টিকটক বলছে অনেকবার চেষ্টা করেছেন, অথচ আপনি একবার করেছেন
বার্তাটা চেষ্টার সংখ্যা গুনছে বলে মনে হয়, কিন্তু বহু মানুষ প্রথমবারেই এটা দেখেন। কোথায় দেখলেন সেটা আগে ঠিক করা, আর তারপর কোন ক্রমে চেষ্টা করলে অবস্থা খারাপ হয় না।
Michael Chenবার্তাটা বলছে আপনি অনেকবার চেষ্টা করেছেন। যাঁরা এটা দেখছেন তাঁদের অনেকেই একবার চেষ্টা করেছেন।
এই বিষয়ে জানার মতো সবচেয়ে কাজের কথাটা এটাই, আর বার্তাটা ঠিক এটাই আড়াল করে। প্রথমবারেই যদি এসে থাকে, তাহলে আপনার কোনো ভুল গোনা হচ্ছে না, আর সাবধানে আবার চেষ্টা করেও লাভ হবে না। আপনার অনুরোধটা দেখতে অন্য কারও পুনরাবৃত্তির মতো লেগেছে, আর তার সবচেয়ে সাধারণ কারণ আপনি যে সংযোগে আছেন সেটা, আপনি বা আপনার আইডি নয়।
বাংলায় এই সমস্যাটা যে নামে খোঁজা হয়
বাংলায় টিকটক লগইন লিখে খুঁজলে যে দশটা জিনিস আসে, তার তিনটেই ব্যর্থতার কথা। লগইন হচ্ছে না, লগইন সমস্যা, আর আইডি লগইন হচ্ছে না কেন।
অর্থাৎ বাংলায় এই বিষয়ে মানুষ সংজ্ঞা খোঁজেন না, তাঁরা আটকে গিয়ে খোঁজেন। আর ইংরেজিতে যে বার্তাটা পর্দায় ভেসে ওঠে, বাংলায় ওটার কোনো প্রচলিত অনুবাদ নেই বলে মানুষ ওটা খোঁজেনও না। তাই ইংরেজি বাক্যটা আর বাংলা অভিযোগটা যে একই জিনিস, সেটা আগে মিলিয়ে নেওয়া দরকার।
বাকিটা ওই একই সমস্যার ভেতরের ভাগগুলো নিয়ে।
আগে ঠিক করুন কোন পর্দায় দেখেছেন
একই কথাটা চারটে আলাদা মুহূর্তে আসে, আর ওগুলোর কারণ এক নয়, বেরোনোর পথও এক নয়। কিছু করার আগে ঠিক করে নিন আপনি কোনটায় আছেন।
- চালু আইডিতে ঢোকার সময়। সবচেয়ে সাধারণ, আর একমাত্র এখানেই বারবার ভুল পাসওয়ার্ড দেওয়াটা সত্যিই কারণ হতে পারে।
- নতুন আইডি খোলার সময়। এখানে আপনার সম্পর্কে কিছুই গোনা হচ্ছে না, কারণ গোনার মতো কিছু এখনও তৈরিই হয়নি। যা দেখা হচ্ছে সেটা পরিবেশ, অর্থাৎ ওই একই ঠিকানা বা যন্ত্র থেকে সম্প্রতি কতগুলো নতুন আইডি খোলা হয়েছে।
- পাসওয়ার্ড বদলানোর সময়। বারবার কোড চাওয়া, বা একটা প্রক্রিয়া শুরু করে মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া, এখানে দ্রুত পৌঁছে দেয়।
- ভিডিও তোলার সময়। এটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা সীমা, লগইনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, আর মানুষ এটাকে একই সমস্যা বলে ধরেনও না।
এই পাতাটা যে ভুলটা আটকাতে চায় সেটা হলো, নতুন আইডি খোলার সময় পাওয়া বার্তার জন্য লগইনের পরামর্শ প্রয়োগ করা। নিবন্ধনের ধাপে বদলানোর মতো কোনো পাসওয়ার্ড নেই আর মোছার মতো কোনো জমা তথ্যও নেই, তাই ওখানে লগইনের তালিকাটা ধরে এগোনো মানে একটা গোটা বিকেল ভুল সমস্যায় দেওয়া।
টিকটক নিজে এই ভুল নিয়ে যা লিখে রেখেছে, আর সেটা কিছুই নয়
এটা নিজে দেখে নেওয়া যায়, এক মিনিট লাগে, আর অনেক তর্ক থেমে যায়।
টিকটকের সহায়তা কেন্দ্রে লগইন আর সমস্যা সমাধানের ঘরে যে লেখাগুলোর তালিকা আছে সেগুলো হলো লগইনের তথ্য জমা রাখা, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, পাসওয়ার্ড নতুন করে বসানো, মেইল আর ফোন নম্বর, আইডি হ্যাক হওয়া, নিজে থেকে লগ আউট হয়ে যাওয়া, পাসকি দিয়ে ঢোকা, লাইভের সমস্যা, শব্দ সরিয়ে নেওয়া আর সমস্যা জানানো।
এই ভুলটা নিয়ে কোনো লেখা নেই। চেষ্টার সংখ্যা, সর্বোচ্চ চেষ্টা, তালাবন্ধ হয়ে যাওয়া বা কতক্ষণ বন্ধ থাকে, এর কোনোটা নিয়েই কিছু নেই।
সবচেয়ে কাছের যেটা আছে সেটা অন্য একটা পরিবারের বার্তা নিয়ে, যেটা বলে আপনি খুব দ্রুত কিছু করছেন। ফারাকটা আসল আর কাজের। দ্রুত করার বার্তাটা আপনি সত্যিই যে কাজটা করছেন তার গতি নিয়ে, যেমন পরপর লাইক বা ফলো করা। অনেকবার চেষ্টার বার্তাটা এমন অনুরোধ নিয়ে যেগুলো আপনার নাও হতে পারে। দুটো আলাদা ব্যবস্থা, আর একটার পরামর্শ অন্যটায় খাটে না।
পর্দায় লেখা সময়টাই একমাত্র সময়
এখান থেকে একটা কড়া কথা বেরোয়, আর সেটা মেনে নিলে অনেক সময় বাঁচে।
এই ভুল নিয়ে কোনো লেখায় ঘণ্টার যে সংখ্যাটা আপনি পড়বেন, সেটা যিনি লিখেছেন তিনি বেছে নিয়েছেন। মিলিয়ে দেখার মতো প্রকাশিত কিছু নেই।
আর এর প্রমাণটা অ্যাপের নিজের ভাষাতেই আছে। এই বার্তা নিয়ে যা খোঁজা হয় তার মধ্যে একটায় লেখা চব্বিশ ঘণ্টা পরে আবার চেষ্টা করুন, আর আরেকটায় লেখা এক মিনিট পরে আবার চেষ্টা করুন। দুটোই মানুষ পর্দায় দেখে তুলেছেন। অর্থাৎ অ্যাপটা নিজেই একটা সময় বলে না, অবস্থা অনুযায়ী আলাদা সময় বলে।
তাই নিয়মটা সহজ। পর্দায় সময় লেখা থাকলে ওটাই আপনার সময়। লেখা না থাকলে কেউ জানে না, আর যে লেখা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একটা সংখ্যা দিচ্ছে সেটা আত্মবিশ্বাসী অনুমান।
যে ক্রমে চেষ্টা করলে অবস্থা খারাপ হয় না
একবারে একটা জিনিস বদলান। তিনটে বদলে ঢুকে পড়লে আপনি কিছুই শিখলেন না, আর এই সমস্যাটা ফিরে আসার প্রবণতা রাখে বলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
- অপেক্ষা করুন, কিন্তু কোনো লক্ষ্য সময় ঠিক না করে। বার্তায় সময় লেখা থাকলে ততটা। না থাকলে রেখে দিয়ে পরে ফিরে আসুন, কয়েক মিনিট পরপর নয়। কিছু অবস্থায় প্রতিটা নতুন চেষ্টা ঘড়িটা আবার শুরু করে দেয়, আর নিজে থেকে কেটে যেত এমন একটা বাধাকে মানুষ এভাবেই লম্বা করেন।
- দরজা বদলান। অ্যাপে আটকালে ফোনের ব্রাউজারে বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে চেষ্টা করুন। আলাদা দরজা সব সময় একইভাবে বিচার করে না, আর এটা পরীক্ষা করতে কিছু খরচ হয় না।
- পাসওয়ার্ড নিয়মমতো বদলান, তবে কেবল লগইনের ক্ষেত্রে। নিজের যুক্ত করা মেইল দিয়ে অফিসিয়াল পথে করুন, আর অপেক্ষা করতে করতে বারবার কোড চাইবেন না, কারণ ওটাই এই বার্তার আরেকটা সংস্করণে নিয়ে যায়।
- অ্যাপের জমা তথ্য মুছুন বা আবার বসান। এটা আগের কোনো আইডির পড়ে থাকা তথ্যের জন্য, তাই আপনি যদি আইডি বদলাবদলি করে থাকেন তাহলে এর মূল্য বেশি, আর না করে থাকলে কম।
- সংযোগ বদলান, আর একবারই বদলান। ওয়াইফাইয়ের বদলে মোবাইল ডেটা, বা উল্টোটা। একবার সংযোগ বদলে ঠিক হয়ে গেলে আপনি আসল কারণটা জেনে ফেলেছেন, আর তখন প্রতিবার ঘুরপথ না খুঁজে ওটাই ঠিক করা উচিত।
- থামুন। এক দুই দিনে কয়েকবার আলাদা করে চেষ্টা করেও কিছু না হলে ধৈর্য এটা সারাচ্ছে না, আর বাড়তি চেষ্টাগুলো নিরপেক্ষ নয়।
উত্তরটা যখন সংযোগ, আর সেটা প্রায়ই
বারবার ফিরে আসা ঘটনাগুলোর বেশিরভাগ দুটো ধরনের, আর কোনোটাই আপনার আইডি নিয়ে নয়।
প্রথমটা ভাগ করা ঠিকানা। খোলা ওয়াইফাই, বহু মানুষের ব্যবহার করা মোবাইল অপারেটরের গেটওয়ে, বিনামূল্যের ভিপিএন, সস্তা ডেটা সেন্টারের প্রক্সি, এগুলোর প্রতিটায় অন্য মানুষের অনুরোধ টিকটকের কাছে আপনার জায়গা থেকেই আসা বলে মনে হয়। তাঁদের ইতিহাসটা আপনার ঘাড়ে চাপে। প্রথমবারেই বার্তাটা আসার আসল কারণ এটাই।
দ্বিতীয়টা বেশি বদলানো। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটা আলাদা দেশ থেকে খোলা একটা আইডি দেখতে ঠিক হাতছাড়া হয়ে যাওয়া আইডির মতো লাগে, আর ওটা ধরা পড়াই ব্যবস্থাটার কাজ।
এই দুটোর ভেতরে ঢোকার দরকার নেই, কারণ বাংলায় দুটোই আলাদা করে লেখা আছে। বিদেশি ঠিকানা থেকে ঢোকার নিয়ম আর বিনামূল্যের ভিপিএনের সমস্যাটা এই তালিকায়, আর ডেটা সেন্টার না আবাসিক ঠিকানা সেই সিদ্ধান্তটা এই লেখায়।
প্রক্সি কিনে নেওয়ার পরামর্শটা এখানকার তাক মেপে দেখলে
আবাসিক প্রক্সি কিনে নিন, এই পরামর্শটা দেওয়া সহজ। তাকে কী আছে সেটা মিলিয়ে দেখা দরকার, তাই মিলিয়ে দেখা হলো।
এই সাইটে প্রক্সির ঘরে এই মুহূর্তে সাতাত্তরটা চালু তালিকা আছে বারোটা দোকান থেকে। তার মধ্যে বত্রিশটার শিরোনামেই ভিপিএন লেখা, অর্থাৎ ওগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর ভিপিএন সাবস্ক্রিপশন, প্রক্সি নয়, আর এই সমস্যার জন্য ওগুলো লাগে না। বাকিগুলোর শিরোনামে আবাসিক লেখা আছে বারোটায়, মোবাইল লেখা আছে বারোটায়, আর ডেটা সেন্টার বা সার্ভার লেখা আছে ষোলোটায়।
আবাসিক প্রক্সির আলাদা ঘরটায় একত্রিশটা তালিকা আছে, কিন্তু ওগুলো এসেছে মোটে তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে। তিনজন দিয়ে বাজার হয় না।
তাই কাজের নির্দেশটা প্রক্সি কিনে নিন নয়। নির্দেশটা হলো, তালিকাটা নিজে পড়ুন, দেখুন ওখানে আবাসিক বা মোবাইল লেখা আছে না ডেটা সেন্টার বা সার্ভার লেখা আছে, আর মাথায় রাখুন আপনি অল্প কয়েকটা বিকল্পের মধ্যে বাছছেন, একটা গভীর বাজারে নয়। প্রক্সি আর ভিপিএনের তালিকাগুলো দেখে এই ছাঁকনিটা নিজেই লাগিয়ে নিতে পারেন।
কোড আসছে না, এটা সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা
আপনার নিবন্ধন বা পাসওয়ার্ড বদল যদি ঠিক ওই ধাপে গিয়ে থামে যেখানে কোড বসাতে হয়, আর কোনো কোড না আসে, তাহলে এটা সেই ভুল নয় আর ওপরের কিছুই এতে কাজ করবে না।
ওটা নম্বরের সমস্যা। কিছু নম্বর, বিশেষ করে ভার্চুয়াল আর ইন্টারনেটে চলা নম্বর, আলাদাভাবে বিচার করা হয়, আর কোন দেশে কোনটা নেওয়া হবে সেটা কোথাও লেখা থাকে না।
এখানে যাচাইয়ের নম্বরের ঘরে টিকটকের জন্য একশো এগারোটা দেশের ব্যবস্থা চালু আছে। মিলিয়ে দেখার জন্য, গোটা সাইটে আজ সত্যিই যে দেশগুলোর নম্বর কেনা যায় তার সংখ্যা একশো একুশ। অর্থাৎ টিকটক এই তাকের ভালো কভারেজওয়ালা সেবাগুলোর একটা, দশটা দেশের নয়টার কাছাকাছি।
কতটা কাজ করে সেটা আলাদা প্রশ্ন আর ওটাও মেপে দেখা আছে। এই সাইটে টিকটকের নামে আজ পর্যন্ত চল্লিশটা নম্বর ভাড়া নেওয়া হয়েছে আর তার বারোটায় কোড এসেছে। চল্লিশ ছোট সংখ্যা, তাই এটাকে হার হিসেবে না পড়ে গুনতি হিসেবে পড়ুন। ভাড়ার নম্বরের ঘরটা এই নির্দিষ্ট ধাপটার জন্য, আর এটা একটা নিশ্চয়তা নয়।
নিবন্ধনের ধাপটা এড়াতে আইডি কেনা
এই ভুলটা যদি আপনার কেবল নতুন আইডি খোলার সময় আসে, তাহলে আগে থেকে খোলা একটা আইডি সত্যিই সমস্যাটা সরিয়ে দেয়, কারণ ওই ধাপে আপনি আর দাঁড়াচ্ছেন না। এটা এড়িয়ে যাওয়া নয়, এটা একটা সত্যিকারের উত্তর।
কিন্তু এটা আর কিছুই সরায় না। এর পরে আপনি কীভাবে ঢোকেন সেটাই ঠিক করে দেবে পরের সপ্তাহে আবার এই বার্তাটা দেখবেন কি না, আর ঘুরতে থাকা ভাগ করা ঠিকানা থেকে চালানো কেনা আইডি ঠিক ওই ধরনটাই তৈরি করবে যেটা এই বার্তাটা আনে।
তুলনা করার সময় দুটো জিনিস দেখুন, আর দুটোই ঠিক করে দেয় পরে আটকে গেলে ফিরে আসতে পারবেন কি না।
প্রথমত, মেইলে ঢোকার ব্যবস্থা সঙ্গে আসছে কি না। এখানকার ছশো সত্তরের বেশি টিকটক তালিকার মধ্যে দশটার আটটার লেখায় মেইলের কথা আছে, তাই এটা চাওয়াটা অস্বাভাবিক কোনো দাবি নয়।
দ্বিতীয়ত, সমস্যা জানানোর মেয়াদ কতটা। এই তাকের মাঝামাঝি মান বারো ঘণ্টা, কিন্তু তিরানব্বইটা তালিকায় সেটা এক ঘণ্টারও কম আর একশো পঞ্চান্নটায় চার ঘণ্টার কম। অর্থাৎ হাতে পেয়েই একবার ঢুকে দেখা, আজ রাতে বসব বলে নয়। ঊনসত্তরজন বিক্রেতার টিকটক আইডির তালিকা আছে, আর ওরা দামের চেয়ে এই দুটো ঘরে বেশি আলাদা।
একবার আটকে যাওয়া আপনার আইডির বিরুদ্ধে কোনো রায় নয়। সাধারণত এর মানে আপনি কোথা থেকে যুক্ত হয়েছেন তার কোনো একটা দিক অন্য কিছুর মতো দেখিয়েছে, আর ওপরের তালিকাটা অনুমানের চেয়ে দ্রুত সেটা খুঁজে বের করে।
