গুগল অ্যাকাউন্ট আর জিমেইল আইডি: তাকে কোনটা বিক্রি হয়
একটা পরিচয়, অন্যটা একটা ডাকবাক্স। এই তাকে কোনটার দাম কীসে বসে সেটা মেপে দেখলে ফারাকটা তত্ত্ব থেকে নেমে টাকার হিসাবে চলে আসে।
Avery Bennettপ্রশ্নটা তত্ত্বের মতো শোনায়, কিন্তু টাকা দেওয়ার মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হয়ে ওঠে। কেউ একটা গুগল আইডি কিনলেন, তারপর দেখলেন ঠিকানাটা gmail.com দিয়ে শেষ হচ্ছে না, আর ভাবলেন ঠকেছেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠকেননি। দুটো আলাদা জিনিসের নাম গুলিয়ে গেছে।
একটা পরিচয়, আর তার সঙ্গে বাঁধা একটা ডাকবাক্স
গুগল অ্যাকাউন্ট হলো সেই পরিচয়টা যেটা দিয়ে আপনি ইউটিউব, ড্রাইভ, প্লে স্টোর আর বাকি সব জায়গায় ঢোকেন। জিমেইল হলো একটা ডাকবাক্স, যেটা ওই পরিচয়ের অধীনে থাকতে পারে।
বেশিরভাগ মানুষের দুটোই একসঙ্গে থাকে আর জোড়টা কোথায় সেটা কেউ কখনও খেয়াল করেন না। তাই দুটো নাম একে অন্যের জায়গায় ব্যবহার হয়ে যায়।
কিন্তু জোড়টা আলাদা করা যায়, আর সেটা কোনো ত্রুটি নয়। যে পরিচয়টা আগে থেকে থাকা কোনো ঠিকানা দিয়ে খোলা হয়েছিল, বা যেটা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ঠিকানায় দিয়েছে, সেটাতে gmail.com এর ডাকবাক্স থাকে না। ওটা গুগলের সব জায়গায় স্বাভাবিকভাবেই ঢোকে, শুধু চিঠি রাখার ঘরটা নেই।
এখানে গুগল বলতে আসলে কী বিক্রি হয়
এই জায়গাটায় সংখ্যা দিলে ছবিটা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যায়। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এখানে জিমেইলের ঘরে এক হাজার পাঁচশো বিয়াল্লিশটা চালু তালিকা ছিল, একশো তিরাশিজন বিক্রেতার কাছ থেকে।
আর গুগলের বাকি সব মিলিয়ে? ওয়ার্কস্পেসের ঘরে চালু তালিকা শূন্য। ক্লাউডের ঘরে চারটে, তিনটে দোকান থেকে। বিজ্ঞাপনের ঘরে চোদ্দোটা, পাঁচটা দোকান থেকে। প্লে স্টোরের উপহার কার্ড তেরোটা, আর গুগল ওয়ানে একটা।
অর্থাৎ এখানে গুগল মানে কার্যত ডাকবাক্স, আর প্রায় কিছুই নয়। জিমেইলের ঘরের কুড়িটার উনিশটা তালিকায় gmail.com চিহ্নটা বসানো আছে।
এটা জেনে রাখা দরকার, কারণ ইংরেজিতে google account buy লিখলে গুগল যে দশটা জিনিস দেখায় তার বেশিরভাগই জায়গা কেনা, বিজ্ঞাপনের হিসাব, ক্লাউড, ডেভেলপার আর কনসোল। ওই তালিকার প্রায় কিছুই এখানে নেই। আপনি যদি ওগুলোর একটা খুঁজতে এসে থাকেন, তাহলে ঘরটা মিলছে না, আর সেটা আগে জেনে নেওয়াই ভালো।
দামটা বসে যাচাইয়ের গায়ে, ঢোকার পথে নয়
এই একটা নিয়ম গুগলের বাইরেও পুরো মেইলের তাকে খাটে, আর এটাই এই লেখার সবচেয়ে কাজের অংশ।
মেইলের পুরো ঘরে চার হাজারের বেশি চালু তালিকা আছে। সেখানে যে ঘরগুলোর দাম মাঝামাঝির চেয়ে সবচেয়ে বেশি, সেগুলো সবই যাচাই সংক্রান্ত। উদ্ধারের মেইল দেওয়া আছে বলে চিহ্নিত তালিকার দাম মাঝামাঝির চার গুণ। দুই ধাপের যাচাই বসানো থাকলে পৌনে চার গুণ। খুদে বার্তায় যাচাই করা থাকলে সোয়া তিন গুণ।
আর উল্টো দিকে, যে ঘরগুলো ঠিক করে দেয় আপনার প্রোগ্রাম ডাকবাক্সটার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে কি না, সেগুলোই সবচেয়ে সস্তা। প্রোটোকল দিয়ে যুক্ত হওয়ার চিহ্ন বসানো তালিকার দাম মাঝামাঝির এক তৃতীয়াংশের কিছু বেশি। আরেক ধরনের যুক্ত হওয়ার চিহ্ন বসানো তালিকার দাম মাঝামাঝির দশ ভাগের এক ভাগের কম।
এর বাস্তব অর্থটা দুই দিক থেকেই কাজে লাগে। আপনার যদি শুধু দরকার হয় কোনো প্রোগ্রাম ডাকবাক্সটা পড়তে পারুক, তাহলে আপনি এমন একটা অক্ষ ধরে খুঁজছেন যেটা এখানে প্রায় বিনামূল্যে। আর আপনি যদি যাচাই করা আইডির জন্য বাড়তি দিচ্ছেন, তাহলে অন্তত জেনে দিন যে ওটাই এখানকার সবচেয়ে দামি জিনিস।
একটা সাবধানতা এখানে দরকার। এই গুণগুলো পুরো মেইলের ঘরের হিসাব। শুধু জিমেইলের ঘরটা আলাদা করে মাপলে সংখ্যাগুলো উল্টো দাঁড়ায়, কারণ ওখানে প্রায় সবারই একই চিহ্ন। তাই এটা মেইলের তাকের নিয়ম, জিমেইলের তাকের নয়।
gmail.com ছাড়া গুগল আইডি বলতে যা বোঝায়
এই ধরনের তালিকা এখানে আলাদা একটা ঘরে বসে, আর সেটা ছোট নয়। ওখানে তিনশো আটষট্টিটা চালু তালিকা আছে একুশজন বিক্রেতার কাছ থেকে।
ওই তালিকাগুলোর দশটার প্রায় নয়টায় চিহ্ন বসানো আছে যে ঠিকানাটা কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজের নামে, gmail.com এ নয়। আর অর্ধেকের কাছাকাছি তালিকায় চিহ্ন বসানো আছে যে জিনিসটা ভাড়া, বিক্রি নয়।
এই দ্বিতীয় চিহ্নটাই আসল ফারাক, আর এটা দাম দেখে বোঝা যায় না। ভাড়ার চিহ্ন বসানো তালিকাগুলো বরং মাঝামাঝির চেয়ে সস্তা, তাই দামে ওগুলোকে সস্তা সংস্করণ মনে হয়। ওগুলো সস্তা সংস্করণ নয়, ওগুলো আলাদা জিনিস।
রাখার ঠিকানা না একবার পেরোনোর ঠিকানা
এই প্রশ্নটাই আসলে সব কটা ধরনকে আলাদা করে দেয়, আর কেনার আগে নিজেকে এটাই জিজ্ঞেস করতে হয়।
আপনার কি একটা ডাকবাক্স দরকার যেটা মাসের পর মাস আপনার থাকবে, চিঠি আসবে, আপনি জবাব দেবেন? নাকি আপনার দরকার কোথাও একবার ঢোকা, বা একটা যাচাইয়ের বার্তা একবার নেওয়া?
দুটোর জন্য দুটো আলাদা জিনিস বিক্রি হয়, আর দামের ফারাকটা কয়েক গুণের। ভুল দিকটা কিনলে জিনিসটা খারাপ হয় না, জিনিসটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, আর ওটার জন্য অভিযোগ করারও কিছু থাকে না, কারণ তালিকায় যা লেখা ছিল সেটাই এসেছে।
তাই কেনার আগে তালিকাটা পড়ার সময় শুধু একটা কথা খুঁজুন: সময়। ঘণ্টা বা দিনের কোনো সংখ্যা লেখা আছে কি না। থাকলে ওটা রাখার জিনিস নয়।
তালিকা পড়ে কোনটা কোনটা তা আলাদা করার নিয়ম
তিন ধরনের জিনিস দেখতে প্রায় একই রকম, তাই আলাদা করার একটা ছোট পদ্ধতি দরকার। দুটো ঘর পড়লেই কাজ হয়ে যায়।
প্রথমে ঠিকানার শেষ অংশটা। জিমেইলের ঘরে কুড়িটার উনিশটা তালিকায় gmail.com এর চিহ্ন বসানো, তাই ওখানে ডাকবাক্স পাওয়াটাই স্বাভাবিক। উল্টো দিকে ভাড়ার ঘরে দশটার প্রায় নয়টায় চিহ্নটা বলে ঠিকানাটা অন্য কোনো নামের ঘরে। এই একটা চিহ্নই বলে দেয় আপনি কোন তাকে দাঁড়িয়ে আছেন।
দ্বিতীয়ত, নামের মধ্যে সময়ের কোনো সংখ্যা আছে কি না। থাকলে ওটা ভাড়া, আর আগের অংশে যে প্রশ্নটা করতে বলা হয়েছে সেটা এখানেই প্রয়োগ হয়।
এই দুটোর একটাও যদি তালিকায় স্পষ্ট না থাকে, তাহলে বাকি সব ঘর ঠিক থাকলেও জিনিসটা কী তা আপনি জানেন না। ওই তালিকাটা কেনার আগে ওই দুটো ঘরের উত্তর জেনে নেওয়াই সবচেয়ে সস্তা কাজ।
যে ঘরটা শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেয় জিনিসটা আপনার কি না
সব যাচাইয়ের পরেও একটা ঘর বাকি থাকে, আর সেটা উদ্ধারের ঠিকানার ঘর।
জিমেইলের ঘরে তিনটের একটার একটু বেশি তালিকায় ওই চিহ্নটা বসানো আছে। আর গোটা মেইলের তাকে ওটাই সবচেয়ে দামি চিহ্ন, মাঝামাঝির চার গুণ। বাজার নিজেই বলে দিচ্ছে জিনিসটা কতটা জরুরি।
কারণটা সোজা। ওই ঠিকানাটা যাঁর হাতে, কিছু গোলমাল হলে গুগল তাঁকেই খুঁজবে। ওটা আপনার হাতে না থাকলে আইডিটা আপনার কাছে আছে, কিন্তু আপনার নয়।
চলতি তালিকা জিমেইলের পাতায়, আর পুরো মেইলের ঘরটা এখানে। উদ্ধারের পাতাটা কীভাবে কাজ করে সেটা আলাদা লেখায় আছে।
