রিটুইট মানে কি, আর টাকা দিয়ে এখানে ঠিক কী নেওয়া হয়
বাংলায় এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যত প্রশ্ন আসে তার প্রায় সবই মানে জানতে চাওয়া অথবা অ্যাপ খোঁজা। দুটোরই জবাব আগে দিয়ে নিই, তারপর তালিকার কথা।
তিনটে শব্দের মানে
রিটুইট হলো অন্য কারও একটা পোস্ট নিজের অনুসারীদের সামনে আবার তুলে ধরা। ভিউ হলো পোস্টটা কতবার কারও পর্দায় এসেছে তার গোনা। ফলোয়ার হলো যারা আপনার নতুন লেখা নিয়মিত দেখতে পাবেন। এই তিনটে এখানে তিনটে আলাদা পণ্য এবং একটার সঙ্গে আরেকটা আসে না।
কাজটা যেভাবে হয়
আপনি নিজের পোস্ট বা প্রোফাইলের ঠিকানা জমা দেন, বিক্রেতা ঠিক সেই ঠিকানায় সংখ্যাটা তোলে। ইনস্টল করার কিছু নেই, লগইনের তথ্য চাওয়া হয় না, আর বিনা পয়সায় কোনো ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়নি। প্রতিটি সারি টাকার বিনিময়ে দেওয়া একটা কাজের আদেশ।
নাম বদলেছে, তালিকা বদলায়নি সাইটটার চলতি নাম এক্স, তবু বিক্রেতারা বেশির ভাগ সারিতে পুরোনো নামটাই লেখে, আবার কেউ কেউ দুটো নামই একসঙ্গে বসায়। জিনিসটা এক, তাই দুই নামে লেখা সারি একই তালিকার ভেতরে পাশাপাশি পড়ে।
দামের সিঁড়ি
ভিউ থেকে কমেন্ট পর্যন্ত একশো গুণের চড়াই
হাজারপ্রতি দর ধরে সাজালে পাঁচটা প্রধান মেট্রিক একটা পরিষ্কার সিঁড়ি বানায়, আর সিঁড়ির দুই প্রান্তের ফারাক দুই তিন গুণ নয়। ভিউকে এক ধরে বাকিগুলো এই রকম দাঁড়ায়।
মেট্রিক
তালিকায় অংশ
হাজারপ্রতি দর, ভিউয়ের তুলনায়
টুইটার ভিউ
প্রায় এক চতুর্থাংশ, সবচেয়ে বড় দল
ভিত্তি, সবচেয়ে সস্তা
টুইটার লাইক
প্রায় আট ভাগের এক
প্রায় বারো গুণ
রিটুইট
প্রায় এগারো ভাগের এক
প্রায় ঊনত্রিশ গুণ
ফলোয়ার
পাঁচ ভাগের একের কিছু বেশি
প্রায় আটাশ গুণ
কমেন্ট
প্রায় দশ ভাগের এক
প্রায় একশো চার গুণ
ফারাকটা মানের নয়, খাটুনির। একটা ভিউ একটা অনুরোধ, একটা কমেন্ট একটা আলাদা আইডির লেখা বাক্য, আর মাঝখানে বাকিরা। তাই দাম মেলানোর কাজটা শুরু হয় মেট্রিক বাছাই দিয়ে, বিক্রেতা বাছাই দিয়ে নয়।
রিটুইট আর ফলোয়ার নিয়ে একটা সতর্কতা পুরো তালিকা এক করে গুনলে ফলোয়ার রিটুইটের চেয়ে সামান্য সস্তা দেখায়। কিন্তু বিক্রেতা ধরে ভাগ করলে যে পাঁচজন দুটোই রাখে, তাদের প্রত্যেকের ভেতরে রিটুইট ফলোয়ারের চেয়ে সস্তা পড়ে। ওই সামান্য ফারাকটা তাই আসল ক্রম নয়, দুটোকে কার্যত সমান ধরাই নিরাপদ।
উল্টো নিয়ম
যেটার দাম সবচেয়ে কম, তার সর্বনিম্ন পরিমাণ সবচেয়ে বড়
সস্তা মেট্রিক দেখে খুশি হয়ে এগোলে ধাক্কাটা লাগে অর্ডারের ঘরে। এখানে দাম আর সর্বনিম্ন পরিমাণ প্রায় উল্টো দিকে চলে, আর সেটা একটা বিক্রেতার খেয়াল নয়।
💬একশোর নিচে প্রায় সবগুলো
কমেন্টে ছোট অর্ডারই নিয়ম
সবচেয়ে দামি মেট্রিকের প্রায় প্রতিটি সারি একশোর কম থেকে শুরু হয় আর তিন চতুর্থাংশের কাছাকাছি সারি দশের নিচ থেকেও নেওয়া যায়। অর্থাৎ যেটার হাজারপ্রতি দর সবচেয়ে চড়া, সেটাই সবচেয়ে অল্প করে পরখ করা যায়।
👁️একশোর নিচে আট ভাগের এক
ভিউয়ে বড় অর্ডার ছাড়া উপায় কম
সবচেয়ে সস্তা মেট্রিকে আট ভাগের মাত্র এক ভাগ সারি একশোর নিচ থেকে শুরু হয়, আর আঠারো ভাগের এক ভাগ দশের নিচ থেকে। বাকি সারিগুলোতে সর্বনিম্ন পরিমাণ শয়ে শয়ে বা হাজারে বাঁধা, তাই কম দর দেখে যা বাঁচে তা অর্ডারের আকারে ফিরে যায়।
📐পুরো তালিকায় প্রায় অর্ধেক
মাঝখানের তিনটে মাঝামাঝি
গোটা তালিকা মিলিয়ে প্রায় অর্ধেক সারি একশোর নিচ থেকে শুরু হয় আর পাঁচ ভাগের এক ভাগ দশের নিচ থেকে। লাইক, রিটুইট আর ফলোয়ার তিনটেই এই মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে, লাইক সবচেয়ে নমনীয় আর ফলোয়ার সবচেয়ে কম।
এটা পরীক্ষায় টিকেছে বিক্রেতা ধরে ভাগ করলে যে সাতজন ভিউ রাখে তাদের প্রত্যেকের ভেতরে ভিউয়ের ছোট অর্ডারের সুযোগ সবার নিচে থাকে, আর যে চারজন কমেন্ট রাখে তাদের প্রত্যেকের ভেতরে কমেন্ট সবার ওপরে। শতাংশটা বিক্রেতাভেদে বদলায়, কিন্তু দিকটা বদলায় না।
বিক্রেতা বদলালে
একই মেট্রিকের দর নয়টি দোকানে নয় রকম
এই তালিকায় বিক্রেতা একজন নয়, নয়জন, আর সবচেয়ে বড় জনের হাতে আছে সারির প্রায় এক তৃতীয়াংশ। তাই দাম দিয়ে সাজানো একটা তালিকা আসলে নয়টা আলাদা জনগোষ্ঠীকে এক করে দেখায়।
যেটা নির্ভরযোগ্য
মেট্রিকের ক্রম। সস্তা থেকে দামির সাজানোটা প্রতিটি বিক্রেতার ভেতরে আলাদা করেও একই থাকে, তাই কোনটা কার চেয়ে দামি সেটা নির্ভয়ে ধরে নেওয়া যায়। কোন মেট্রিকে যাবেন সেই সিদ্ধান্তটা এই ক্রমের ওপর দাঁড়াতে পারে।
যেটা নির্ভরযোগ্য নয়
দরের মাত্রা। একই মেট্রিকে সবচেয়ে সস্তা আর সবচেয়ে দামি দোকানের হাজারপ্রতি মধ্যদর কয়েকশো গুণ পর্যন্ত আলাদা হয়। এত বড় ফারাক মানের ফারাক নয়, বরং দুই দোকান দুই রকম জিনিসকে একই নামে ডাকছে। তাই দুই দোকানের দুটো দর পাশাপাশি রাখলে তুলনাটা অর্থহীন।
কাজের নিয়ম আগে একটা দোকান বেছে নিন, তারপর তার ভেতরেই মেট্রিক আর দর মেলান। দোকান টপকে সবচেয়ে কম দরটা খুঁজতে গেলে যা পাওয়া যায় তা প্রায়ই সবচেয়ে আলগা বর্ণনার সারি, সবচেয়ে ভালো দাম নয়।
সংখ্যার বদলে সময়
স্পেসের শ্রোতা মিনিটের ব্লকে বিক্রি হয়, গোনা মাথায় নয়
এই প্ল্যাটফর্মের তালিকায় এমন কিছু সারি আছে যেগুলোতে আপনি সংখ্যা কিনছেন না। এগুলো অন্য মেট্রিকের মতো করে পড়লে দাম ভুল বোঝা হয়।
1
স্পেস আর লাইভের শ্রোতা
ষাটের বেশি সারি অডিও স্পেসের শ্রোতা বিক্রি করে আর আরও কিছু সারি লাইভ সম্প্রচারের দর্শক। এখানে বিক্রির একক সময়: পনেরো, ত্রিশ, ষাট, নব্বই বা একশো কুড়ি মিনিটের ব্লক, আর গোটা তালিকায় লেখা মিনিটের মানগুলো কয়েক মিনিট থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত ছড়ানো। ব্লক শেষ হলে শ্রোতারা থাকে না, সেটাই পণ্যটার স্বভাব।
2
বাঁধা প্যাকেজ
নব্বইয়ের কাছাকাছি সারিতে সর্বনিম্ন আর সর্বোচ্চ পরিমাণ একই, অর্থাৎ পরিমাণের ঘরটা এক জায়গায় আটকানো। ওই সারিগুলোতে যে দামটা দেখাচ্ছে সেটাই পুরো প্যাকেজের দাম, হাজারপ্রতি দর নয়। প্যাকেজের ভেতরে কতটা আছে সেটা নামের ভেতরে খুঁজতে হয়।
3
নিজের লেখা কমেন্ট
পঁচাত্তরটি সারি আলাদা ধরনের, যেখানে বাক্যগুলো আপনি নিজে লিখে দেন। ডেলিভারি তখন একটা সংখ্যা নয়, কতগুলো লেখা বাক্য বসল তার হিসাব। কী লেখা যাবে তার সীমা বিক্রেতার বর্ণনায় থাকে, আর জমা দেওয়ার পরে লেখা বদলানো যায় না।
4
পোলের ভোট
গোটা পনেরো সারি চালু পোলে ভোট যোগ করে। এখানে লক্ষ্য পোলসহ পোস্টটা এবং পোল বন্ধ হয়ে গেলে সারিটা আর কাজ করে না। তাই এই সারিগুলোতে অর্ডারের সময় নিজেই একটা শর্ত।
অর্ডার দেওয়ার আগে চারটি কথা
যেগুলো না জেনে এগোলে পরে আর শোধরানো যায় না, সেই ক্রমে সাজানো।
1
বাংলাদেশের লক্ষ্য এখানে নেই ধরে নিন
গোটা তালিকায় বাংলাদেশের নাম লেখা সারি আছে একটিমাত্র, আর সেটি ফলোয়ারের নয়, ওয়েবসাইটে দর্শক পাঠানোর সারি। দেশের নাম লেখা যেসব সারি আছে সেগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য আর ভারতকে ঘিরে। স্থানীয় দর্শক দরকার হলে এই তালিকা সেটা দিতে পারে না।
2
ফেরত ভরা এখানে ব্যতিক্রম
ফেরত ভরার চিহ্ন বসানো আছে ষোলো ভাগের এক ভাগের কম সারিতে, আর বিক্রেতাভেদে সংখ্যাটা এত বদলায় যে একটা সাধারণ হার বলা যায় না। যেটা সব দোকানেই এক তা হলো ভিউ: সেখানে চিহ্নটা কার্যত কোথাও নেই। ভিউ কমে গেলে কেউ ভরে দেবে ধরে নেবেন না।
3
ধীরে পাঠানো মেট্রিকের ব্যাপার নয়
ডেলিভারি সময় ধরে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে কি না, সেটা এখানে ঠিক করে দোকান। এক দোকানের প্রায় কোনো সারিতেই সুবিধাটা নেই আর আরেক দোকানের অর্ধেকের বেশি সারিতে আছে। তাই দরকার হলে আগে দোকান বাছুন, মেট্রিক ধরে ছাঁকলে শুধু একটা গড় পাওয়া যায়।
4
বাড়া সংখ্যা পরে নামে
যে কোনো এমন সেবায় তোলা সংখ্যা পরের দিনগুলোতে কিছুটা নেমে যায়, আর এই প্ল্যাটফর্মে সেটা ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা তালিকার বড় অংশে নেই। নামের ভেতরে যে মেয়াদ লেখা থাকে সেটা বিক্রেতার নিজের বলা কথা, অর্ডার সিস্টেমের চিহ্ন নয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
আসে না। এখানে প্রতিটি মেট্রিক আলাদা সারিতে আলাদা দামে বিক্রি হয়, তাই পোস্টে রিটুইট আর ভিউ দুটোই চাইলে দুটো আলাদা অর্ডার দিতে হয়। রিটুইট মানে আপনার পোস্টটা অন্য কারও অনুসারীদের সামনে আবার তোলা হচ্ছে, আর ভিউ মানে পোস্টটা কতবার পর্দায় এল তার গোনা। দুটোর দামের ফারাকও বড়, রিটুইট ভিউয়ের প্রায় ঊনত্রিশ গুণ।
হাজারপ্রতি দর দেখে হ্যাঁ মনে হয়, অর্ডারের ঘর দেখলে না। ভিউ সবচেয়ে সস্তা হলেও সেখানে আট ভাগের মাত্র এক ভাগ সারি একশোর নিচ থেকে শুরু হয়, তাই ছোট করে পরখ করার জায়গা কম। উল্টো দিকে কমেন্টের প্রায় প্রতিটি সারি একশোর নিচ থেকে নেওয়া যায়। প্রথমবার হলে অল্প টাকায় একটা ছোট অর্ডার দেওয়ার সুযোগ কোথায় আছে, সেটাই আগে দেখুন।
কার্যত না। পুরো তালিকায় বাংলাদেশের নাম লেখা সারি একটিমাত্র এবং সেটি ফলোয়ার বা ভিউয়ের নয়, ওয়েবসাইটে দর্শক পাঠানোর সারি। দেশ লেখা বাকি সারিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য আর ভারতের। স্থানীয় দর্শকই আসল দরকার হলে এই তালিকা থেকে সেটা মিলবে না, আর দেশ লেখা নেই এমন সারিতে দর্শক কোথা থেকে আসবে তা আগে থেকে জানার উপায় নেই।
সময়ের ব্লকে। ষাটের বেশি সারি অডিও স্পেসের শ্রোতা দেয় এবং একক হলো পনেরো, ত্রিশ, ষাট, নব্বই বা একশো কুড়ি মিনিটের মতো একটা ব্লক, তালিকার লেখা মানগুলো কয়েক মিনিট থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত যায়। ব্লকের সময় ফুরালে শ্রোতা সংখ্যা নেমে যায়, কারণ পণ্যটাই তাই। লাইভ সম্প্রচারের দর্শকও একই ভাবে বিক্রি হয়।
যায়, কিন্তু ওই তুলনা থেকে বিশেষ কিছু বোঝা যায় না। এখানে নয়জন বিক্রেতা আছেন এবং একই মেট্রিকে সবচেয়ে সস্তা আর সবচেয়ে দামি দোকানের হাজারপ্রতি মধ্যদর কয়েকশো গুণ পর্যন্ত আলাদা। এত বড় ফারাক মানে দুই দোকান একই নামে দুই রকম জিনিস বিক্রি করছে। ভরসা করার মতো জিনিসটা হলো মেট্রিকের ক্রম, যেটা প্রতিটি দোকানের ভেতরে আলাদা করেও এক থাকে।
ধরে নেবেন না। ফেরত ভরার চিহ্ন বসানো আছে ষোলো ভাগের এক ভাগেরও কম সারিতে, আর ভিউয়ের ক্ষেত্রে সেটা কোনো দোকানেই কার্যত নেই। নামের ভেতরে দিনের হিসাব লেখা থাকতে পারে, কিন্তু ওটা বিক্রেতার নিজের বলা কথা আর অর্ডার সিস্টেমের চিহ্ন এক জিনিস নয়। দুটোই দেখুন, আর অমিল থাকলে বিষয়টা অমীমাংসিত ধরুন।
যায়। পঁচাত্তরটি সারিতে বাক্যগুলো আপনি নিজে লিখে জমা দেন এবং ডেলিভারি মানে কতগুলো লেখা বাক্য বসল তার হিসাব, কোনো সাধারণ সংখ্যা নয়। এই কারণেই কমেন্ট এখানে সবচেয়ে দামি মেট্রিক, ভিউয়ের প্রায় একশো চার গুণ। জমা দেওয়ার পরে লেখা বদলানো যায় না, তাই বানান আর লিংক আগে মিলিয়ে নিন।
না, একই তালিকা। সাইটটার চলতি নাম এক্স হলেও বিক্রেতাদের বড় অংশ এখনও পুরোনো নামে সারি লেখে আর কেউ কেউ দুটো নামই বসায়। তাই এক নামে খুঁজে কম ফল পেলে আরেক নামেও দেখে নেওয়া দরকার। মেট্রিক ধরে ছাঁকলে নামের এই তফাতটা এমনিতেই ঢাকা পড়ে যায়।
টুইটারের চলতি তালিকা দেখুন
আগে মেট্রিক ঠিক করুন, তারপর একই বিক্রেতার ভেতরে দাম মেলান।
টুইটার ফলোয়ার কেনা এখানে একটা তালিকা থেকে সারি বেছে নেওয়া, কোনো অ্যাপ নামানো নয়। তেরোশোর বেশি সারির এই তালিকায় হাজারপ্রতি দর আর সর্বনিম্ন পরিমাণ প্রায় উল্টো দিকে চলে, তাই কোন মেট্রিক নেবেন সেই সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে বড়।