টিকটকের মেইল আর পাসওয়ার্ড নিজের করে নেওয়া, আর যে ক্রমে করলে আটকায় না
বাংলায় সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় পাসওয়ার্ডটা দেখা বা বের করার উপায়, আর ওটা কোথাও নেই। হাতবদলের পরে আসল কাজটা দেখা নয়, বদলানো, আর ক্রমটাই সব ঠিক করে দেয়।
Michael Chenএকটা আইডি হাতে এসেছে। চলছে, ফলোয়ার আছে, সব ঠিক। আর কাগজে কলমে মেইল ঠিকানাটা আর পাসওয়ার্ডটা এখনও অন্য কারও। দুটোই আপনার না হওয়া পর্যন্ত আপনি জিনিসটা ধার করে চালাচ্ছেন।
এই লেখাটা ওই দুটো বদলানোর ক্রম নিয়ে। কিন্তু তার আগে একটা কথা, কারণ বাংলায় এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি যেটা খোঁজা হয় সেটা বদলানোর উপায় নয়।
পাসওয়ার্ড দেখা বা বের করা যায় না, আর এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়
বাংলায় টিকটক পাসওয়ার্ড লিখে খুঁজলে যে দশটা জিনিস আসে, তার তিনটে বদলানোর কথা নয়, দেখার কথা। কিভাবে দেখে, কিভাবে বের করব, পাসওয়ার্ড চেক।
ওরকম কোনো জায়গা নেই। টিকটক আপনার পাসওয়ার্ডটা এমনভাবে জমা রাখে না যাতে ওটা কাউকে দেখানো যায়, আর অ্যাপের ভেতরে বা সেটিংসে ওটা দেখার কোনো ঘর নেই। যা আছে সেটা বদলানোর ঘর আর ভুলে গেলে নতুন করে বসানোর ঘর।
এই ভুল ধারণাটা নিরীহ নয়, আর এখানেই টাকা আর আইডি হারায়। যেসব অ্যাপ বা সাইট পাসওয়ার্ড দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে, সেগুলো একটাই কাজ করতে পারে, আর সেটা হলো আপনাকে দিয়ে পাসওয়ার্ডটা লিখিয়ে নেওয়া। ওগুলো আপনার পাসওয়ার্ড উদ্ধার করে না, ওগুলো আপনার পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে।
তাই আপনি যদি নিজের আইডির পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়ে থাকেন, একমাত্র পথ ভুলে যাওয়ার ব্যবস্থাটা, নিজের যুক্ত করা মেইল বা নম্বর দিয়ে। আর আপনি যদি কেনা আইডির পাসওয়ার্ড জানতে চান, তাহলে ওটা বিক্রেতার কাছ থেকে চাওয়ার জিনিস, খুঁজে বের করার জিনিস নয়।
কোন পর্দায় করছেন, সেটা উত্তরটা বদলে দেয়
ইংরেজিতে এই কাজটা নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার অর্ধেকেই ডেস্কটপ, পিসি, ওয়েব বা ব্রাউজার শব্দটা আছে। অথচ বেশিরভাগ লেখা কেবল ফোনের অ্যাপ ধরে লেখা।
অ্যাপ আর ওয়েব সংস্করণ একই সেটিংস একই জায়গায় দেখায় না, আর একটায় যা আটকায় অন্যটায় সেটা এগোতে পারে। মানুষ এক পর্দায় বারবার চেষ্টা করে ধরে নেন জিনিসটা ভেঙে গেছে, অথচ তাঁরা কেবল ওই পর্দার বিকল্পগুলো শেষ করে ফেলেছেন।
বাস্তব নিয়মটা তাই সহজ। কম্পিউটারের সাধারণ ব্রাউজার থেকে ওয়েব সংস্করণে আগে চেষ্টা করুন, আর অ্যাপটা রাখুন দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে, উল্টোটা নয়। এক পর্দায় আটকালে সেটা তথ্য, রায় নয়, আর ওই একই পর্দায় আবার চেষ্টা করাটা সবচেয়ে কম কাজের জিনিস।
ক্রমটা, আর মাঝের ধাপটাই ভার বহন করে
আগের মালিকের মেইল ঠিকানা আইডিতে থেকে গেলে আপনি যে পাসওয়ার্ডই বসান, তিনি আইডিটা ফিরিয়ে নিতে পারেন। এই একটা কারণেই ক্রমটার অস্তিত্ব।
- ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড বদলান। এটা এই মুহূর্তে পুরোনো ক্রেডেনশিয়াল হাতে থাকা যে কাউকে থামায়।
- আগের মেইল ঠিকানাটা আইডি থেকে সরিয়ে নিজেরটা বসান। এটাই উদ্ধারের রাস্তা, আর উদ্ধারের রাস্তা পাসওয়ার্ডের চেয়ে বড়।
- আইডির সঙ্গে বাঁধা ফোন নম্বর থাকলে সেটাও বদলান। এটা দ্বিতীয় উদ্ধারের রাস্তা, আর এটাই সবচেয়ে বেশি ভুলে যাওয়া হয়।
- নিজের যোগাযোগগুলো বসানোর পরে দুই ধাপের যাচাই চালু করুন। আগে নয়, কারণ যোগাযোগ ঠিক না করে দুই ধাপ বসালে আপনি নিজেই আটকে যেতে পারেন।
- চালু জায়গাগুলো, যুক্ত করা অ্যাপ আর পাসকি দেখুন। এই ধাপটা নিচে আলাদা করে আছে, কারণ এখানে এমন কিছু আছে যা প্রায় কেউ দেখেন না।
দুই নম্বর ধাপটাই আটকায় আর বাকি সব ওটার ওপর দাঁড়িয়ে। চার আর পাঁচ নম্বর মানুষ পরে করব বলে রেখে দেন, আর পাঁচ নম্বরটা রেখে দিলে হাতবদলটা সম্পূর্ণ হয় না।
মেইল বদলাতে গিয়ে যখন কিছু একটা ভুল হয়েছে লেখা আসে
এটা আলাদা করে খোঁজা হয়, তাই এটা কতটা সাধারণ সেটা বোঝা যায়। এখানে কী বলা যায় আর কী বলা যায় না সেটা পরিষ্কার করে বলা দরকার।
টিকটকের সহায়তা কেন্দ্রে লগইনের ঘরে যে লেখাগুলোর নাম আছে সেগুলোর মধ্যে পাসওয়ার্ড নতুন করে বসানো, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, মেইল আর ফোন নম্বর, আর লগইনের তথ্য জমা রাখা আছে। কিন্তু ওই লেখাগুলোর ভেতরের অংশটা ব্রাউজারে গিয়ে তৈরি হয়, পাতার সঙ্গে আসে না। অর্থাৎ টিকটকের নিজের ধাপগুলো কেউ তুলে দেখাতে পারে না। এই বিষয়ে আপনি যা কিছু পড়বেন, এই লেখাটা সহ, সেটা কারও অভিজ্ঞতার বর্ণনা।
বিক্রেতারা যে ক্রমটা কাজে লাগে বলে জানান, আর এটা প্রচলিত অভ্যাস হিসেবেই দেওয়া হচ্ছে, নথিভুক্ত পদ্ধতি হিসেবে নয়: আগে আইডিতে একটা ফোন নম্বর যুক্ত করুন, তারপর পুরোনো মেইল ঠিকানাটা বদলে না দিয়ে আলাদা করে সরিয়ে দিন, ওই পুরোনো ডাকবাক্সে যাওয়া কোড দিয়ে, আর তারপর খালি ঘরটায় নিজের ঠিকানা বসান। কাজ হয়ে যাওয়ার পরে চাইলে নম্বরটা আবার খুলে নিতে পারেন। যুক্তিটা হলো, বদলে দেওয়া মানে ব্যবস্থাটাকে একসঙ্গে দুটো কাজ করতে বলা, আর সরানো ও যোগ করা দুটো আলাদা কাজ। যুক্তিটা যুক্তিসঙ্গত আর যাচাই করা নয়।
দুটো অবস্থায় এর কিছুই খাটে না। পুরোনো ডাকবাক্সে আপনার ঢোকার ব্যবস্থা না থাকলে নিজে নিজে সরানোর কাজটা এগোয় না, আর তখন পথটা মালিকানার প্রমাণসহ টিকটকের সহায়তা। আর আইডিটা যদি আপনাকে মেইলে ঢোকার ব্যবস্থা ছাড়াই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সবার আগে ওটাই বিক্রেতার সঙ্গে মেটানোর জিনিস, কারণ উদ্ধারের প্রতিটা পথ ওটার ভেতর দিয়ে যায়।
আপনাকে আসলে কী দেওয়া হয়েছে, সেটাই ঠিক করে দেয় পাসওয়ার্ড বদলে কী হয়
এই অংশটা ফলাফল বদলে দেয়, আর এটা টিকটকের সেটিংসের ওপর নির্ভর করে না, হাতবদলের চেহারার ওপর নির্ভর করে।
এই সাইটের টিকটক তাকে দুই সেপ্টেম্বর দুই হাজার ছাব্বিশ তারিখে ছশো সত্তরের বেশি চালু তালিকা ছিল ঊনসত্তরজন বিক্রেতার কাছ থেকে। তার একশোটার লেখায় কুকির কথা আছে, আর চুয়াল্লিশটার লেখায় একটা টোকেন দিয়ে যুক্ত হওয়ার কথা। এই সাইট নিজে এই দুটো ঘরের যে বর্ণনা লিখে রেখেছে সেটা রাখঢাকহীন: কুকির ঘরে লেখা আছে ব্রাউজার বা সেশনের কুকি দেওয়া হচ্ছে আর স্থায়ী সেশনের কোনো নিশ্চয়তা নেই, আর টোকেনের ঘরে লেখা আছে refresh_token সহ দেওয়া হচ্ছে।
দুটোই আইডি হস্তান্তরের স্বাভাবিক পদ্ধতি, আর দুটোই পাসওয়ার্ডের চেয়ে আলাদা আচরণ করে।
- কুকি পেলে আপনার হাতে একটা পরিচয় নেই, একটা চালু বসা আছে। পাসওয়ার্ড বদলালে ওই বসাটা সাধারণত শেষ হয়ে যায়, আপনারটা সহ। তাই কিছু বদলানোর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সত্যিকারের ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে ঢুকতে পারছেন।
- টোকেন পেলে ওটা নিজের মেয়াদওয়ালা একটা অনুমতি, আর ধরে নেওয়াই ভালো যে বিক্রেতার কাছে একটা অনুলিপি আছে। এটা পাসওয়ার্ডের ঘরে গিয়ে সারে না, এটা যুক্ত করা অ্যাপের তালিকা দেখে সারাতে হয়।
- লগইন আর পাসওয়ার্ড পেলে কাজটা সবচেয়ে সোজা, আর এই তাকের বেশিরভাগ তালিকাই এই ধরনের।
তিনটের কোনোটাই কেবল মেইল আর পাসওয়ার্ডের ঘর ধরে এগোলে চোখে পড়ে না, আর এই কারণেই যে হাতবদলগুলো সম্পূর্ণ মনে হয়েছিল সেগুলোর কিছু সম্পূর্ণ নয়।
পাসকি: যে ক্রেডেনশিয়ালটা পাসওয়ার্ড বদলালেও থেকে যায়
এটা আলাদা একটা ঘরে রাখা দরকার, কারণ এটা এই কর্পাসের কোনো হাতবদলের তালিকায় নেই আর এখানে একটা মাপা তথ্য আছে।
পাসকি একটা লগইনের পদ্ধতি যেটা কারও একটা যন্ত্রের সঙ্গে বাঁধা, আর ওটা পাসওয়ার্ড চায় না। টিকটকের নিজের লগইন সহায়তার তালিকায় পাসকি দিয়ে ঢোকা নামে একটা লেখা আছে, তাই এটা কল্পনা নয়, এটা ওখানে চালু একটা পদ্ধতি। আর পাসওয়ার্ড বদলালে ওটা সরে যায় না।
এখন মাপা তথ্যটা। এই তাকের ছশো সত্তরের বেশি তালিকার একটাতেও পাসকি শব্দটা নেই, শিরোনামেও নয় বিবরণেও নয়। শূন্য।
এর মানে এই নয় যে কোনো আইডিতে পাসকি বসানো নেই। এর মানে হলো, বসানো থাকলে আপনি সেটা তালিকা পড়ে জানতে পারবেন না। তাই ঢোকার পরে নিজে গিয়ে দেখাটাই একমাত্র উপায়, আর অচেনা কিছু থাকলে সেটা সরিয়ে দেওয়া। চালু জায়গার তালিকা আর যুক্ত করা অ্যাপের তালিকাও একই সময়ে দেখে নিন।
কোডের ধাপে গিয়ে আটকে গেলে
যোগাযোগের তথ্য বদলালে কোড তৈরি হয়, আর কোড সব সময় আসে না। কিছু নম্বর আলাদাভাবে বিচার করা হয়, আর কোন দেশে কোনটা নেওয়া হবে সেটা কোথাও লেখা থাকে না।
ভাড়ার নম্বর ঠিক এই ধাপটার জন্য, আর ওটা কতটা কাজ করে সেটা বলে দেওয়াই ঠিক, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বদলে। এই সাইটে আজ পর্যন্ত যত নম্বর ভাড়া নেওয়া হয়েছে তার প্রায় চার ভাগের একভাগে কোড এসেছে। টিকটকের দুটো সেবার ঘর মিলিয়ে চল্লিশটা ভাড়ার মধ্যে বারোটায় কোড এসেছে, যেটা সাইটের গড়ের চেয়ে কিছুটা ভালো। চল্লিশ ছোট সংখ্যা, আর সেটাকে ছোট সংখ্যা হিসেবেই পড়া উচিত। তুলনার জন্য, এই তাকের সবচেয়ে ভালো সেবাটায় অর্ধেকের বেশি ভাড়ায় কোড আসে, আর গুগলের ঘরে সেটা ছয় ভাগের একভাগের কাছাকাছি।
সৎ কথাটা হলো, একটা ভাড়ার নম্বর নিজের নম্বরে কোড না এলে চেষ্টা করার মতো জিনিস, আর নিশ্চিত পথ নয়। একবারের বেশি চেষ্টার হিসাব রাখুন, আর প্রথম কোডটা আসবে ধরে নিয়ে হাতবদলের সময়সূচি বানাবেন না।
ক্রেডেনশিয়াল নিজের হয়ে যাওয়ার পরে যা বন্ধ করবেন
- কেবল সামনের যন্ত্রটা নয়, বাকি সব চালু জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন, কারণ পাসওয়ার্ড বদলালে অন্য জায়গার চালু বসা সব সময় শেষ হয় না।
- যুক্ত করা যেসব অ্যাপ আপনি চেনেন না সেগুলো সরিয়ে দিন। টোকেনের অনুমতিটাও ঠিক ওখানেই বসে থাকে।
- আইডির অঞ্চল আর জন্মতারিখটা দেখে নিন। অপ্রত্যাশিত কিছু থাকলে আইডির ওপর কিছু বানানোর আগে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করার সময় এখন, পরে নয়।
- দুই ধাপের যাচাইয়ের গোপন সংকেত যদি সঙ্গে এসে থাকে, তাহলে ওটা নিয়ে ঠিক কী করতে হয় সেটা আলাদা লেখায় আছে, আর ওটা এড়িয়ে যাওয়ার ধাপ নয়।
- নতুন ক্রেডেনশিয়ালগুলো এমন জায়গায় রাখুন যেটা টিকে থাকবে, লগ ইন হয়ে থাকার ওপর ভরসা করবেন না। ওই বসাটা শেষ হওয়ার সবচেয়ে নিশ্চিত কারণ পরের নিরাপত্তার ঘটনা।
কিনতে যাচ্ছেন, তাহলে টাকা দেওয়ার আগেই যে দুটো ঠিক করে নেবেন
ক্রেডেনশিয়ালের হাতবদলটাকে আপনি যা কিনছেন তার অংশ হিসেবেই ধরুন, পরে সামলানোর ঝামেলা হিসেবে নয়।
এক, বিক্রেতা কি নিজে মেইল আর পাসওয়ার্ড বদলে তারপর দেবেন, না আপনাকে বদলে নিতে হবে। দুই, ঢোকার ব্যবস্থাটা ঠিক কোন চেহারায় আসবে। লগইন আর পাসওয়ার্ড, কুকি, আর টোকেন, এই তিনটে তিনটে আলাদা পণ্য যাদের প্রথম ঘণ্টা তিন রকম, আর তালিকাটায় সাধারণত লেখা থাকে কোনটা।
আর সময়ের হিসাবটা এখানে কড়া। এই তাকের মাঝামাঝি মান বারো ঘণ্টা, কিন্তু তিরানব্বইটা তালিকায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ এক ঘণ্টারও কম। অর্থাৎ ওপরের ক্রমটার অন্তত প্রথম দুটো ধাপ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারতে হয়, নইলে সমস্যা ধরা পড়ার আগেই বলার সুযোগটা ফুরিয়ে যায়। টিকটক আইডির তালিকাগুলো এই ঘরগুলোতেই একে অন্যের থেকে বেশি আলাদা, দামে নয়।
