দুই ধাপের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে, আর মেইলও যদি না থাকে
বাংলাদেশ থেকে টেলিগ্রামের দুই ধাপের যাচাই নিয়ে যা খোঁজা হয়, তার দশটার মধ্যে ছয়টাই পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া নিয়ে। দুবার আসে without email।
Sarah Johnsonটেলিগ্রামের দুই ধাপের যাচাই নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যা খোঁজা হয়, তার তালিকাটা দেখলে একটা জিনিস সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে। দশটা প্রস্তাবের মধ্যে ছয়টাই পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া নিয়ে, আর দুবার আলাদা করে লেখা আছে মেইল ছাড়া।
অর্থাৎ মানুষ জিনিসটা কীভাবে চালু করতে হয় সেটা জানতে চাইছেন না। তাঁরা ইতিমধ্যে চালু করে ফেলেছেন, তারপর আটকে গেছেন।
তাই এই লেখাটা চালু করার নিয়ম দিয়ে শুরু হচ্ছে না। শুরু হচ্ছে বন্ধ দরজাটা দিয়ে।
জিনিসটা আসলে কী, এক লাইনে
ফোন নম্বর আর কোড দিয়ে প্রথম দরজাটা খোলে। দুই ধাপের যাচাই একটা দ্বিতীয় দরজা বসায়, যেটার চাবি শুধু একটা পাসওয়ার্ড, যেটা আপনি ঠিক করেছেন।
এর কারণটা বোঝা দরকার, কারণ এটাই বলে দেয় কেন ফেরানোটা এত কঠিন। প্রথম দরজাটা নম্বরের উপর দাঁড়িয়ে, আর নম্বর হাতবদল হতে পারে, কোড আটকানো যেতে পারে। দ্বিতীয় দরজাটা ইচ্ছে করেই এমনভাবে বানানো যে ওটা নম্বরের উপর দাঁড়িয়ে নেই।
তার মানে হলো, টেলিগ্রাম চাইলেও আপনাকে সহজে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে পারে না। ওরা যদি নম্বর দেখে দরজাটা খুলে দিত, তাহলে দ্বিতীয় দরজাটার কোনো মানেই থাকত না।
এটা মনে রাখলে পরের অংশটা রাগের বদলে যুক্তির মতো লাগে।
ভুলে গেলে কী কী পথ খোলা থাকে
তিনটে অবস্থা হতে পারে, আর তিনটের ফল আলাদা।
এক, আপনি কোনো একটা যন্ত্রে এখনো ঢোকা আছেন। এটাই সবচেয়ে ভালো অবস্থা, আর মানুষ এটা কাজে লাগাতে ভুলে যান। ওই যন্ত্রটা থেকে সেটিংসে গিয়ে আপনি পাসওয়ার্ডটা বদলে নিতে পারেন, পুরোনোটা না জেনেও নয়, বরং ওখানে বসে পুরোনোটা লাগে না এমন নয়, কিন্তু ওখান থেকে বন্ধ করে দেওয়ার পথ থাকে। তাই যদি এখনো কোথাও ঢোকা থাকেন, আগে সেখানে যান, আর কিছু করার আগে সেটা।
দুই, আপনি কোথাও ঢোকা নেই, কিন্তু জোড়া মেইল ঠিকানাটা আপনার হাতে আছে। তাহলে সমস্যা নেই। পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি বেছে নিলে ওই মেইলে একটা লিংক যাবে, আর ওটা দিয়ে জিনিসটা বন্ধ করা যাবে।
তিন, কোথাও ঢোকা নেই আর মেইলও নেই। এটাই সেই অবস্থা যেটা বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়। এখানে একটাই পথ, আর সেটা সময়ের।
সাত দিনের অপেক্ষাটা
মেইল না থাকলে আপনি আইডিটা মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারেন, আর তার জন্য অপেক্ষার সময়টা সাত দিন।
এখানে দুটো কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার, কারণ মানুষ ভুল আশা নিয়ে অপেক্ষা করেন।
প্রথমত, সাত দিন পরে আপনি পাসওয়ার্ডটা ফিরে পাবেন না। সাত দিন পরে আইডিটা মুছে যাবে। এটা উদ্ধার নয়, এটা মুছে ফেলা। আপনার কথোপকথন, আপনার পরিচিতি, আপনার একার মালিকানার চ্যানেল, সব চলে যাবে। এরপর ওই একই নম্বর দিয়ে নতুন করে খোলা যাবে, কিন্তু সেটা একেবারে নতুন একটা আইডি।
দ্বিতীয়ত, এই সাত দিনের ভেতরে যদি কেউ ওই আইডিতে ঢুকে পড়ে, অর্থাৎ যদি আসল মালিক পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকেন, তাহলে অনুরোধটা বাতিল হয়ে যায়। এটা ইচ্ছে করেই এমন, কারণ এটাই আসল মালিকের শেষ সুরক্ষা।
তাই সিদ্ধান্তটা কঠিন কিন্তু সোজা। যদি আইডিটার ভেতরে কিছু না থাকে যেটা আপনি হারাতে পারবেন না, তাহলে সাত দিন অপেক্ষা করে নতুন করে শুরু করাই দ্রুততম পথ। আর যদি ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু থাকে, তাহলে যেকোনো যন্ত্রে এখনো ঢোকা আছে কি না সেটা খুঁজে বের করাই একমাত্র আশা।
আর যে কথাটা এখানে বলে রাখা দরকার, কেউ টাকার বিনিময়ে এই পাসওয়ার্ড ফিরিয়ে দিতে পারেন না। যিনি পারবেন বলছেন, তিনি হয় আপনার নম্বর আর কোড চাইবেন, আর তাতে আইডিটা তাঁর হয়ে যাবে।
পাসওয়ার্ড বদলালে পুরোনো যন্ত্রগুলো বেরোয় না
এটা সবচেয়ে কম জানা আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর তথ্য এই পুরো বিষয়টায়।
আপনি ভাবছেন পাসওয়ার্ড বদলে দিলে সব জায়গা থেকে সবাই বেরিয়ে যাবে। টেলিগ্রামে সেটা হয় না। যেসব যন্ত্র আগে থেকেই ঢুকে আছে, সেগুলো ঢুকেই থাকে।
কারণটা যুক্তিসঙ্গত। পাসওয়ার্ডটা লাগে নতুন করে ঢোকার সময়, আর যে যন্ত্রটা আগেই ঢুকে গেছে তার তো নতুন করে ঢোকার দরকার নেই।
এর ফলটা গুরুতর। কেউ যদি আপনার আইডিতে ঢুকে থাকে, আর আপনি শুধু পাসওয়ার্ড বদলে নিশ্চিন্ত হয়ে যান, তাহলে সে তখনো ভেতরে আছে আর সব পড়ছে।
তাই কাজটা সবসময় জোড়ায় করতে হয়। পাসওয়ার্ড বদলান, আর তার সঙ্গে যন্ত্রের তালিকা খুলে নিজেরটা ছাড়া বাকি সব বন্ধ করে দিন। একটা ছাড়া অন্যটা অসম্পূর্ণ।
কেনা আইডিতে এই জিনিসটা কোথায় দাঁড়ায়
এই সাইটে টেলিগ্রাম আইডির ঘরে আটশোটা তালিকা আছে, আর তার মধ্যে তিনশো তেষট্টিটায় দুই ধাপের যাচাই সংক্রান্ত কিছু লেখা আছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক।
এটা শুনতে সুরক্ষার মতো, কিন্তু কেনার সময় এটা আসলে একটা প্রশ্ন। ওই পাসওয়ার্ডটা কার হাতে।
যদি বিক্রেতা ওটা আপনাকে না দেন, তাহলে আপনি ফাইল দিয়ে ঢুকতে পারবেন হয়তো, কিন্তু আইডিটা আপনার হবে না। কারণ আপনি ওটা বদলাতে পারবেন না, আর অন্য কোনো যন্ত্রে ঢুকতেও পারবেন না।
আর উল্টো দিকটা আরও খারাপ। বিক্রেতা যদি পাসওয়ার্ডটা দেন কিন্তু নিজে ভুলে না যান, তাহলে তিনিও যেকোনো সময় নতুন যন্ত্রে ঢুকতে পারেন। তাই হাতে পাওয়ার পরে ওটা বদলে নেওয়াটা ঐচ্ছিক নয়।
ক্রমটা তাই এরকম। ঢুকুন, যন্ত্রের তালিকা পরিষ্কার করুন, পাসওয়ার্ড বদলান, আর নিজের একটা মেইল ঠিকানা জুড়ে দিন। ওই শেষ ধাপটা সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে, অথচ ওটাই আপনাকে সাত দিনের অপেক্ষা থেকে বাঁচায়।
আর এটা দেরি করার জিনিস নয়। এখানকার তালিকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে আসে, কিন্তু এই ঘরের আটশোটার মধ্যে একশো পঞ্চাশটায় সমস্যা জানানোর মেয়াদ মাত্র কয়েক মিনিট, আর চারশো সাতষট্টিটায় আধা দিন।
প্রোগ্রাম দিয়ে চালানোর দিকটা
শেষে একটা ছোট অংশ, কারণ এই ঘরে জিনিসটা যত বড় করে বলা হয় ততটা নয়। ওই আটশোটা তালিকার মধ্যে মাত্র তেরোটায় প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঢোকার কথা লেখা আছে।
যেটা জানা দরকার সেটা একটাই। প্রোগ্রামের জন্য তৈরি করা একটা সেশন আর আপনার দুই ধাপের পাসওয়ার্ড, দুটো আলাদা ব্যবস্থা। পাসওয়ার্ডটা মুছে দিলে বা বদলে দিলে ওই সেশনটা নিজে থেকে অচল হয় না।
তার মানে, কেউ যদি একবার প্রোগ্রামের জন্য একটা সেশন বানিয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে পাসওয়ার্ড নিয়ে আপনি যা কিছুই করুন, ওই সেশনটা চলতেই থাকবে। ওটা বন্ধ করার একমাত্র জায়গা যন্ত্রের তালিকা।
এটাই এই লেখার একই কথা তৃতীয়বার, আর সেটা ইচ্ছে করেই। পাসওয়ার্ড একটা দরজা, আর যন্ত্রের তালিকা হলো ঘরের ভেতরে এখন কে কে আছে তার হিসাব। দুটো আলাদা জিনিস, আর নিরাপত্তা আসে দুটোতে একসঙ্গে হাত দিলে।