বিক্রেতা হিসেবে জায়গা বদলানোর আগে: যে সংখ্যাগুলো চাইতে হবে
বিক্রেতারা একটা খারাপ অর্ডারে সরেন না, সরেন যখন আন্দাজ করা যায় না। টাকা বেরোতে কত সময় লাগে, ঘড়িটা কবে থামে, আর আপত্তি হলে কী হয়, এখানকার মাপা হিসাব।
Michael Chenএকটা কথা শুরুতেই বলে রাখা ভালো। এই নামটা বাংলায় কেউ খোঁজেন না, একটাও প্রশ্ন নেই। যেটুকু খোঁজা হয় সেটা ভিয়েতনামি ভাষায়, আর সেখানেও প্রশ্নটা বৈশিষ্ট্য নিয়ে নয়। ওখানে সবচেয়ে বেশি যা জিজ্ঞেস করা হয় তা হলো, জায়গাটা এখনো টিকে আছে কি না।
তাই এই লেখাটা তুলনার তালিকা নয়। এটা একটা প্রশ্নের তালিকা, যেগুলো যেকোনো নতুন জায়গায় টাকা আর মাল রাখার আগে করা উচিত, আর তার সঙ্গে এখানকার নিজের উত্তরগুলো, মেপে।
বিক্রেতারা আসলে কখন সরেন
একটা খারাপ অর্ডারে কেউ সরেন না। সরেন যখন একই জিনিস বারবার হয় আর আগে থেকে বোঝা যায় না।
ধরনগুলো চেনা। টাকা তোলার অনুরোধ জমা পড়ে থাকে, কবে হবে কেউ বলে না। ঠিকভাবে দেওয়া মাল নিয়ে আপত্তি ওঠে, আর সিদ্ধান্তটা কে টিকিট পড়ছেন তার ওপর নির্ভর করে। ব্যস্ত সপ্তাহে ব্যবস্থাটা বসে যায়। আর সবচেয়ে খারাপটা, একদিন সাইটটাই আর খোলে না, আর ভেতরে জমা টাকাটা তার সঙ্গে যায়।
এর মধ্যে গতি সবচেয়ে কম জরুরি জিনিস। যিনি জানেন টাকা তুলতে গড়ে কত সময় লাগে, তিনি সেই অনুযায়ী মাল কেনার পরিকল্পনা করতে পারেন। যিনি জানেন না, তিনি পারেন না, সে যত দ্রুতই হোক।
যে চারটে জিনিস লিখিতভাবে থাকা দরকার
সহায়তার ঘরে কেউ কী বলেছেন সেটা দিয়ে বিচার করবেন না। যা প্রকাশ্যে লেখা আছে সেটা দিয়ে করুন।
- টাকা কখন আপনার হয়। অর্ডার থেকে নিশ্চিতকরণ, আর ক্রেতা চুপ থাকলে কত দিন পরে নিজে থেকেই হয়ে যায়।
- জমা আর ছাড়া টাকা আলাদা করে দেখা যায় কি না, প্রতিটা অর্ডারের হিসাবে।
- টাকা তোলার সময়সীমা, যেটা ধরে কাজ করা যায়।
- আপত্তি হলে ঠিক কী ঘটে, আর সিদ্ধান্ত না হলে সেটা কোন দিকে যায়।
প্রথম দুটো না থাকলে প্রথম ব্যস্ত মাসেই ঝামেলা হবে। শেষ দুটো না থাকলে একটা খারাপ ক্রেতাই যথেষ্ট।
টাকা বেরোতে আসলে কত সময় লাগে
এই সংখ্যাটা এখানে মেপে দেখা হয়েছে, কারও অনুমান নয়। এ পর্যন্ত যত টাকা তোলার অনুরোধ শেষ হয়েছে, তার মাঝামাঝি সময়টা চার ঘণ্টার সামান্য বেশি।
ভাগগুলো এরকম। প্রতি পাঁচটার মধ্যে একটার কাছাকাছি শেষ হয়ে যায় এক ঘণ্টার ভেতরে। প্রতি পাঁচটার মধ্যে চারটে শেষ হয় বারো ঘণ্টার ভেতরে। দশটার মধ্যে নয়টা পনেরো ঘণ্টার ভেতরে।
লেজটাও বলে দেওয়া দরকার, কারণ ওটাই আসল ঝুঁকি। এক দিনের বেশি সময় লেগেছে এমন ঘটনা হাতে গোনা, কিন্তু আছে, আর সবচেয়ে দীর্ঘটা পাঁচ দিনের কাছাকাছি। আর প্রতি কুড়িটা অনুরোধের একটা করে নাকচও হয়েছে, সাধারণত ঠিকানা বা তথ্যের গোলমালে।
অর্থাৎ পরিকল্পনা করার সময় গড় ধরে নয়, বারো ঘণ্টা ধরে ভাবুন, আর মাঝেমধ্যে যে একটা দিন লাগতে পারে সেটা মেনে নিন। এটাই সৎ ছবি।
কমিশন নেই, কিন্তু দশ শতাংশ আছে
এই দুটো কথা একসঙ্গে না বললে মিথ্যে হয়ে যায়, তাই একসঙ্গেই বলা হচ্ছে।
বিক্রির ওপর কোনো কমিশন নেই। অর্ডারের টাকা থেকে প্ল্যাটফর্ম কিছু কেটে নেয় না, আর কোডে এমন কোনো ব্যবস্থাই নেই।
কিন্তু টাকা তোলার সময় দশ শতাংশ কাটা হয়, ব্যতিক্রম ছাড়াই, আর এ পর্যন্ত হওয়া প্রতিটা অনুরোধেই সেটা হয়েছে। আর টাকা বার করার একমাত্র পথ ওটাই। তাই কেউ যদি বলেন তালিকায় যা দাম লিখেছেন পুরোটাই আপনি পাচ্ছেন, সেটা ঠিক নয়।
এই কাটাটা কীসের জন্য আর কোন পথে টাকা তুললে কী হয়, সেটা আলাদা পাতায় বিস্তারিত লেখা। এখানে শুধু হিসাবটা মাথায় রাখার কথা, দাম বসানোর সময়।
টাকা ছাড়ার ঘড়িটা সবার জন্য তিন দিন নয়
ক্রেতা নিজে অর্ডার নিশ্চিত করলে টাকা তখনই এগোয়। চুপ করে থাকলে একটা সময় পরে ব্যবস্থাটা নিজে থেকে করে দেয়।
এই অপেক্ষাটা সবার জন্য এক নয়, বিক্রেতার স্তর অনুযায়ী বদলায়। নিচের দুটো স্তরে তিন দিন, মাঝের দুটোয় দুই দিন, আর সবচেয়ে ওপরের স্তরে এক দিন। তাই যে জায়গাগুলোয় লেখা থাকে সবার জন্য তিন দিন, সেগুলো আসলে শুধু শুরুর স্তরের কথা বলছে।
ব্যবহারিক দিক থেকে এর মানে হলো, যিনি দ্রুত আর ঠিকঠাক দেন তাঁর টাকা এমনিতেই আগে আসে, কারণ সন্তুষ্ট ক্রেতা নিজেই নিশ্চিত করে দেন। ঘড়িটা শুধু তখনই কাজে লাগে যখন ক্রেতা উত্তর দেন না।
আপত্তি হলে কী হয়, আর কোন দিকে যায়
এই প্রশ্নটাই বিক্রেতাকে সবচেয়ে বেশি ভয় দেখায়, তাই উত্তরটা পরিষ্কার করে বলা দরকার।
আপত্তি খোলা মানে ব্যাপারটা একটা যৌথ আলোচনায় যায়, যেখানে ক্রেতা, বিক্রেতা আর সহায়তা তিন পক্ষই থাকে। ওই আলোচনার ঘরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার তিন দিন পরে, যদি কেউ কিছু না বলেন, ব্যবস্থাটা নিজে থেকেই নিষ্পত্তি করে দেয়, আর সেটা বিক্রেতার দিকে যায়।
এটা বিক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মানে হলো নীরবতা আপনার বিরুদ্ধে যায় না। এখন পর্যন্ত আড়াইশোর বেশি আপত্তি খোলা হয়েছে, তার মধ্যে নব্বইয়ের বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে, আর নিজে থেকে নিষ্পত্তি হওয়ার ঘটনা এখনো একটাও ঘটেনি। অর্থাৎ ব্যাপারগুলো তার আগেই মিটে যাচ্ছে।
একটা ছোট জরিমানাও আছে, আপত্তি হওয়া অর্ডারের আয়ের এক শতাংশ, আর তৃতীয় স্তর থেকে সেটা মকুব। টাকার অঙ্কে ছোট, কিন্তু জেনে রাখা ভালো।
রিভিউ এখানে ভরসার চিহ্ন নয়
প্রায় প্রতিটা জায়গা বলে যে তাদের রিভিউ আপনার সুনাম গড়ে তোলে। আমাদের নিজেদের হিসাবটা বলে দেওয়া দরকার, কারণ ওটা এই দাবিটাকে টেকাতে দেয় না।
এখানে বিরাশি হাজারের বেশি রিভিউ আছে। তার মধ্যে সবগুলোই কার্যত পূর্ণ পাঁচ তারা, আর লেখা মন্তব্য আছে দুশোরও কম রিভিউতে। এই গড় দিয়ে দুজন বিক্রেতাকে আলাদা করা যায় না, কারণ সবার গড়ই এক।
তার মানে রিভিউয়ের ওপর নির্ভর করে নিজেকে আলাদা করার পরিকল্পনা এখানে কাজ করবে না। যা কাজ করে সেটা হলো তালিকার লেখাটা, মজুতের অবস্থা, আর ফিরে আসা ক্রেতা। এটা জেনে ঢোকা ভালো, পরে আবিষ্কার করার চেয়ে।
সরার আগে এক সপ্তাহের পরীক্ষা
যা লেখা আছে সব যাচাই করা যায় এক সপ্তাহে, আর ছোট অর্ডারে। বড় করে সরার আগে এই তিনটে করে দেখুন।
- একটা তালিকা দিন আর নিজেই একটা ছোট অর্ডার করান, তারপর দেখুন নিশ্চিতকরণের ধাপটা লেখা নিয়ম অনুযায়ী চলে কি না।
- একটা ছোট অঙ্কের টাকা তোলার অনুরোধ দিন আর ঘড়ি ধরুন। যেটা লেখা আছে তার সঙ্গে যেটা ঘটল, তার ফারাকটাই আসল উত্তর।
- নিজের একটা অর্ডারে একটা সমস্যা জানান আর দেখুন কী হয়। ব্যবস্থাটা ভালো না খারাপ, সেটা এখানেই বোঝা যায়।
এই তিনটে করার পর যা জানবেন সেটা কোনো তুলনার তালিকা থেকে জানা যায় না। আর যে জায়গায় এই তিনটে পরীক্ষা করতে দেওয়া হয় না, সেখানে না যাওয়াই ভালো।


