ইনস্টাগ্রামে শেয়ার: জিনিসটা কী, আর কেনার আগে কী দেখবেন
শেয়ার ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে ভারী সংকেতগুলোর একটা, অথচ কেনার তাকে এটাই সবচেয়ে ছোট ঘর। কেন ছোট, আর ভেতরের তালিকাগুলো আসলে কী বিক্রি করছে।
Sarah Johnsonবাংলায় ইনস্টাগ্রাম শেয়ার লিখে খুঁজলে যা আসে তার একটাও কেনাবেচা নিয়ে নয়। সবগুলোই কীভাবে একটা পোস্ট স্টোরিতে পাঠাতে হয়, সেই ধরনের প্রশ্ন। একটা ফল আবার শেয়ারবাজারের দাম নিয়ে, কারণ শব্দটা দুই অর্থেই চলে।
অর্থাৎ এই বিষয়ে বাংলায় কেনার কোনো চাহিদাই নেই। তাই আগে জিনিসটা কী সেটা, তারপর কেনার প্রশ্ন।
ইনস্টাগ্রাম কোনগুলোকে শেয়ার বলে
একটা পোস্ট অন্যের কাছে পৌঁছানোর কয়েকটা আলাদা পথ আছে, আর ইনস্টাগ্রাম সবগুলোকে এক করে গোনে না।
- বার্তায় পাঠানো। কাগজের উড়োজাহাজের চিহ্নে চেপে কাউকে পোস্টটা পাঠানো। এটাই সবচেয়ে সাধারণ শেয়ার।
- নিজের স্টোরিতে দেওয়া। কেউ আপনার পোস্টটা তাঁর স্টোরিতে বসালে সেটা তাঁর সব ফলোয়ার দেখেন।
- লিংক কপি করে বাইরে পাঠানো। এটা ইনস্টাগ্রামের নিজের হিসাবে আসে না, কারণ কাজটা অ্যাপের বাইরে হয়।
প্রথম দুটোর সংখ্যা ইনসাইটসে আলাদা করে দেখা যায়, আর ইনসাইটসের জন্য একাউন্টটা পেশাদার হতে হয়।
শেয়ার আর লাইকের আসল ফারাক
এই ফারাকটা ওজনের নয়, কাজের।
লাইক দিলে পোস্টটা কোথাও যায় না, শুধু একটা সংখ্যা বাড়ে। শেয়ার করলে পোস্টটা সত্যি সত্যি নতুন একজন মানুষের পর্দায় গিয়ে বসে, আর সেই মানুষটি আপনাকে চেনেনও না।
এটাই একমাত্র সাড়া যেটা নিজে থেকেই পৌঁছানো বাড়ায়, ইনস্টাগ্রাম কিছু ঠিক করার আগেই। বন্ধুকে পাঠানো একটা পোস্ট ওই বন্ধুর কাছে যাবেই, কোনো হিসাব ওটাকে আটকাতে পারে না।
আর একটা কথা আছে যেটা কম বলা হয়। শেয়ারের সঙ্গে একটা সুপারিশ জুড়ে থাকে। কেউ যখন কিছু পাঠান তখন তিনি নিজের নাম দিয়ে সেটা পাঠান, আর সেই কারণেই মানুষ যা তা পাঠান না।
যে পোস্টগুলো মানুষ সত্যিই পাঠান
এখানে একটা সহজ পরীক্ষা আছে: আপনি নিজে গত সপ্তাহে কী কী পাঠিয়েছেন, সেটা মনে করুন।
প্রায় সবসময় চারটের একটা হয়। কাজে লাগবে এমন কিছু, যেমন দাম, নিয়ম বা তালিকা। এমন কিছু যা দেখে কারও কথা মনে পড়েছে। এমন কিছু যা হাসিয়েছে। বা এমন কিছু যা আপনি বিশ্বাস করেন আর অন্যকেও বিশ্বাস করাতে চান।
এর বাইরের পোস্টগুলো, যতই সুন্দর হোক, কেউ পাঠান না। নিজের সুন্দর ছবি মানুষ লাইক দেন, পাঠান না।
একটা বাড়তি কথা: সরাসরি বলে দিলে সংখ্যাটা বাড়ে। যাঁর কাজে লাগবে তাঁকে পাঠিয়ে দিন, ক্যাপশনের শেষে এই এক লাইনটা লিখলে অনেকে সত্যিই পাঠান।
কেনার তাকে শেয়ারের ঘরটা কেন এত ছোট
এখানকার তালিকা মেপে দেখা গেছে, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে ইনস্টাগ্রামের চালু পরিষেবা চার হাজার চারশোর বেশি, এগারোজন সরবরাহকারীর কাছ থেকে।
তার মধ্যে শেয়ারের তালিকা মাত্র একশোর সামান্য বেশি। তুলনায় লাইক আর ফলোয়ারের ঘরে তেরোশোর বেশি করে তালিকা আছে, মন্তব্যে নয়শোর কাছাকাছি। অর্থাৎ শেয়ার এই তাকের সবচেয়ে ছোট ঘরগুলোর একটা।
কারণটা কারিগরি। লাইক বসানোর কাজটা একটা চাপে হয়ে যায়। শেয়ার মানে কারও একাউন্ট থেকে আরেকজনকে সত্যিই পোস্টটা পাঠানো, বা কারও স্টোরিতে সেটা বসানো। কাজটা ভারী, তাই সরবরাহও কম।
এর একটা সরাসরি অর্থ আছে ক্রেতার জন্য: বেছে নেওয়ার সুযোগ এখানে কম, আর তাই তুলনা করার জায়গাও কম।
শেয়ারের তালিকা পড়ার নিয়ম
একই ঘরে দুই রকম জিনিস বসে আছে, আর দুটো একেবারে আলাদা কাজ করে। নাম দেখে ফারাক করা যায় না, সংখ্যা দেখে যায়।
বেশিরভাগ তালিকায় সর্বনিম্ন সংখ্যা দশ বা একশো আর সর্বোচ্চ কয়েক লাখ। এগুলো পাইকারি, অর্থাৎ অনেকগুলো অচেনা একাউন্ট থেকে পোস্টটা পাঠানো হয়।
কিন্তু ওই একশোর মধ্যে সতেরোটা তালিকায় সর্বনিম্ন আর সর্বোচ্চ দুটোই এক। ওগুলো পাইকারি নয়, একটা নির্দিষ্ট যাচাই করা বা পরিচিত প্রোফাইল থেকে একটামাত্র শেয়ার। জিনিসটা সম্পূর্ণ আলাদা, আর আপনি কী চাইছেন তার ওপর নির্ভর করে ঠিকটা বদলে যায়।
দ্বিতীয় যে জিনিসটা দেখা দরকার সেটা হলো ফেরত ভরার শর্ত। ওই একশোর সামান্য বেশি তালিকার মধ্যে মাত্র বারোটায় ফেরত ভরার চিহ্ন আছে। অর্থাৎ শেয়ারের ঘরে সংখ্যা কমে গেলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রায় নেই বললেই চলে। কোন মেট্রিকে কী শর্ত থাকে তার পুরো ছবিটা তালিকার পাতায় আছে।
কেনার আগে যে তিনটে কথা
সৎভাবে বললে, শেয়ার কেনা কোনো দুর্বল পোস্টকে ভালো করে না। যেটা করতে পারে সেটা হলো একটা ভালো পোস্টের শুরুর ধাক্কাটা চওড়া করা।
- অনুপাত মেলাতে হবে। যে পোস্টে চল্লিশটা লাইক আর দুই হাজার শেয়ার, সেটা দেখে যে কেউ বুঝে যান। শেয়ারের সংখ্যা আপনার স্বাভাবিক সাড়ার কাছাকাছি রাখুন।
- একাউন্ট প্রকাশ্য হতে হবে। প্রাইভেট একাউন্টের পোস্ট বাইরে কেউ পাঠাতে পারেন না, তাই ওখানে কিছুই পৌঁছায় না।
- সংখ্যাটা কোথাও দেখাচ্ছে কি না ভাবুন। শেয়ারের সংখ্যা পোস্টের গায়ে লেখা থাকে না, শুধু আপনার নিজের ইনসাইটসে থাকে। অর্থাৎ এটা কাউকে দেখানোর সংখ্যা নয়।
শেষ কথাটা এই তৃতীয় বিন্দু থেকেই আসে। শেয়ার কেনার একমাত্র যুক্তি হতে পারে পৌঁছানো বাড়ানো, দেখানো নয়। আর সেই যুক্তিটা তখনই খাটে যখন পোস্টটা নিজে থেকেই কিছু শেয়ার পাচ্ছিল।



