.edu ঠিকানা কী, আর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি কেউ কেন দিতে পারেন না
বাংলাদেশ থেকে edu mail খুঁজলে যা আসে তার বেশিরভাগই generator আর temp। কেন ওই পথটা কাজ করে না, আর যেটা বিক্রি হয় সেটা আসলে কী।
Avery Bennettবাংলাদেশ থেকে edu mail লিখে খুঁজলে গুগল যে দশটা জিনিস দেখায়, তার মধ্যে দুটোতে কেনার কথা, দুটোতে সাময়িক ঠিকানার কথা, আর একটায় generator কথাটা।
আর edu mail generator লিখলে যেগুলো আসে তার একটায় সরাসরি cursor নামের প্রোগ্রামটার নাম লেখা। অর্থাৎ প্রশ্নটা আসলে ঠিকানাটা কী তা নয়। প্রশ্নটা হলো, ছাড়টা পাওয়া যাবে কি না, আর সবচেয়ে সস্তায় কীভাবে।
এই লেখাটা ওই প্রশ্নেরই জবাব, আর জবাবটা সুখকর নয়।
ঠিকানাটা আসলে কী, আর কে দিতে পারে
.edu দিয়ে শেষ হওয়া ঠিকানা মানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজের নামের ঘরে খোলা একটা ঠিকানা, যেটা ওই প্রতিষ্ঠান তাঁদের ছাত্র বা কর্মীদের দেন।
এক লাইনেই পুরো জটিলতার কারণটা এখানে আছে। এটা কেউ বানিয়ে বিক্রি করার জিনিস নয়, এটা ভর্তি হওয়ার একটা উপজাত। বাকি সব কিছু এই একটা কথা থেকেই আসে।
ওই নামের ঘরটা যে কেউ নিতে পারেন না, ওটা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ। আর এই বন্দোবস্তটা মূলত আমেরিকার। এই কারণেই কোনো সেবা যখন ছাত্র কি না দেখতে চায়, তারা প্রথমে ওই চারটে অক্ষর খোঁজে।
সব ছাত্রের ঠিকানা .edu দিয়ে শেষ হয় না
এই জায়গাটাতেই সবচেয়ে বেশি অন্যায্য অস্বীকৃতি ঘটে, আর বাংলাদেশের পাঠকের জন্য এটা সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
ব্রিটেনের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানা সাধারণত ac.uk দিয়ে শেষ হয়, অস্ট্রেলিয়ায় edu.au, ফিলিপাইনে edu.ph। আর পৃথিবীর বহু প্রতিষ্ঠান তাঁদের নিজের সাধারণ নামের ঘরেই ঠিকানা দেন, যেখানে শিক্ষার কোনো চিহ্নই নেই।
ফলে দুই ধরনের যাচাই দুই রকম আচরণ করে। যে সেবা শুধু ওই চারটে অক্ষর খোঁজে, সে একজন সত্যিকারের ছাত্রকে ফিরিয়ে দেবে। আর যে সেবা প্রতিষ্ঠানের একটা তালিকা রাখে, সে তাঁকে নেবে। বাইরে থেকে কোনটা কোন ধরনের সেটা বোঝার উপায় নেই, আর এটাই এই বিষয়ের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক।
generator আর temp, সোজা জবাবটা
খোঁজার তালিকায় এই দুটো শব্দ যতবার আসে, তত বার জবাব দেওয়া দরকার।
যেসব জিনিস নিজে থেকে একটা .edu চেহারার ঠিকানা বানিয়ে দেওয়ার দাবি করে, সেগুলো সাধারণত দুটোর একটা করে। হয় ওটা কোনো প্রতিষ্ঠানের ঘরে সত্যিই ঢুকতে পারে না, শুধু দেখতে ওরকম একটা লেখা বানিয়ে দেয়, নয়তো ওটা এমন কোনো ঘরে বসানো যেটা যাচাইয়ের তালিকায় নেই।
প্রথমটা কোনো বার্তাই নিতে পারে না, তাই প্রথম ধাপেই আটকে যায়। দ্বিতীয়টা বার্তা নিতে পারে, কিন্তু ওই ঘরটা যদি কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের না হয় তাহলে ওটা কোনো তালিকাতেই পড়বে না।
সাময়িক ঠিকানার ক্ষেত্রেও একই কথা। ওটা একটা বার্তা নিতে পারে, কিন্তু ছাড়ের কর্মসূচিগুলো এখন আর শুধু একটা বার্তায় থামে না, আর পরের অংশটা সেটা নিয়েই।
ছাড়ের প্রতিশ্রুতি কেন কেউ দিতে পারেন না
সিদ্ধান্তটা নেয় যে কোম্পানি ছাড়টা দিচ্ছে, আর তারা নিজেদের নিয়ম নিজেরাই বদলায়, কাউকে জানিয়ে নয়। ঠিকানা যিনি বিক্রি করছেন তিনি ওই সিদ্ধান্তের ধারেকাছেও নেই। তাই কোনো তালিকা যদি অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটা এমন একটা জিনিসের প্রতিশ্রুতি যেটা তার হাতেই নেই।
যাচাইয়ের ধরনগুলোও এখন আর এক রকম নেই, আর তিনটে ধরন সম্পূর্ণ আলাদা আচরণ করে।
- শুধু ঠিকানা দেখা। একটা সংকেত আসে, আপনি বসান, কাজ শেষ। সবচেয়ে সহজ, আর বড় কর্মসূচিগুলোয় এটা এখন সবচেয়ে কম দেখা যায়।
- ঠিকানার সঙ্গে ভর্তির প্রমাণ। একটা তারিখওয়ালা কাগজ, বা পরিচয়পত্র, বা আলাদা কোনো যাচাই সেবার মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা। এখানে ঠিকানাটা আপনাকে শুধু ফর্ম পর্যন্ত নিয়ে যায়।
- নির্দিষ্ট সময় পর পর আবার যাচাই। একবার অনুমোদন পেলেন, তারপর কিছুদিন পর আবার দেখা হয়। প্রথমবার যেটা পেরিয়েছিল, এক বছর পরে সেটাই আটকে যেতে পারে।
নাম ধরে বললে সবচেয়ে চাহিদার কর্মসূচিটা দ্বিতীয় ধরনের। ওটা শুধু ঠিকানার শেষটা দেখে থেমে যায় না, ওটা এখন ভর্তি আছেন তার প্রমাণ খোঁজে, আর ওটার মেয়াদ ফুরোয় ও নবায়ন লাগে। ঠিকানাটা আপনাকে দরজা পর্যন্ত নেয়, ভেতরে ঢোকায় অন্য কিছু।
এখানকার তাকটা মেপে দেখলে
এই ঘরটা ছোট, তাই শতকরা হিসাব না দিয়ে সরাসরি সংখ্যাই দিচ্ছি। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এখানে ছাপ্পান্নটা চালু তালিকা ছিল, ষোলোজন বিক্রেতার কাছ থেকে।
ছাপ্পান্নটার মধ্যে তিপ্পান্নটায় শিক্ষার নামের ঘরের চিহ্ন বসানো আছে, আর বাহান্নটার নামে edu কথাটা সরাসরি লেখা। অর্থাৎ এই তাকটা সত্যিই যা বলে তাই।
কিন্তু নামগুলো পড়লে আসল ব্যাপারটা বেরিয়ে আসে। ছাপ্পান্নটার মধ্যে ঊনত্রিশটায় সরাসরি লেখা আছে যে ঠিকানাটা gmail.com নয়। আর কুড়িটায় ঘণ্টার হিসাবে সময় লেখা, সতেরোটায় দিনের হিসাবে।
অর্থাৎ এখানে যা বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঢোকার সুযোগ, রেখে দেওয়ার মতো ডাকবাক্স নয়। চব্বিশ ঘণ্টা, আটচল্লিশ ঘণ্টা, বাহাত্তর ঘণ্টা, সাত দিন, ত্রিশ দিন। সংখ্যাটা নামের মধ্যেই লেখা থাকে, আর ওটাই সবচেয়ে জরুরি ঘর।
এর একটা সরাসরি ফল আছে। আপনি যে কর্মসূচিতে আবেদন করবেন সেটা যদি কাগজ চায়, বা ছয় মাস পরে আবার দেখতে চায়, তাহলে চব্বিশ ঘণ্টার একটা ঠিকানা সেটা করে দিতে পারবে না, নামের ঘরটা যাই লেখা থাক। তাই কেনার আগে কর্মসূচির নিয়মটা পড়ুন, তালিকাটা নয়।
মেয়াদের ঘর নিয়ে একটা সংশোধন
এই তাকটা নিয়ে ইংরেজিতে একটা প্রশংসা লেখা আছে যেটা মিলছে না, তাই সেটা সংশোধন করে দেওয়া দরকার।
এখানে ছাপ্পান্নটা তালিকার মধ্যে ঊনচল্লিশটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ বারো ঘণ্টা, দশটায় এক ঘণ্টা, আর ছয়টায় এক ঘণ্টারও কম। অর্থাৎ কাজে লাগে না এমন মেয়াদ নয়টার একটাতে, আর এটা খারাপ নয়।
কিন্তু এটা সাইটের সেরা নয়, আর সেটা বলা হয়েছিল। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ঘরে ওই অনুপাত একশোর দেড়টা, ইউটিউবের ঘরে পাঁচটার কম, আর একটা মেইল ঘরে ছয়টা। তাই এই তাকটা মাঝারি ভালো, শ্রেষ্ঠ নয়।
যেটুকু সময় পাবেন তার ব্যবহারটা অবশ্য সহজ। ঢুকুন, ঠিকানার শেষটা তালিকায় লেখাটার সঙ্গে মিলিয়ে নিন, আর নিজেকে একটা বার্তা পাঠিয়ে দেখুন ডাকবাক্সটা সত্যিই বার্তা নিচ্ছে কি না। এই তিনটে করার পরে আবেদন শুরু করুন, আগে নয়।
আপনার নিজেরই যদি একটা থাকে
যাঁরা এই লেখাটা পড়ছেন তাঁদের একটা অংশ কিছু কিনতে আসেননি, তাঁদের নিজেরই একটা প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা আছে। তাঁদের জন্য পরামর্শটা উল্টো দিকের।
এখনই একটা উদ্ধারের ঠিকানা বসিয়ে রাখুন, যেটা পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরেও আপনার হাতে থাকবে। প্রতিষ্ঠান সাধারণত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরে ওই ঠিকানা বন্ধ করে দেয়।
আর যেদিন ওটা বন্ধ হয়, সেদিন ওই ঠিকানা দিয়ে খোলা সব কিছুর দরজাও একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। এই একটা কাজ এখন পাঁচ মিনিটের, আর পরে ওটা আর করাই যাবে না।
