ডিসকর্ডের ব্যাজ, চেকপয়েন্ট আর বয়স যাচাই: কোনটা আসলে আটকায়
ব্যাজ কোনো সুবিধা দেয় না, একটা সংখ্যাও বাড়ায় না। যেটা সত্যিই আটকায় সেটা হলো চেকপয়েন্ট আর বয়সের যাচাই, আর বাংলাদেশ থেকে খোঁজাও হয় ঠিক ওই দুটোই।
Avery Bennettএকটা কথা শুরুতেই বলে নেওয়া দরকার, কারণ এতে বাকি লেখাটা পড়া সহজ হয়। ডিসকর্ডে ব্যাজ কোনো ক্ষমতা দেয় না। কোনো বাড়তি অনুমতি নয়, কোনো বাড়তি জায়গা নয়, কোনো সার্ভারে ঢোকার সুবিধা নয়। ওটা শুধু একটা ছবি যা বলে আপনি কোনো একটা সময়ে কিছু একটা করেছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে ডিসকর্ড নিয়ে যা খোঁজা হয় তাতেও এটাই দেখা যায়। বাংলায় লেখা প্রশ্নগুলো ব্যাজ নিয়ে নয়, ওগুলো দুটো জিনিস নিয়ে, চেকপয়েন্ট আর বয়সের যাচাই। এই দুটোই সত্যিই আটকায়, তাই আগে ওগুলো।
চেকপয়েন্ট: যেটা আসলে দরজা বন্ধ করে
ঢুকতে গিয়ে যখন হঠাৎ ফোন নম্বর বা মেইল যাচাই চাওয়া হয়, বা একটা ছবির ধাঁধা এসে দাঁড়ায়, সেটাই চেকপয়েন্ট। এটা শাস্তি নয়, সন্দেহ। ডিসকর্ডের ব্যবস্থা মনে করছে এই ঢোকাটা স্বাভাবিক নয়।
সন্দেহটা সাধারণত তিনটে জায়গা থেকে আসে। নতুন যন্ত্র বা নতুন জায়গা থেকে ঢোকা, অল্প সময়ে অনেকবার চেষ্টা, আর ঠিকানা বারবার বদলানো। এর মধ্যে শেষেরটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে, আর সবচেয়ে কম মানুষ খেয়াল করেন।
এখানে ভুল কাজটা হলো তাড়াহুড়ো করা। চেকপয়েন্ট পেরোতে না পেরে বারবার চেষ্টা করলে পরের ধাপে একাউন্টটা বন্ধ হয়ে যায়, আর তখন ফিরে পাওয়ার পথটা অনেক লম্বা। একবার যাচাই চাইলে সেটা শেষ করুন, না পারলে থেমে যান।
বয়স যাচাই: নতুন দেয়ালটা
বাংলায় এই প্রশ্নটা এখন নিয়মিত আসে, আর সেটা অকারণে নয়। কিছু দেশে আইন বদলেছে, তাই ডিসকর্ড সেসব জায়গায় বয়স প্রমাণ চায়। কোথায় চাইবে সেটা ঠিক হয় আপনি কোথা থেকে ঢুকছেন তার ওপর, আর সেটা বদলাতে থাকে।
এখানে মনে রাখার কথাটা হলো, বয়সের যাচাই আর চেকপয়েন্ট এক জিনিস নয়। চেকপয়েন্টে আপনি প্রমাণ করছেন আপনি মানুষ, বয়স যাচাইয়ে আপনি প্রমাণ করছেন আপনি কত বছরের। প্রথমটা কেটে গেলে দ্বিতীয়টা কেটে যায় না, দুটো আলাদা পর্দা।
আর যেটা কোনো তালিকাই বদলাতে পারে না সেটা হলো এই দ্বিতীয়টা। কেনা আইডি দিয়ে চেকপয়েন্ট এড়ানোর একটা যুক্তি আছে, কিন্তু বয়স যাচাই ঢোকার জায়গার ওপর বসে, আইডির ওপর নয়।
ব্যাজ আসলে কী, আর কোনটা চিরতরে বন্ধ
ব্যাজগুলোকে তিন ভাগে ভাবলে সহজ হয়।
- যেগুলো আজ চাইলেই পাওয়া যায়। সেটিংসে ঢুকে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বা টাকা দিয়ে সদস্যপদ নিয়ে। এগুলোয় কোনো কৃতিত্ব নেই আর সবাই জানেন সেটা।
- যেগুলোয় কাজ লাগে। নিজের একটা প্রোগ্রাম বানিয়ে সেটা কোনো সার্ভারে চালানো, বা সত্যিকারের ত্রুটি খুঁজে জানানো। এতে সময় লাগে, তবে অসম্ভব কিছু নয়।
- যেগুলোর দরজা বন্ধ। পুরোনো দিনের কিছু ব্যাজ আর কাউকে দেওয়া হয় না। আজ যত টাকাই খরচ করুন, ওগুলো আসবে না।
এই তালিকাটা কোথায় কী আছে সেটা ডিসকর্ড নিজেই বদলায়, আর কোনো বাইরের পাতা সেটা হালনাগাদ রাখতে পারে না। তাই সংখ্যা বা তারিখ মুখস্থ করার চেয়ে অ্যাপের ভেতরের তালিকাটাই দেখে নেওয়া ভালো।
ব্যাজ কেনা যায় কি না, আর প্রশ্নটা কেন ভুল
বন্ধ ব্যাজওয়ালা আইডি হাতবদল হয়, এটা সত্যি। কিন্তু এখানে দুটো কথা।
এক, ব্যাজ কোনো কাজ করে না। ওটা দেখে কেউ আপনাকে বেশি অনুমতি দেবে না, কোনো সার্ভার আপনাকে আলাদাভাবে নেবে না। যে জিনিসের কোনো ক্ষমতা নেই, তার জন্য বাড়তি টাকা দেওয়াটা সাজসজ্জার খরচ, বিনিয়োগ নয়।
দুই, পুরোনো আইডির আসল দাম ব্যাজে নয়, বয়সে। অনেক সার্ভার একদম নতুন আইডিকে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেয় না, আর কিছু সার্ভার একেবারেই ঢুকতে দেয় না। ওই দেয়ালটা পেরোনোর জন্য পুরোনো আইডি কাজে লাগে, ব্যাজের জন্য নয়। ডিসকর্ড আইডির তালিকায় চারশোর কাছাকাছি জিনিস আছে চল্লিশের বেশি দোকান থেকে, আর ওখানে কোন ঘরটা দাম বাড়ায় সেটা আলাদা করে দেখানো আছে।
হাতে পাওয়ার পরের প্রথম আধঘণ্টা
এখানে একটা কড়া সত্য আছে যেটা আগে জেনে রাখা দরকার। এই সাইটের সব তালিকাই সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কেউ পরে বসে বানিয়ে দেন না। আর বেশিরভাগ তালিকার নিশ্চয়তার মেয়াদ দিনে নয়, ঘণ্টায়। বেশ কিছু তালিকায় সেটা এক ঘণ্টারও কম।
এর মানে যাচাই করার কাজটা পরে করার জিনিস নয়। হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে দেখা, চেকপয়েন্ট আসে কি না দেখা, আর মেইলের দখল আপনার কাছে এসেছে কি না দেখা। এই তিনটে ওই ঘণ্টার ভেতরেই করতে হবে, নইলে সমস্যা ধরা পড়লে বলার সময়টা আর থাকবে না।
দুই ধাপের যাচাই সঙ্গে এলে সেটা একটা গোপন সংকেতের চেহারায় আসে, ছয় সংখ্যার কোডের চেহারায় নয়। ওই সংকেত থেকে কোড বানানোর কাজটা আলাদা পাতায় লেখা আছে।
নিজের আইডিটা যাতে বন্ধ না হয়
বাংলায় ডিসকর্ড নিয়ে খোঁজার তালিকার প্রায় পুরোটাই হারানো আর ফেরত পাওয়া নিয়ে। তাই শেষে কয়েকটা কথা, যেগুলো এই দুটোর সম্ভাবনা কমায়।
- মেইলটা যাচাই করা থাকুক। যাচাই না করা মেইল মানে ফেরত পাওয়ার পথ নেই, আর অনেক সার্ভার এমনিতেই ঢুকতে দেবে না।
- একই যন্ত্র আর একই সংযোগে থাকুন। রোজ ঠিকানা বদলালে চেকপয়েন্ট রোজ আসবে।
- একটা যন্ত্রে অনেকগুলো আইডি একসঙ্গে চালাবেন না। এটাই সবচেয়ে দ্রুত সন্দেহ তৈরি করে।
- যে সংকেত দিয়ে কোড তৈরি হয় সেটা পাসওয়ার্ডের সমান দামি। ওটা হারালে নিজের আইডিতেও আর ঢোকা যাবে না।

