ইউটিউব মনিটাইজেশনের শর্ত: দুটো ধাপ, আর যেটা কেউ বলে না
হাজার সাবস্ক্রাইবার হলেই টাকা আসে না, আর ওয়াচ টাইম আর শর্টসের ভিউ যোগ হয় না। কোন সংখ্যাটা কোন ধাপের, আর সংখ্যা মিলেও কারা আটকে যান।
Sarah Johnsonএই বিষয়ে বাংলায় যত প্রশ্ন খোঁজা হয়, তার মধ্যে চারটে আলাদা বছর একসঙ্গে বেঁচে আছে। কেউ খুঁজছেন ২০২৩ এর শর্ত, কেউ ২০২৬ এর। এতেই বোঝা যায় সমস্যাটা কোথায়, সংখ্যাগুলো বদলেছে আর পুরোনো লেখা মুছে যায়নি।
তাই এখানে বছর ধরে নয়, গঠন ধরে বলা হচ্ছে। কারণ সংখ্যা বদলালেও গঠনটা এক থাকে, আর গঠনটা না জানলে ঠিক সংখ্যাটাও কাজে লাগে না।
একটা নয়, দুটো ধাপ
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা এখানেই। ইউটিউবের অংশীদার কর্মসূচিতে ঢোকার দরজা একটা নয়, দুটো।
প্রথম ধাপে দর্শকের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়ার ব্যবস্থাগুলো খোলে। সদস্যপদ, লাইভে সুপার চ্যাট, ভিডিওতে সুপার থ্যাংকস, দোকানের তাক। এখানে বিজ্ঞাপন নেই। শর্ত তুলনায় হালকা, পাঁচশো সাবস্ক্রাইবার, গত নব্বই দিনে অন্তত তিনটে প্রকাশ্য ভিডিও, আর গত বারো মাসে তিন হাজার ঘণ্টা দেখা। শর্টসের দিকে হাঁটলে ওই ঘণ্টার বদলে গত নব্বই দিনে তিরিশ লাখ ভিউ।
দ্বিতীয় ধাপে বিজ্ঞাপন খোলে, আর মানুষ যখন বলে চ্যানেল মনিটাইজ হয়েছে তখন সাধারণত এটাই বোঝায়। এক হাজার সাবস্ক্রাইবার, আর গত বারো মাসে চার হাজার ঘণ্টা দেখা। শর্টসের পথে গেলে গত নব্বই দিনে এক কোটি ভিউ।
এই দুটো গুলিয়ে ফেলার খরচটা আসল। যিনি ভাবছেন এক হাজারে পৌঁছালেই সব খুলে যাবে, তিনি আসলে পাঁচশোতেই অর্ধেকটা খুলে ফেলতে পারতেন, কয়েক মাস আগে।
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুনদের সীমা দ্বিগুণ
গুগল এটা আগেই প্রকাশ করেছে, তবে যে পাতায় বেশিরভাগ মানুষ শর্ত খুঁজতে গিয়ে পৌঁছায় সেখানে এটা নেই। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন করে প্রোগ্রামে ঢোকা চ্যানেলের লাগবে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে আট হাজার গোনার যোগ্য ওয়াচ আওয়ার, অথবা নব্বই দিনে দুই কোটি গোনার যোগ্য শর্টস ভিউ, আর এক হাজার সাবস্ক্রাইবারের শর্ত আগের মতোই থাকছে। দুটো সংখ্যাই আজকের দ্বিগুণ।
যারা আগে থেকেই প্রোগ্রামে আছেন তাঁদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে না, কথাটা গুগলের নিজের। তবে তাঁদের একটা কাজ আছে এবং তার তারিখ আছে: হালনাগাদ শর্তগুলো ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে ইউটিউব স্টুডিওতে গ্রহণ করতে হবে, না করলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট আয় বন্ধ হয়ে যায়।
একই ঘোষণায় আরও দুটো বদল আছে। শর্টসের ভাগ এখন চলমান শর্ত হয়ে যাচ্ছে: শর্টস ক্রিয়েটর পুল থেকে টাকা পেতে গত নব্বই দিনে এক কোটি গোনার যোগ্য ভিউ ধরে রাখতে হবে, আর এর নিচে নামলে চ্যানেল প্রোগ্রাম থেকে বাদ যায় না এবং লম্বা ভিডিওর আয়ও চলতে থাকে। দ্বিতীয়টা সক্রিয় চ্যানেলের সংজ্ঞা, যা এখন তিনটির যেকোনো একটি: তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে এক হাজার ওয়াচ আওয়ার, বা নব্বই দিনে দশ লাখ শর্টস ভিউ, বা প্রতি নব্বই দিনে দুটো লম্বা ভিডিও বা পাঁচটা শর্টস।
তাই এখন যিনি শুরু করছেন তাঁর আগে ঠিক করা দরকার কোন সংখ্যায় তাঁকে মাপা হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির আগে লাইন পার করা গেলে আজকের সংখ্যা, না গেলে সরাসরি নতুন সংখ্যা ধরে পরিকল্পনা করুন। নিচের ধাপ, অর্থাৎ মেম্বারশিপ আর টিপের ধাপ, সঙ্গে বাড়েনি।
যা গোনা হয় আর যা হয় না
এই জায়গাটায় বেশিরভাগ সময় নষ্ট হয়।
- ঘণ্টা আর শর্টসের ভিউ যোগ হয় না। দুটো আলাদা হিসাব, দুটোর আলাদা সময়সীমা। দুই হাজার ঘণ্টা আর আশি লাখ শর্টস ভিউ মিলিয়ে কোনো ধাপ পার হয় না, কারণ কোনো একটাও নিজে থেকে পূর্ণ হয়নি।
- সময়ের জানালা দুটোর দুরকম। ঘণ্টার হিসাব গত বারো মাসের, শর্টসের হিসাব গত নব্বই দিনের। শর্টসের জানালাটা ছোট, তাই ওটা যত দ্রুত ভরে তত দ্রুত খালিও হয়।
- শুধু প্রকাশ্য ভিডিও গোনা হয়। যেগুলো ব্যক্তিগত করে রাখা বা লিংক ছাড়া দেখা যায় না, সেগুলোর ঘণ্টা হিসাবে ঢোকে না। যাঁরা আগে সব আপলোড করে পরে একটা একটা করে খোলেন, তাঁরা এখানেই ধাক্কা খান।
- জানালাটা এগোতে থাকে। চারশো দিন আগের ভিডিও যত ঘণ্টাই আনুক, আজকের হিসাবে সেটা নেই। নতুন কিছু না এলে সংখ্যাটা নিজে থেকেই নামে।
হাজার সাবস্ক্রাইবারে কত টাকা
বাংলায় এই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়, আর উত্তরটা অনেকের পছন্দ হবে না।
সাবস্ক্রাইবার নিজে কোনো টাকা আনে না। একটাও না। ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার গুনে টাকা দেয় না, দেয় দেখার সময় আর বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ গুনে। এক হাজার সাবস্ক্রাইবার একটা দরজা, আয় নয়।
আয়টা আসে ছয়টা আলাদা জায়গা থেকে, আর সেগুলোর ভাগও আলাদা। লম্বা ভিডিওর বিজ্ঞাপন, শর্টসের বিজ্ঞাপন, সদস্যপদের চাঁদা, লাইভে দর্শকের পাঠানো টাকা, প্রিমিয়াম গ্রাহকরা দেখলে তার ভাগ, আর দোকানের তাক। এর মধ্যে শর্টসের বিজ্ঞাপনটা আলাদা, কারণ ওখানে ভিডিওপ্রতি হিসাব হয় না, একটা সাধারণ তহবিল ভিউয়ের অনুপাতে ভাগ হয়।
আর একটা কথা, প্রতি ভিউয়ে কত টাকা এই হিসাবটা প্রায় সবসময়ই ভুলভাবে বলা হয়। প্রচলিত সংখ্যাগুলো হাজার বার বিজ্ঞাপন দেখানোর দাম, এক ভিউয়ের দাম নয়, আর দুটোর মধ্যে হাজার গুণের ফারাক। তার ওপর প্রতিটা ভিউয়ে বিজ্ঞাপন পড়েও না। তাই ভিউয়ের সংখ্যা দিয়ে আয় হিসাব করার চেষ্টা করলে ফল সবসময় বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় আসবে।
সংখ্যা মিলেও যাঁরা আটকান
সংখ্যা আপনাকে দরজা পর্যন্ত নিয়ে যায়, ভেতরে ঢোকায় না। মানুষের পর্যালোচনায় আলাদা কয়েকটা জিনিস দেখা হয়।
- চ্যানেলের দেশ ইউটিউবের অনুমোদিত তালিকায় থাকতে হবে।
- একটা যুক্ত অ্যাডসেন্স একাউন্ট লাগবে, কারণ টাকা ইউটিউব দেয় না, গুগল দেয়।
- চালু কোনো সতর্কতা বা কপিরাইটের অমীমাংসিত দাবি থাকা চলবে না।
- বয়সের শর্ত মিলতে হবে, নইলে অভিভাবকের একাউন্টের সঙ্গে জুড়তে হবে।
এই কারণেই ঠিক একই সাবস্ক্রাইবার সংখ্যার দুটো চ্যানেলের ফল আলাদা হয়। একটার ইতিহাস পরিষ্কার, তাই কয়েক দিনে হয়ে যায়। অন্যটায় একটা চালু সতর্কতা আছে, তাই সেটা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ঝুলে থাকে।
তৈরি চ্যানেল কেনা নিয়ে সোজা কথা
এই পথটা আছে, তবে বাংলায় এর চাহিদা কার্যত শূন্য, আর এখানকার তালিকাও ছোট। ইউটিউব আইডির ঘরে সব মিলিয়ে একশোর কিছু বেশি জিনিস আছে, তিরিশটা দোকান থেকে। ইনস্টাগ্রাম বা জিমেইলের ঘরের তুলনায় এটা খুবই সরু তাক, আর সেটা জেনে যাওয়াই ভালো।
একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। সংখ্যা পেরোনো চ্যানেল কিনলেও আবেদনটা নিজে থেকে পাশ হয় না। পর্যালোচনাটা নতুন করেই হয়, আর হাতবদলের পরে চ্যানেলের অবস্থান বদলাতে পারে। অর্থাৎ আপনি শুরুর জায়গাটা কিনছেন, ফলাফলটা নয়।
আর তারকার গড় দেখে বিক্রেতা বাছার যে পরামর্শটা সব জায়গায় দেওয়া হয়, সেটা এখানে খাটে না। এই সাইটে বিরাশি হাজারের বেশি রিভিউ আছে, তার প্রায় পুরোটাই পূর্ণ পাঁচ তারা, আর লেখা মন্তব্য আছে দুশোরও কম রিভিউতে। এই গড় দিয়ে কাউকে আলাদা করা যায় না। যেটা কাজে দেয় সেটা হলো তালিকায় ঠিক কী লেখা আছে সেটা পড়া, আর হাতে পেয়ে প্রথম ঘণ্টাতেই যাচাই করে নেওয়া।
