এই মার্কেটপ্লেসটা কীসের, আর কীসের নয়
বাংলায় শব্দটা ফ্রিল্যান্সিং বোঝায়, তাই আগে ভুলটা সরানো দরকার। তারপর সংখ্যায়, এখানে কী আছে, কে বিক্রি করেন, আর কোন জিনিসগুলো এখানে নেই।
Sarah Johnsonবাংলায় মার্কেটপ্লেস শব্দটা খুঁজলে যা আসে তার প্রায় পুরোটাই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে। কোন কাজের চাহিদা বেশি, কাজ করতে কী লাগে, কীভাবে আয় হয়। বাকিটুকু ফেসবুকের কেনাবেচার ঘর নিয়ে।
এই জায়গাটা ওই দুটোর কোনোটাই নয়। তাই সময় নষ্ট হওয়ার আগে পরিষ্কার করে বলে নেওয়া ভালো, এখানে আপনার শ্রম বিক্রি হয় না আর ব্যবহৃত জিনিসও বিক্রি হয় না। এখানে বিক্রি হয় ডিজিটাল জিনিস, মূলত নানা প্ল্যাটফর্মের আইডি, মেইল, প্রক্সি আর সোশ্যাল মিডিয়ার সেবা।
সংখ্যায় জায়গাটা কত বড়
ধারণা তৈরির জন্য এটুকু জানা দরকার, আর এই সংখ্যাগুলো আজকের।
- সাড়ে পাঁচশোর বেশি চালু দোকান।
- প্রায় সতেরো হাজার তালিকা এই মুহূর্তে কেনার মতো অবস্থায়, আর মোট সারি তার দ্বিগুণেরও বেশি। বাকিগুলো হয় শেষ হয়ে গেছে নয়তো বন্ধ।
- সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে আলাদা করে তিরিশ হাজারের বেশি সেবা চালু।
- এ পর্যন্ত ছিয়ানব্বই হাজারের বেশি অর্ডার হয়েছে।
এর মধ্যে একটা কথা লক্ষ করার মতো। যত সারি আছে তার প্রায় অর্ধেকই আর কেনা যায় না, কারণ ডিজিটাল জিনিসের মজুত সত্যিই ফুরিয়ে যায়। যে তালিকাটা গতকাল দেখেছিলেন সেটা আজ না থাকা এখানে স্বাভাবিক ঘটনা।
এটা একটা দোকান নয়, দোকানের সারি
এই ফারাকটা বোঝা সবচেয়ে জরুরি, কারণ এখান থেকেই বাকি সব ব্যাখ্যা আসে।
এখানে জিনিসগুলো একজনের নয়। সাড়ে পাঁচশো আলাদা দোকান নিজেদের মাল নিজেরা তোলেন, নিজেরা দাম বসান আর নিজেরা বিবরণ লেখেন। প্ল্যাটফর্ম এই তিনটের কোনোটাই ঠিক করে দেয় না।
এর ফল তিনটে। এক, একই জিনিসের দাম দোকানভেদে অনেক আলাদা হতে পারে। দুই, মান একরকম নয়, কারণ যিনি ভরসাযোগ্য আর যিনি নন, দুজনেই একই তাকে থাকেন। তিন, তুলনা করার দায়িত্বটা আপনার, আর তালিকার লেখাটাই সেই তুলনার একমাত্র উপাদান।
যা প্ল্যাটফর্ম করে সেটা হলো ঘরগুলো ঠিক করে দেওয়া। কোন বিভাগে কোন তথ্য থাকতেই হবে, কত ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে, আর সমস্যা হলে কোন পথে যাবে। ঘরগুলো এক, ভেতরে কে কী লিখলেন সেটা আলাদা।
একটা তালিকা কেনার পর যা ঘটে
এখানকার প্রতিটা চালু তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, ব্যতিক্রম নেই। কেউ পরে বসে হাতে বানিয়ে দেন না, মালটা আগেই তোলা থাকে আর টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার নামে বসে যায়।
এর পরে দুটো ঘড়ি চলতে থাকে। একটা বিক্রেতার দিকে, যেটা বলে কত সময়ের মধ্যে জিনিসটা পৌঁছাতে হবে, আর সেটা চব্বিশ ঘণ্টা। আরেকটা আপনার দিকে, যেটা বলে কত সময়ের মধ্যে সমস্যা জানাতে হবে, আর সেটা তালিকাভেদে আলাদা। বেশিরভাগ তালিকায় ওটা ঘণ্টায় মাপা, দিনে নয়।
এই দুটোর বিস্তারিত আলাদা পাতায় আছে, আর অর্ডার দেওয়ার ধাপগুলো অন্য একটায়। এখানে শুধু জেনে রাখা দরকার যে দ্বিতীয় ঘড়িটা প্রথমটার চেয়ে দ্রুত চলে, আর সেটাই বেশি মানুষকে ভোগায়।
যন্ত্রে জোড়া লাগানোর দিকটা
যাঁরা নিজেদের প্যানেল বা দোকান চালান, তাঁদের জন্য এই অংশটা।
এখানে দুটো আলাদা মুখ আছে। একটা প্রশাসনের দিকের, যেটা প্রচলিত প্যানেলের ব্যবস্থাপনার এপিআইয়ের ছাঁচে বানানো। ওখানে অর্ডার টেনে আনা, তালিকা দেখা, একটা অর্ডারের অবস্থা বদলানো, টাকা ফেরত দেওয়া, টিকিট পড়া আর লেখা, পণ্য যোগ করা আর মোছা, সব মিলিয়ে আঠারোটা পথ আছে।
আরেকটা বিক্রেতার দিকের, যেটা পুরোনো ধাঁচে একটাই ঠিকানায় কাজের নাম পাঠিয়ে চালানো যায়। ওখানে একসঙ্গে অনেকগুলো অর্ডার বাতিল করার ব্যবস্থাও আছে, তবে একবারে একশোর বেশি নয়।
সৎভাবে বললে, এটা একটা মিলের ছাঁচ, হুবহু নকল নয়। অর্থাৎ যাঁরা প্রচলিত প্যানেলের সঙ্গে কাজ করে অভ্যস্ত তাঁদের চেনা লাগবে আর বেশিরভাগ কাজ সরাসরি চলবে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সবকিছু চলবে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না। নিজের যেটা দরকার সেটা আগে ছোট করে পরীক্ষা করে দেখাই ঠিক পথ।
সমস্যা হলে কোথায় যায়
দুটো আলাদা পথ, আর এদের গুলিয়ে ফেললে সময় নষ্ট হয়।
সহায়তার ঘর হলো সাধারণ প্রশ্ন আর ছোট সমস্যার জায়গা। এ পর্যন্ত প্রায় বারো হাজার এমন ঘর খোলা হয়েছে, আর বেশিরভাগ ব্যাপার ওখানেই মেটে।
আপত্তি আলাদা জিনিস, আর ওটা তখনই দরকার যখন অর্ডারটা নিয়েই বিরোধ। এ পর্যন্ত আপত্তি খোলা হয়েছে আড়াইশোর কিছু বেশি বার, অর্থাৎ যত অর্ডার হয়েছে তার তুলনায় খুবই কম। এই দুটোর ফারাক আর কোনটা কখন খুলতে হয়, সেটা আলাদা পাতায় লেখা।
যা এখানে নেই, সেটাও বলা দরকার
বেশিরভাগ পরিচয়ের পাতা শুধু কী আছে সেটা বলে। কয়েকটা অনুপস্থিতি জেনে রাখলে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হয় না।
- কোনো অ্যাপ নেই। পুরোটাই ব্রাউজারে চলে। যে অ্যাপ এই নামে পাওয়া যায় বলে দাবি করে সেটা আমাদের নয়।
- বিক্রির ওপর কোনো কমিশন নেই, আর কোডেও তেমন কিছু নেই। কিন্তু বিক্রেতা টাকা তোলার সময় দশ শতাংশ কাটা হয়, আর টাকা বার করার একমাত্র পথ ওটাই। দুটো একসঙ্গে না বললে ছবিটা ভুল হয়।
- এই সাইটে ঢোকার জন্য দুই ধাপের যাচাই নেই। তাই আপনার মেইলটাই এখানে একমাত্র চাবি, আর সেটার নিরাপত্তা আলাদা পাতায় আলোচনা করা হয়েছে।
- রিভিউয়ের গড় দিয়ে কিছু বোঝা যায় না। এখানে বিরাশি হাজারের বেশি রিভিউ আছে, তার কার্যত সবগুলোই পূর্ণ পাঁচ তারা, আর লেখা মন্তব্য আছে দুশোরও কম রিভিউতে। সবার গড় সমান হলে গড় কোনো তথ্য দেয় না।
এই শেষেরটা মনে রাখা সবচেয়ে দরকারি। বিক্রেতা বাছার সময় তারার সংখ্যা দেখে লাভ নেই। যা দেখার আছে তা হলো তালিকায় ঠিক কী কী ঘর ভরা আছে, আর কোন কথাগুলো লেখা নেই।



