বিকল্প বাজার খোঁজার সময় আসলে কোন সংখ্যাটা দেখবেন
সুবিধার তালিকা দিয়ে দুটো বাজারের তুলনা হয় না, কারণ ওগুলো কেউ মাপতে পারে না। যেটা মাপা যায় সেটা হলো তাকের গভীরতা আর কতজন বিক্রেতা, আর এখানে সেই সংখ্যাগুলো দেওয়া আছে।
Michael Chenএই নামটা নিয়ে বাংলায় একটাও প্রশ্ন খোঁজা হয় না, একটাও না। ইংরেজিতেও যা খোঁজা হয় তার মধ্যে কাজের মাত্র দুটো, একটা হলো এরকম আর কোন সাইট আছে, আরেকটা হলো এদের নিয়ে মানুষ কী বলছেন।
আরও একটা কথা লক্ষ করার মতো। বাংলায় আইডি কেনা নিয়ে কোনো প্রশ্নই খোঁজা হয় না। বাংলায় যা খোঁজা হয় সেটা আইডি খোলা, আইডি ফেরত পাওয়া আর আইডি মোছা। কেনার প্রশ্নটা যখন আসে, তখন সেটা ইংরেজিতে আসে। এটা জেনে রাখা দরকার, কারণ এর মানে এই বিষয়ে বাংলায় লেখা তথ্য কার্যত নেই।
তাই এই লেখাটা কোনো সুবিধার তালিকা নয়। এটা একটাই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা, দুটো জায়গার মধ্যে তুলনা করতে গেলে সত্যিই কী মাপা যায়।
তুলনার তালিকার বেশিরভাগ কথা মাপা যায় না
এই ধরনের পাতায় সাধারণত যা লেখা থাকে সেগুলো একবার দেখে নিন। দ্রুত সহায়তা। ভালো সুরক্ষা। স্বচ্ছ ব্যবস্থা। ন্যায্য নিয়ম।
এর একটাও যাচাই করা যায় না। দ্রুত মানে কত, ভালো মানে কীসের তুলনায়, ন্যায্য মানে কার হিসাবে। যে পাতা এই কথাগুলো দিয়ে ভরা, সেটা পড়ে আপনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, শুধু একটা অনুভূতি নিয়ে বেরোবেন।
আর একটা কথা। প্রতিযোগীর সম্পর্কে দাবি করা আরও অর্থহীন, কারণ তাদের ভেতরের ব্যবস্থা কেউ বাইরে থেকে দেখতে পান না। তাই এখানে অন্য কোনো জায়গা সম্পর্কে একটাও দাবি করা হয়নি। যা আছে তা হলো এখানকার নিজের সংখ্যা, যেগুলো যে কেউ পাতা খুলে গুনে দেখতে পারেন।
যা সত্যিই মাপা যায়, তিনটে জিনিস
ক্রেতা হিসেবে যেকোনো বাজার বিচার করার জন্য এই তিনটেই যথেষ্ট, আর তিনটেই পাতা খুলে দেখা যায়।
- তাকের গভীরতা। আপনার দরকারি ঘরে এই মুহূর্তে কতগুলো জিনিস আসলে কেনার মতো অবস্থায় আছে। মোট সারির সংখ্যা নয়, চালু সংখ্যাটা।
- কতজন আলাদা বিক্রেতা। ওই তাকে কতগুলো আলাদা দোকান আছে। এটাই সবচেয়ে কম দেখা হয় আর সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
- কেন্দ্রীভবন। ওই তাকের কত অংশ একজনের হাতে। এটা বেশি হলে দাম আর মান দুটোই একজনের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে থাকে।
একটা উদাহরণে বোঝা সহজ। পাঁচশো তালিকা যদি তিনজন বিক্রেতার হয়, সেটা আসলে তিনটে পছন্দ। আর দুশো তালিকা যদি চল্লিশজনের হয়, সেটা চল্লিশটা পছন্দ। প্রথমটা দেখতে বড়, দ্বিতীয়টা কাজে বড়।
এখানকার তাকগুলোর মাপ
আজকের হিসাব, চালু তালিকা আর আলাদা দোকান, দুটোই।
- ইনস্টাগ্রাম: আড়াই হাজারের বেশি তালিকা, দুইশো চল্লিশের বেশি দোকান। এখানকার সবচেয়ে গভীর তাক, দুই দিক থেকেই।
- জিমেইল: ষোলোশোর বেশি তালিকা, একশো আশির বেশি দোকান।
- ফেসবুক: চোদ্দশোর বেশি তালিকা, একশোর বেশি দোকান।
- টেলিগ্রাম: আটশোর কাছাকাছি তালিকা, কিন্তু দোকান মাত্র চল্লিশের কিছু বেশি।
- ডিসকর্ড: সাড়ে তিনশোর বেশি তালিকা, চল্লিশের বেশি দোকান।
- ইউটিউব: একশোর কিছু বেশি তালিকা, তিরিশটা দোকান। সরু তাক।
এই তালিকাটা যা বলে সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ার মতো। টেলিগ্রামে তালিকার সংখ্যা ডিসকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি, কিন্তু দোকানের সংখ্যা প্রায় সমান। অর্থাৎ টেলিগ্রামের তাকে গড়ে প্রতিটা দোকানের অনেক বেশি মাল, আর সেটা কেন্দ্রীভবনের লক্ষণ। ইউটিউবের ঘরে দুটো সংখ্যাই ছোট, তাই ওখানে বেছে নেওয়ার সুযোগ কম, আর সেটা আগে জেনে যাওয়াই ভালো।
সদস্যপদ বা প্রিমিয়ামের মতো ঘরগুলোয় ছবিটা আরও কড়া। টেলিগ্রাম প্রিমিয়ামের ঘরে এই মুহূর্তে একটাই তালিকা, একটাই দোকান। ইউটিউব প্রিমিয়ামে দুটো। এই ঘরগুলোয় তুলনা করার মতো কিছুই নেই, আর সেটা বলে দেওয়াই সৎ কাজ।
সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচশোর বেশি দোকান আর প্রায় সতেরো হাজার চালু তালিকা। তার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে আলাদা করে তিরিশ হাজারের বেশি সেবা।
মোট সারি আর চালু তালিকা, এক জিনিস নয়
এই ফারাকটা যেকোনো জায়গায় দেখার সময় মাথায় রাখুন।
এখানে মোট সারির সংখ্যা চালু তালিকার প্রায় দ্বিগুণ। ফেসবুকের ঘরে সারি প্রায় পাঁচ হাজার, চালু চোদ্দশো। জিমেইলে সারি প্রায় চার হাজার, চালু ষোলোশো।
এটা কোনো গোলমাল নয়, ডিজিটাল জিনিসের মজুত সত্যিই ফুরিয়ে যায় আর তখন সারিটা থেকে যায় কিন্তু কেনা যায় না। কিন্তু এর একটা ব্যবহারিক ফল আছে। কোনো জায়গা যদি বড় সংখ্যা দেখিয়ে বলে তাদের এত হাজার তালিকা আছে, সেটা সম্ভবত মোট সারির সংখ্যা বলছে। আপনার কাজে লাগবে দ্বিতীয় সংখ্যাটা, আর সেটা জানার একমাত্র উপায় হলো নিজে পাতা খুলে দেখা।
পরিচয় না দিয়ে কেনার ব্যাপারটা
এই সুবিধাটা প্রায়ই বড় করে লেখা হয়, তাই দুটো দিকই বলা দরকার।
হ্যাঁ, লগইন না করেও কেনা যায়। শুধু একটা মেইল ঠিকানা লাগে, আর টাকা দেওয়ার আগে কোনো একাউন্টও তৈরি হয় না।
কিন্তু এর দাম আছে। একই নেটওয়ার্ক থেকে পরপর এভাবে অর্ডার করার সংখ্যায় সীমা বসানো আছে, আর সদস্যদের জন্য যে ছাড় আছে সেটা এই পথে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ পরিচয় গোপন রাখার বিনিময়ে আপনি বেশি দাম দিচ্ছেন। এটা একটা বিনিময়, বিনামূল্যের সুবিধা নয়। কোনটা কার জন্য, সেটা আলাদা পাতায় ভাগ করে লেখা আছে।
সরার আগে যে পরীক্ষাটা করবেন
বড় করে সরার আগে সবচেয়ে সস্তা যাচাইটা হলো একটা ছোট অর্ডার, আর সেটা করতে এক ঘণ্টাও লাগে না।
- আপনার দরকারি ঘরটা খুলুন আর গুনে দেখুন সত্যিই কতগুলো কেনার মতো অবস্থায় আছে। যে সংখ্যাটা প্রচারে লেখা, সেটার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- একই জিনিস আলাদা দুটো দোকান থেকে দেখুন। তালিকার লেখায় কোন কোন ঘর ভরা আছে আর কোনটা ফাঁকা, সেই ফারাকটাই আসল তথ্য।
- সবচেয়ে সস্তাটা নয়, মাঝামাঝি দামের একটা নিন, আর হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে দেখুন।
এই তিনটে করার পরে আপনি যা জানবেন, সেটা কোনো তুলনার তালিকা থেকে জানা যায় না। আর যেখানে ছোট অর্ডার দিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই, সেখানে বড় টাকা রাখার প্রশ্নই ওঠে না।



