্বিতীয় স্থানে আছে, তাই চাহিদাটাও আছে।
যা দেওয়া নিরাপদ, সেটা হলো আপনার চ্যানেলের প্রকাশ্য লিংকটা। ওটা এমনিতেই সবার জন্য খোলা। যা কখনো দেবেন না, সেটা হলো কোড।
ঢোকার আগে মানুষ কী দেখেন
খুঁজে পাওয়া আর যোগ দেওয়া এক জিনিস নয়। কেউ লিংকে চাপ দিলে তিনি একটা পর্দা দেখেন, আর সেখান থেকেই ঠিক করেন ঢুকবেন কি না।
ওই পর্দায় যা থাকে তা হলো চ্যানেলের নাম, একটা ছবি, সদস্য সংখ্যা, পরিচয়ের কয়েকটা লাইন, আর শেষ কয়েকটা পোস্ট।
এর মধ্যে দুটো জিনিস সবচেয়ে বেশি কাজ করে, আর দুটোই মালিকের হাতে।
প্রথমটা পরিচয়ের প্রথম লাইন। ওটা যদি না বলে চ্যানেলটা কী নিয়ে, তাহলে বাকিটা কেউ পড়েন না। এখানে সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো স্বাগত জানানো দিয়ে শুরু করা। ওই জায়গাটা স্বাগত জানানোর জন্য নয়, ওটা পরিচয় দেওয়ার জন্য।
দ্বিতীয়টা শেষ পোস্টের তারিখ। যদি শেষ পোস্টটা তিন মাস আগের হয়, তাহলে আর কিছুই দেখার দরকার হয় না। মানুষ চলে যান।
এই দ্বিতীয়টার একটা কড়া ফল আছে। অনিয়মিত অনেক পোস্টের চেয়ে নিয়মিত কম পোস্ট ভালো, কারণ যে কেউ যেকোনো দিন এসে পড়তে পারেন, আর তিনি যা দেখবেন সেটা হলো শেষ কবে কিছু হয়েছে।
প্রাইভেট চ্যানেল বেছে নিলে যা হারায়
খোঁজার তালিকায় প্রাইভেট চ্যানেল কথাটা আলাদা করে আসে, তাই এই সিদ্ধান্তটা নিয়ে বলা দরকার।
প্রাইভেট চ্যানেলে ঢোকা যায় শুধু একটা আমন্ত্রণের লিংক দিয়ে। ওটার কোনো ব্যবহারকারীর নাম থাকে না, আর সেখান থেকেই সব ফল বেরিয়ে আসে।
যা হারায় তা হলো এই লেখার প্রায় সবটা। অ্যাপের ভেতরের খোঁজায় ওটা আসে না, কারণ মেলানোর মতো কোনো নাম নেই। গুগলেও আসে না, কারণ ব্রাউজারে খোলার মতো কোনো ঠিকানা নেই। আর বাইরের কোনো তালিকাতেও ওটার জায়গা নেই।
অর্থাৎ প্রাইভেট চ্যানেলে নতুন মানুষ আসার একটাই পথ থাকে, কেউ একজন হাতে করে লিংকটা পাঠাচ্ছেন।
এর মানে এই নয় যে প্রাইভেট খারাপ। যদি চ্যানেলটা একটা নির্দিষ্ট দলের জন্য হয়, যেমন অফিসের কাজ বা টাকা দিয়ে নেওয়া সদস্যদের জন্য, তাহলে প্রাইভেটই ঠিক আর তখন আবিষ্কারের প্রশ্নটাই ওঠে না।
গোলমালটা হয় তখন, যখন কেউ চ্যানেলটা প্রাইভেট রেখে দেন অভ্যাসবশে বা নিরাপত্তার ভুল ধারণা থেকে, আর তারপর অবাক হন কেন কেউ আসছে না। যদি চান নতুন মানুষ নিজে থেকে খুঁজে পান, তাহলে প্রকাশ্য হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
একটা কাজের মাঝামাঝি পথও আছে। চ্যানেলটা প্রকাশ্য রেখে ভেতরে কে লিখতে পারবে সেটা সীমিত করে দেওয়া যায়। তাতে খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকে, আর নিয়ন্ত্রণও থাকে। বেশিরভাগ মানুষ যা চান, সেটা আসলে এটাই।
সদস্য কিনলে যা হয়
এখানে আমাদের নিজেদের অবস্থানটা সোজাসুজি বলে দেওয়া দরকার, কারণ সাধারণত এই জায়গায় একটা পরামর্শ দেওয়া হয় যেটা আসলে ক্ষতি করে।
সদস্য সংখ্যা একা দাঁড়িয়ে থাকে না। টেলিগ্রামে প্রতিটা পোস্টের নিচে কতজন দেখেছেন সেটা লেখা থাকে, আর যে কেউ ওটা দেখতে পান।
তাই যদি সদস্য দশ হাজার আর পোস্টে দেখার সংখ্যা চল্লিশ, সেটা যে কেউ এক নজরে বুঝে ফেলেন। আর এই জোড়াটা কম সদস্য থাকার চেয়ে অনেক খারাপ দেখায়, কারণ এটা শুধু ছোট নয়, এটা অসৎ দেখায়।
একটা নতুন চ্যানেলে দুশো সদস্য আর পোস্টে দেড়শো দেখা, এটা স্বাস্থ্যকর দেখায়। দশ হাজার সদস্য আর চল্লিশ দেখা, এটা মৃত দেখায়।
এই সাইটে টেলিগ্রামের বৃদ্ধির সেবার ঘরে এই মুহূর্তে একুশটা তালিকা আছে, তিনটে দোকান থেকে। তুলনায় ইনস্টাগ্রামের ঘরে তেষট্টিটা আর টুইটারের ঘরে চৌত্রিশটা। অর্থাৎ টেলিগ্রামের এই ঘরটা এখানকার সবচেয়ে ছোট ঘর, আর এটাকে সমাধান হিসেবে দেখানোর মতো অবস্থায় নেই।
আর সময় নিয়ে একটা সৎ কথা। জৈবিকভাবে বাড়তে কতদিন লাগে, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর এখানে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ সেটা মাপা যায় না আর যেকোনো সংখ্যা বানানো হবে। যেটা বলা যায় সেটা হলো, উপরের কাজগুলোর মধ্যে নাম বদলানো আর পরিচয়ের প্রথম লাইন ঠিক করা আজই করা যায়, আর ওই দুটোই সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বেশি ফল দেয়।
