ক্লড খুলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন: দরজাটা ফোন নম্বর
পাসওয়ার্ড বলে কিছু নেই, ভার্চুয়াল নম্বর চলে না, একটা নম্বরে তিনটের বেশি খোলা যায় না, আর একবার বসানো নম্বর কখনো বদলানো যায় না। এই চারটে নিয়মই বেশিরভাগ ব্যর্থ চেষ্টার কারণ।
Michael Chenক্লড খোলার নিয়ম নিয়ে যত লেখা পাওয়া যায়, তার প্রায় সবগুলোতে একটা ধাপ আছে যেটা বাস্তবে নেই, আর যে ধাপে মানুষ সত্যিই আটকান সেটার নাম নেই।
যেটা নেই সেটা পাসওয়ার্ড। অ্যানথ্রপিক নিজের সহায়তার পাতায় সোজা লিখে রেখেছে যে এই মুহূর্তে ক্লড আইডির জন্য আলাদা কোনো পাসওয়ার্ড বানানোর ব্যবস্থাই নেই। আর যেটায় আটকান সেটা ফোন নম্বর। চ্যাটের পাতায় পৌঁছানোর আগেই একটা এমন নম্বর দিতে হয় যেটা খুদে বার্তা নিতে পারে, আর সেই শর্তটা এড়ানোর কোনো পথ রাখা হয়নি।
যে চারটে বাক্য পুরো ব্যাপারটা ঠিক করে দেয়
এই চারটেই অ্যানথ্রপিকের নিজের লেখা, একটাই সহায়তার পাতায়, আর প্রতিটার একটা করে ফল আছে যেটা মানুষ ঠেকে শেখেন।
- প্রতিটা নতুন ব্যবহারকারীর জন্য ফোন যাচাই বাধ্যতামূলক, আর ধাপটা এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এটা এই বিষয়ের সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নটার উত্তর, আর উত্তরটা সরাসরি না।
- ইন্টারনেটে চলা নম্বর, গুগল ভয়েস, অ্যাপের ভেতরে বানানো নম্বর আর ল্যান্ডলাইন কোনোটাই নেওয়া হয় না। সঙ্গে আরও যোগ করা আছে, যেকোনো নম্বর যেটা খুদে বার্তা নিতে পারে না। বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অথচ কিছুই হচ্ছে না, তার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ এটাই, আর এটা চেষ্টা করে পার হওয়ার জিনিস নয়।
- একটা নম্বর দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটে ক্লড আইডি যাচাই করা যায়। নম্বরটা আগে থেকে ব্যবহার হয়ে গেছে বলে যে বার্তাটা আসে, ওটা মানুষ ত্রুটি ভাবেন। ওটা ত্রুটি নয়, ওটা সীমা।
- একবার যাচাই হয়ে গেলে ওই নম্বরটা আর বদলানো যায় না। ফেরার কোনো রাস্তা নেই। তাই হাতের কাছে যে নম্বরটা আছে সেটা নয়, দুই বছর পরেও যেটা আপনার থাকবে সেটা দিয়ে যাচাই করুন।
অপেক্ষার হিসাবটাও ওখানেই লেখা আছে। কোড আসতে কয়েক মিনিট লাগতে পারে, আর পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলে অপেক্ষা না করে আবার চেষ্টা করুন বোতামটা টিপে নম্বরটা নতুন করে বসাতে হবে।
পাসওয়ার্ড বলে কিছু নেই, আর এটা সাময়িক কোনো ঘাটতি নয়
এই কথাটা হজম করা দরকার, কারণ এটা আইডি জিনিসটার মানেই বদলে দেয়।
ঢোকার পথ দুটো। এক, গুগল দিয়ে চালিয়ে যান। দুই, নিজের মেইল ঠিকানা লিখুন, আর তখন ওই ঠিকানায় একটা চিঠি যায় যেটার বিষয়ে লেখা থাকে ক্লডে ঢোকার নিরাপদ লিংক। একই যন্ত্রে ওই লিংকে চাপ দিলে সোজা ভেতরে ঢুকে যাবেন। অন্য যন্ত্রে খুললে একটা কোড আসে, যেটা আগের যন্ত্রে ফিরে গিয়ে বসাতে হয়।
এখান থেকে দুটো জিনিস বেরোয়। প্রথমত, মেইলটা একবারের নিবন্ধনের ধাপ নয়, ওটাই প্রতিবার ঢোকার ব্যবস্থা। অর্থাৎ যে ডাকবাক্সটা আপনি হারাতে পারেন, সেটা এমন একটা আইডি যেটা আপনি হারাতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, লিখে রাখার মতো, জমা রাখার মতো বা কাউকে দেওয়ার মতো কোনো গোপন কথা এখানে নেই। ক্লড আইডিতে ঢোকার অধিকারটা একটা শব্দ নয়, ওটা একটা ডাকবাক্সের ওপর আপনার চলমান দখল। পরিচয় আর ডাকবাক্স যে দুটো আলাদা জিনিস, সেটা আলাদা একটা লেখায় মেপে দেখানো আছে, আর এখানে ওই ফারাকটাই সবচেয়ে জোরালোভাবে কাজ করে।
দেশ একটা বাধা, কিন্তু যেটা ভাবা হয় সেটা নয়
অ্যানথ্রপিক দুশোর কাছাকাছি দেশ, অঞ্চল আর ভূখণ্ডের তালিকা প্রকাশ করে যেখানে ক্লড দেওয়া হয়। তালিকাটা যথেষ্ট বড়, তাই নিবন্ধনে আটকে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষ আসলে ভূগোলে আটকাননি।
দেশ যেখানে সত্যিই কামড় দেয় সেটা ফোনের ধাপ, কারণ নম্বরটাকেও সমর্থিত কোনো জায়গা থেকে আসতে হয়। অর্থাৎ দেশ আর ফোন দুটো আলাদা বাধা নয় যেগুলো একটার পর একটা পেরোতে হবে। ওটা একটাই বাধা, আর সেটা আপনার পর্দায় দেশের সমস্যা হিসেবে নয়, নম্বরের সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।
এর ফলে যা ঘটে সেটা নিষ্ঠুর রকমের গোল। মানুষ দেশের বাধা এড়াতে ভার্চুয়াল নম্বরের দিকে হাত বাড়ান, আর ভার্চুয়াল নম্বরটাই ওপরের দ্বিতীয় নিয়মে সরাসরি বাদ দেওয়া আছে। যে পথটা প্রথমে মাথায় আসে, সেই পথটাই নাম ধরে বন্ধ করা।
বাংলাদেশ থেকে এই জিনিসটা নিয়ে আসলে যা খোঁজা হয়
এখানে সৎ হওয়া দরকার, কারণ প্রশ্নটা যা, লেখাগুলো তার উত্তর দেয় না।
বাংলাদেশ থেকে ক্লড নিয়ে যা খোঁজা হয় তার বেশিরভাগ ইংরেজিতে, আর তার দশটার ছয়টাই দাম, সাবস্ক্রিপশন বা কেনা নিয়ে। বাংলা হরফে খুঁজলে প্রায় কিছুই আসে না, আর যা আসে তার অর্ধেক একটা ই-বুকের নাম। অর্থাৎ প্রশ্নটা কারিগরি নয়, প্রশ্নটা টাকার।
এই লেখায় কোনো টাকার অঙ্ক নেই, আর সেটা এড়িয়ে যাওয়া নয়, ইচ্ছাকৃত। এআইয়ের দাম আর ধাপের নাম প্রতি কয়েক মাসে বদলায়, আর কোনো লেখায় বসানো সংখ্যা এক ত্রৈমাসিকের বেশি টেকে না। চলতি সংখ্যাটা অ্যানথ্রপিকের নিজের দামের পাতায় আছে, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওইটাই দেখার জিনিস, এই লেখাটা নয়।
যেটা এখানে দেওয়া যায় সেটা কাঠামো। ফ্রি ধাপটা সত্যিই আছে আর সেটা দিয়ে বোঝা যায় জিনিসটা আপনার কাজে লাগবে কি না। টাকা দিয়ে যা কেনা হয় সেটা মূলত বেশি ব্যবহারের জায়গা। আর কেনার সংকেতটা কোনো নতুন সুবিধা নয়, বরং বারবার সীমায় গিয়ে ঠেকা।
এখানে সীমার হিসাবটা দিনের নয়, বসার
ধাপগুলোর ফারাকটা অ্যানথ্রপিক নিজে যেভাবে লেখে, সেভাবেই বলা ভালো, কারণ প্রচলিত ব্যাখ্যাটা এখানে ভুল।
দৈনিক কোনো সীমা নেই। হিসাবটা চলে বসার হিসাবে, আর সেই জানালাটা প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় নতুন করে খোলে। এটা মধ্যরাতে গিয়ে রিসেট হওয়া কিছু নয়, এটা গড়িয়ে চলা একটা জানালা। এই কারণেই দুপুরে ভারী কাজ করার পরে সন্ধেবেলা আবার জায়গা পাওয়া যায়, অথচ আইডিতে কিছুই বদলায়নি।
টাকা দেওয়া ধাপগুলোর ওপরে আরেকটা সাপ্তাহিক সীমা বসে, যেটা সব মডেলের ওপর একসঙ্গে খাটে। অর্থাৎ দুটো ঘড়ি চলে, একটা নয়।
আর ধাপগুলো নিজেদের মধ্যে অনুপাতে বর্ণনা করা, নির্দিষ্ট সংখ্যায় নয়। ফ্রি ধাপের তুলনায় Pro কে বলা হয় প্রতি বসায় অন্তত পাঁচ গুণ ব্যবহার, আর Max কে বলা হয় Pro এর পাঁচ বা কুড়ি গুণ, কোন Max নিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে। ব্যস্ত সময়ে অগ্রাধিকারের কথাটা Pro এর ঘরে আলাদা করে লেখা আছে।
কী খরচ হয় সেটাও বার্তার সংখ্যা নয়। কথোপকথন কত লম্বা আর কত জটিল, কোন মডেলে আছেন, আর কতটা যত্ন করে ভাবতে বলা হয়েছে, এগুলোই খরচ ঠিক করে। এর সোজা প্রয়োগটা হলো, নতুন কাজের জন্য নতুন কথোপকথন শুরু করা বিশাল একটা পুরোনো সুতো টেনে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে সস্তা।
এখানে ক্লড আইডি কেন বিক্রি হয় না, সংখ্যায়
এই অংশটা অনুমানের নয়, গোনার, তাই গুনে দেখা হয়েছে।
এই সাইটে দুই সেপ্টেম্বর দুই হাজার ছাব্বিশ তারিখে ক্লডের ঘরে চালু তালিকার সংখ্যা শূন্য। ওই ঘরে আজ পর্যন্ত মোট একটা পণ্য বসেছে, একটা API টোকেন, আর সেটা এখন বন্ধ আর কালো তালিকাভুক্ত।
গোটা সাইটের চৌদ্দ হাজার ছশো চালু তালিকার শিরোনামে ক্লড শব্দটা খুঁজলে ঠিক একটা সারি পাওয়া যায়, আর সেটা ক্লডের ঘরে নয়। ওটা মেইলের তাকে বসা একটা জিমেইল, যেটার নামেই লেখা আছে ক্লডের চিঠি নেওয়ার কথা। অ্যানথ্রপিক শব্দটা খুঁজলে শূন্য।
মাপের জন্য পাশের ঘরগুলো দেখুন। এআই আইডির গোটা ঘরে একশো তেরোটা চালু তালিকা আছে আঠারোজন বিক্রেতার কাছ থেকে। তার মধ্যে ChatGPT সাতান্ন, গ্রক ছাব্বিশ, ডিপসিক ষোলো, জেমিনি চারটে, আর ক্লড শূন্য।
এটা মজুতের অভাব নয়। এটা ওপরের নিয়মগুলোর সরাসরি ফল। হস্তান্তর করার মতো কোনো পাসওয়ার্ড নেই। ঢোকার অধিকারটা একটা ডাকবাক্সের ওপর চলমান দখল, তাই বিক্রি করার মতো একমাত্র জিনিসটা ওই ডাকবাক্সই, আর ওই একটাই তালিকা ঠিক সেটাই। আর একটা নম্বরে তিনটের বেশি খোলা যায় না এবং নম্বরটা কখনো বদলানো যায় না, তাই যেভাবে অন্য জায়গার আইডি পাইকারি হারে বানানো হয়, ক্লডের ক্ষেত্রে সেটা করা যায় না।
তাহলে এই বাজার আপনাকে কী দিতে পারে
একটা সৎ উত্তর আছে, আর সেটা আইডি নয়।
যেহেতু ঢোকার ব্যবস্থাটাই চিঠি, তাই এখানে টেকসই সম্পদটা ডাকবাক্স। এমন একটা মেইল ঠিকানা যেটা সত্যিই আপনার হাতে থাকবে, যেটা চিঠি নিতে পারে, আর যেটা কাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে না। ওইটুকু হাতে থাকলে ক্লড আইডিটা আপনার, আর ওইটুকু না থাকলে আইডিটা কারও নয়।
চলতি তালিকাগুলো জিমেইলের তাকে আছে, আর কেনার আগে কোন ঘরটা সবচেয়ে জরুরি সেটা কেনার আগের তালিকায় ধরে ধরে বলা আছে। আর যদি আপনার আসল দরকার একটা সহকারী হয় আর কোনটা তা না হয়, তাহলে ChatGPT আইডির তাকে সত্যিকারের মজুত আছে আর এআই আইডির ঘরটা দেখলে বোঝা যায় ভাগটা কতটা অসম।
ঢোকার চিঠি আসছে না, তখন কোথায় দেখবেন
এটা আলাদা একটা সমস্যা, আর ফোনের নিয়মগুলোর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রথমে স্প্যাম আর প্রচারের ঘর দেখুন। কয়েকটা মেইল সেবা এই চিঠিটা নিজে থেকেই ওখানে ফেলে দেয়, আর মানুষ ইনবক্সে না পেয়ে ধরে নেন চিঠিটা আসেনি।
দ্বিতীয়ত, পুরোনো চিঠিতে চাপ দেবেন না, নতুন একটা চান। ওই লিংকগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, আর মেয়াদ পেরোনো লিংকে চাপ দিলে যে বার্তাটা আসে সেটা দেখে মনে হয় আইডিতেই সমস্যা।
আর যেহেতু চিঠিটাই ঢোকার একমাত্র ব্যবস্থা, তাই এই সমস্যাটা এখানে সাময়িক অসুবিধা নয়। যে ডাকবাক্সে চিঠি আসছে না, সেটা এই মুহূর্তে একটা বন্ধ দরজা।
কেনার আগে কেউ ক্লড আইডির প্রতিশ্রুতি দিলে
শেষে একটা ব্যবহারিক কথা, কারণ চাহিদাটা আছে আর জোগানটা নেই, আর ওই ফাঁকটায় জিনিস গজায়।
কেউ যদি তৈরি ক্লড আইডি বিক্রির কথা বলেন, তাহলে তিনটে প্রশ্ন আগে করুন। নম্বরটা কার নামে যাচাই করা, আর সেটা কি বদলানো যাবে। ঢোকার চিঠি কোন ডাকবাক্সে যাবে, আর সেই ডাকবাক্সটা কি আপনার হাতে আসবে। আর ওই নম্বরে আগে কটা আইডি খোলা হয়েছে।
তিনটের যেকোনো একটার উত্তর অস্পষ্ট থাকলে আপনি যা কিনছেন সেটা একটা আইডি নয়, বরং অন্য কারও ডাকবাক্সে যাওয়া একটা চিঠির ওপর সাময়িক নির্ভরতা। ওটা যেদিন বন্ধ হবে, সেদিন অভিযোগ করার মতো কিছু থাকবে না।
